বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
সংবিধান রাষ্ট্রের 'সর্বোচ্চ আইন।
যেসব নিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় তাকে সংবিধান বলে। সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ কীভাবে গঠিত হবে, এদের গঠন ও ক্ষমতা কী হবে, জনগণ রাষ্ট্রপ্রদত্ত কী কী অধিকার ভোগ এবং এর বিনিময়ে কী কী কর্তব্য পালন করবে, জনগণ ও সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে এসব বিষয় সংবিধানে উল্লেখ থাকে। আবার জনগণের মৌলিক অধিকার কী কী এবং কীভাবে সেগুলো সংরক্ষিত হবে তাও সংবিধানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয়। এসব বিষয়ে সংবিধানের পরিপন্থি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। তাই সংবিধানকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল বা সর্বোচ্চ আইন বলা হয়।
'ক' রাষ্ট্রে অলিখিত সংবিধান রয়েছে।
অলিখিত সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না। এ ধরনের সংবিধান প্রথা ও রীতিনীতি ভিত্তিক। চিরাচরিত নিয়ম ও আচার অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে এ ধরনের সংবিধান গড়ে ওঠে। যেমন- ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত। অবশ্য কোনো সংবিধানই পুরোপুরি লিখিত বা অলিখিত হয় না। কোনোটি বেশি আবার কোনোটি কম লিখিত। যে সংবিধানে অধিকাংশ বিষয় অলিখিত থাকে তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। প্রচলিত প্রথা, রীতি-নীতি, অভ্যাস-আচরণের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের সংবিধান সৃষ্টি হয়। কোনো পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। এ সংবিধান ব্যবস্থায় সাধারণ আইন-কানুন ও শাসনতান্ত্রিক আইনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের মূল দলিলে রাষ্ট্রের বেশিরভাগ বিষয় চুক্তি, চার্টার ও পূর্ব-প্রচলিত রীতি-নীতিগুলো স্থান পেয়েছে। এসবই অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে অলিখিত সংবিধান রয়েছে।
হ্যাঁ, 'খ' রাষ্ট্রের মূল দলিলে উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকায় এটিকে উত্তম সংবিধান বলা যায়।
বিশ্বের সব রাষ্ট্রেই সংবিধান রয়েছে। যে রাষ্ট্রের সংবিধান যত উন্নত, সে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ততটা উত্তমভাবে পরিচালিত হয়। উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- এতে রাষ্ট্রের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো যেমন- মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি প্রভৃতি সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় সুস্পষ্টভাবে লিখিত থাকে। উত্তম সংবিধান সংক্ষিপ্ত হয়। জনমতের ভিত্তিতে প্রণীত হয় বলে এতে জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। এ সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়। তবে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এর কোনো ধারা সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'খ' রাষ্ট্রের মূল দলিলটির বিষয়বস্তু সুস্পষ্ট ও সহজ ভাষায় রচিত। এতে জনগণের মৌলিক অধিকারগুলোর উল্লেখ রয়েছে। 'খ' রাষ্ট্রের মূল দলিলের বৈশিষ্ট্যগুলো উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, উত্তম সংবিধানের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যের সাথে 'খ' রাষ্ট্রের মূল দলিলের সাদৃশ্য রয়েছে। তাই 'খ' রাষ্ট্রের মূল দলিলকে উত্তম সংবিধান বলা যায়।
Related Question
View All১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন যে অধিকার সনদ প্রণয়ন করেছিলেন তার নাম 'ম্যাগনাকার্টা'।
একটি রাষ্ট্রকে সঠিক ও যথার্থভাবে পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সুষ্ঠু সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কীরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকার কী কী এবং কীভাবে সংরক্ষিত হবে তাও সংবিধান নির্দিষ্ট করে। সংবিধান ছাড়া একটি সভ্য রাষ্ট্র পরিচালনার কথা কল্পনা করা যায় না। তাই বলা যায়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বিক দিক পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।
'ক' সংগঠনটি পরিচালনার নিয়মাবলি অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অলিখিত সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এটি ঐতিহাসিকভাবে উদ্ভূত সাধারণ প্রচলিত প্রথা, রীতি-নীতি, অভ্যাস-আচরণের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না। অলিখিত সংবিধানের পরিবর্তন প্রক্রিয়াও সহজ। অলিখিত সংবিধান ব্যবস্থায় সাধারণ আইন-কানুন ও শাসনতান্ত্রিক আইনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
উদ্দীপকের 'ক' নামক সামাজিক সংগঠনটি চিরাচরিত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর নিয়মগুলো কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এখানে মূলত অলিখিত সংবিধানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা 'ক' নামক সংগঠনের নিয়মগুলোর বৈশিষ্ট্যে উপরে আলোচিত অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' সংগঠন পরিচালনার নিয়মাবলির সাথে অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ।
'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলির সাথে লিখিত সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে। 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনার নিয়মাবলির মধ্যে আমি 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম বলে মনে করি।
লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ ধারা লিখিত থাকে বলে এটি জনগণের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। এতে সাধারণত সংশোধন পদ্ধতি উল্লেখ থাকে বিধায় খুব সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। আবার লিখিত সংবিধান স্থিতিশীল বিধায় শাসক তার ইচ্ছামতো এটি পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে না। লিখিত সংবিধানের সকল ধারা জনগণ ও শাসক মেনে চলতে বাধ্য হয়। সংবিধান লিখিত থাকায় জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
অন্যদিকে অলিখিত সংবিধান অস্পষ্টতা দোষে দুষ্ট। শাসক-শাসিতের সম্পর্ক বা অন্যান্য বিষয়গুলো এ সংবিধানে লিখিত থাকে না। সে কারণে শাসক ও শাসিত তাদের সুনির্দিষ্ট অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে শাসনব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার অধিক পরিবর্তনশীলতার কারণে সংবিধানে স্থায়ী নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অলিখিত সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবার আশঙ্কা থাকে।
উদ্দীপকের 'খ' নামক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও স্কুল পরিচালনায় সুস্পষ্টভাবে লিখিত নিয়মকানুন মেনে চলেন এবং যেকোনো ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হন। তাই আমি মনে করি 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়মাবলির মধ্যে 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়।
যে সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। এ ধরনের সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- প্রথা ও রীতিনীতিভিত্তিক, চিরাচরিত নিয়ম ও আচার- অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দুলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!