ই-গভর্ন্যান্স হলো ইলেকট্রনিক গভর্ন্যান্স-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ প্রযুক্তিচালিত গভর্ন্যান্সকে ই-গভর্ন্যান্স বলে।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের তিনটি বিভাগ-আইন, শাসন ও বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার নীতিকে বোঝায়। সরকারের এ তিনটি বিভাগ পৃথক বা স্বতন্ত্রভাবে সংগঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগ তার নিজস্ব কর্মক্ষেত্রের মধ্যে স্বাধীন থাকবে। এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে বাধা বা হস্তক্ষেপ করবে না। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুসারে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ সেসব আইন কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ সেসব আইনের ব্যাখ্যা প্রদান এবং বিভিন্ন মামলায় প্রয়োগ করবে। আর এটাই হলো ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে আমার পঠিত যে ধারণাটির অভাব রয়েছে সেটি হলো সুশাসন।
কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুশাসন পূর্বশর্ত। যেকোনো 'রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সুশাসন গুরুত্বপূর্ণ। সুশাসন ছাড়া জনগণের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা করা যায় না। সুশাসনের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে। ক্ষমতার ঔদ্ধত্য ও অপব্যবহার রোধ, কর্মের। দীর্ঘসূত্র, লালফিতার দৌরাত্ম্য ইত্যাদি দূরীকরণ কেবলমাত্র সুশাসনের মাধ্যমেই সম্ভব। প্রশাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় কর্তৃত্বপরায়ণতা, স্বজনপ্রীতিরোধ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সুশাসনের প্রয়োজন রয়েছে। সুশাসনের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে জনমতের ওপর ভিত্তি করে র্যাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব হয়। আলোচ্য উদ্দীপকে মি. ইভান -নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের সকল দিক নিয়ন্ত্রণ করলেও তিনি জনমতকে উপেক্ষা করেন। যার ফলে উক্ত রাষ্ট্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও --ক্ষমতার অপব্যবহার অতিমাতাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এসব বিষয়ের বৃদ্ধিকে আমরা উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সুশাসনের অভাব বলে অভিহিত করতে পারি।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে যে ধারণাটির অভাব রয়েছে তা হলো সুশাসন। একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নির্ভর করে সে দেশের জনগণ কতটুকু সুশাসনের জন্য প্রস্তুত তার ওপর। জনগণের সচেতনতা, বিচক্ষণতা ও 'সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। তবে সরকার যদি ইচ্ছা করে তাহলে কতিপয় বাধা অতিক্রম করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। তবে নিম্নোক্ত উপায়ে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়-
১. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের আইনসভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইনসভা বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
২. আইনসভার আইনগত ক্ষমতা ও কার্যক্ষেত্র অনুযায়ী যাতে কাজ করতে পারে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে যেকোনো দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
৩. দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ঘটানোর মাধ্যমেও দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
৪. দুর্নীতি দমনে সরকারকে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকেও যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়ে দুর্নীতি রোধ করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
৫. রাষ্ট্রের প্রশাসন ব্যবস্থা থেকে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিরোধ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
সর্বোপরি উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উপরিউক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়াও রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যদি বিবেকবোধ ও সচেতনতাবোধ জাগ্রত করা যায় তাহলে খুব সহজেই উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
Related Question
View AllকUNDP-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development
Programme |
সাধারণভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিতিশীল পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলা হয়। একটু ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার অভাবহেতু পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, কোন্দল এবং হানাহানি ও সহিংসতা দেখা দেয়, সেই পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সুশাসনের অন্তরায়।
ক' দেশটির উল্লিখিত সমস্যাগুলো সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের সামাজিক সমস্যার জন্ম হয়। এরূপ সামাজিক সমস্যা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন অধিক জনসংখ্যা একটি সামাজিক সমস্যা, কিন্তু এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, পরিবেশ বিপন্ন করে, সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে থাকে। অধিক জনসংখ্যা শিক্ষা বিস্তারে বাধার কারণ হয়। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, অপরাধপ্রবণতা বাড়ে অর্থাৎ একটি সমস্যা থেকে একাধিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। এসব মূলত সামাজিক সমস্যা হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি করে থাকে। যেকোনো দেশের জন্য এসব সমস্যা সুশাসনের অন্তরায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে এসব সমস্যা যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। আর সুশাসনের অন্তরায় দুঃশাসনকে টেনে আনে।
সুনাগরিকগণ একটি দেশের সর্বোত্তম সম্পদ। একটি দেশের অগ্রগতি, উন্নতি নির্ভর করে সুনাগরিকদের কাজের ওপর।
কোনোদেশের সরকারের একার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণ ও সরকার সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সমস্যা সমাধানেও নাগরিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোনো দেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান সরকার যত কার্যক্রমই গ্রহণ করুক না কেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। জনসংখ্য পরিকল্পনায় প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আবশ্যক। শিক্ষা বিস্তারে দেশের জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি নাগরিককে এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে দূরে, তাদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষাই উন্নতির সোপান, কথাগুলো শিক্ষা বঞ্চিতদেরকে বোঝাতে হবে।
সন্ত্রাস ও দুর্নীতি একটি দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজেরই অংশ। নাগরিকদের একটি অংশই এ কাজে যুক্ত থাকে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকেই সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি দূর করা খুবই সহজ কাজ। এ ব্যাপারে নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল, কাঠামোবদ্ধ ও আদর্শ এমন রূপকে সুশাসন বলা হয় যেখানে আইনের শাসন, নিরপেক্ষ, সংবেদনশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং কার্যকর শাসন পদ্ধতি চালু থাকবে।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। আইনের
শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন
প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও
রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন
নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!