রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও বিধিবিধান যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাকে সরকার বলে।
বিচার বিভাগ সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে অন্যতম। সরকারের যে বিভাগ আইন অনুযায়ী বিচারকার্য সম্পাদন করে তাকে বিচার বিভাগ বলে। বিচার বিভাগ বলতে বোঝায় সরকারের যে বিভাগ আইন অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি দেয় ও নিরপরাধীকে মুক্তি দেয় এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষণ করে সেই বিভাগকে। সভ্য সমাজের জন্য বিচার বিভাগ অত্যাবশ্যক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দক্ষ বিচার বিভাগের কোনো বিকল্প নেই। দেশের সকল বিচারিক আদালত এবং এর সমস্ত জনবল নিয়েই বিচার বিভাগ গঠিত হয়।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
যেসব রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে সেসব রাষ্ট্রের সরকারকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে। এই সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি তার কাজের ব্যাপারে আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নামে ও কাজে রাষ্ট্রপ্রধান। এ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হন। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন এবং মন্ত্রিগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেকোনো মন্ত্রীকে নিয়োগ দেন এবং মন্ত্রীকে যেকোনো সময় অপসারণ করতে পারেন। এ শাসনব্যবস্থায় সরকার ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং শাসন বিভাগ আইনসভা ভেঙে দেওয়ার অধিকার রাখে না। আইনসভা ও শাসন বিভাগ নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে। এ ব্যবস্থায় আইনসভা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। এই ব্যবস্থায় সরকার স্থিতিশীল হয়। কেননা রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন। এ ব্যবস্থায় অভিশংসন প্রস্তাব ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে আইনসভা ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। এরূপ শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর থাকায় বিচার বিভাগের প্রাধান্য থাকে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান সরকার পদ্ধতিকে আমি উত্তম বলে মনে করি।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় সরকার স্থিতিশীল থাকে, যা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য খুবই উপযোগী। এ সরকারব্যবস্থাকে উত্তম বলে মনে করার পেছনে যে যুক্তিগুলো রয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো-
১.স্থায়িত্ব : এ সরকার তুলনামূলকভাবে স্থায়ী। যখন তখন সরকার পরিবর্তনের মতো দূরবস্থার শিকারে পরিণত হতে হয় না। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নির্বিঘ্নে সরকার পরিচালনা করেন।
২.আইনসভার প্রভাবমুক্ত শাসন বিভাগ : এ সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিগণ সংসদ সদস্যদের চাপমুক্ত থাকে। ফলে তারা নির ও স্বাধীনভাবে সরকারের নিয়মনীতি প্রয়োগ করতে পারে।
৩. ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণের সুফল: এ সরকার ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ এর ফলে শাসন বিভাগ স্বৈরাচারী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। ফলে জনগণ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারে।
৪. বহুদলীয় ব্যবস্থায় উপযোগী বহুদলীয় ব্যবস্থায় যখন এককভাবে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না তখন কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এ কোয়ালিশন সরকার দুর্বল ও ক্ষণস্থায়ী হয়। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার গঠিত হলে স্থায়ী ও শক্তিশালী হয়।
৫. দলীয় মনোভাব প্রশমিত হয়: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন বিধায় রাষ্ট্রপতি অনেক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি তার পছন্দমতো মন্ত্রী নিয়োগ করেন। মন্ত্রিগণ আইনসভার পরিবর্তে সরাসরি রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন। যার ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় মনোভাব অনেকটা প্রশমিত হয়।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থাকে উত্তম বলার পেছনে এ সমস্ত ইতিবাচক যুক্তি থাকলেও এ সরকারব্যবস্থার কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। তবে অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা সত্যিকার অর্থেই উত্তম সরকারব্যবস্থা।
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!