অধ্যাদেশ হলো সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় সংসদের অধিবেশন মুলতুবি থাকাকালে বিশেষ ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা আদেশ।
অর্থ বিল হচ্ছে সেই বিল যাতে কর ধার্য, তার পরিবর্তন, ঋণ গ্রহণ বা ঋণ পরিশোধ, ব্যয়ের মঞ্জুরি প্রভৃতি আলোচিত হয়।
কোনো বিল অর্থ বিল কি না তা নির্ধারণ করেন সংসদের স্পিকার। এ বিষয়ে তার মতামতই চূড়ান্ত। তবে কোনো অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত জাতীয় সংসদে পেশ করা যাবে না।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের সরকারের বিভাগটির গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলির সাথে বাংলাদেশের আইন বিভাগের কাজের মিল আছে।
বাংলাদেশের সকল প্রকার আইন প্রণয়নের দায়িত্ব আইন বিভাগ তথা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত।
সরকারের আয়-ব্যয় নির্ধারণ সংক্রান্ত কার্যাদি সম্পাদনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অনেক। জাতীয় সংসদ জাতীয় তহবিলের রক্ষক ও অভিভাবক। প্রত্যেক অর্থ বছরের শুরুতে ঐ বছরের জন্য অনুমিত আয়-ব্যয়ের বিবরণ বা বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করে আইন বিভাগ। তদ্রুপ 'ক' রাষ্ট্রের সরকারের বিভাগটির কাজও হলো সরকারের আয়-ব্যায় নির্ধারণ করা।
উদ্দীপকের বিভাগ নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করে। বাংলাদেশের আইন বিভাগও আইন সংক্রান্ত নানাবিধ কার্যাদি সম্পাদন করে থাকে। 'ক' রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী। বাংলাদেশের আইন বিভাগের কাজের সাথে এ বিষয়েও মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভাগটি অর্থাৎ আইন বিভাগ শাসনবিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। নিচে শাসন বিভাগের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি দেওয়া হলো।
শাসন বিভাগ হলো সরকারের সেই বিভাগ যারা প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাসন কার্য পরিচালনা করে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে শাসনবিভাগ গঠিত। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান এবং তাকে কেন্দ্র করে শাসন বিভাগ আবর্তিত হয়। তাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। আবার তাকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রীসভার পতন হয়। মন্ত্রীসভার কর্মসূচি ও সংসদের আইন প্রণয়ন পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরেই রচিত। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন এবং এক প্রকার ঐক্যমত গড়ে তোলেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় সংহতির জন্য কাজ করে থাকেন। আর রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সরকারের নাম সর্বস্থ প্রধান। তিনি সংসদে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী রূপে নিয়োগ দেন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্ম কমিশনের প্রধান ও সদস্যবৃন্দ প্রমুখদের নিয়োগ ও তাদের কার্যাবলির বিধি-বিধান নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার নিয়োগ দেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের গ্রহণ করেন।
পরিশেষে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী শাসনবিভাগের কেন্দ্রবিন্দু এবং তাকে ঘিরেই শাসনব্যবস্থা আবর্তিত হয়।
Related Question
View Allমন্ত্রণালয় হলো সচিবালয়ের একটি প্রশাসনিক শাখা।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বিচারের - মাপকাঠি হলো সে দেশের বিচার বিভাগ কার্য সম্পাদনে কতটুকু স্বাধীন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সমাজব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। জনগণের মৌলিক অধিকার, সংবিধান এবং আইন সংরক্ষণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জরুরি।
উদ্দীপকের আবুল কালামের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী। তিনি হলেন শাসন ব্যবস্থার মধ্যমণি। তাকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রিসভা গঠিত ও পরিচালিত হয়। তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধান করেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা হারালে কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি একাধারে দলের নেতা, সংসদের নেতা, মন্ত্রিসভার মধ্যমণি, রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা এবং জাতির নেতা ও পথপ্রদর্শক। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সংহতির প্রতীক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আবুল কালাম 'Y' রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তিনি এমন এক সূর্য যার চার দিকে রাজনৈতিক গ্রহগুলো আবর্তিত হয়। উদ্দীপকের 'Y' এর মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাঁর নেতৃত্বেই মন্ত্রিসভা পরিচালিত হয়। আর তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পদ অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
একটি দেশের জনগণ তাদের সরকারের ওপরই সর্বোতভাবে নির্ভরশীল। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান। এ ব্যবস্থায় জনগণ প্রধানমন্ত্রীকেই তাদের মূল আশ্রয় বলে মনে করে। তার ওপর দেশের উন্নতি, অবনতিত, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন প্রভৃতি অনেকাংশে নির্ভর করে।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই প্রধানমন্ত্রী এ দেশের শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পর্যন্ত সব বিষয়ের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট। দেশের উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। সরকারের যেকোনো ব্যর্থতা তার ওপর বর্তায়। এ কারণে তৃণমূল থেকে জাতীয় সব পর্যায়েই তাকে নিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। তিনি জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক সংকট প্রভৃতি ক্ষেত্রে জনগণের পাশে দাঁড়ান, সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে ভরসা দেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের মতো সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ ও কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের ফলে জনগণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদটি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হলেন জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন কিংবা শাসন বিভাগের কাজ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা বিচার বিভাগ কর্তৃক পর্যালোচনা করার ক্ষমতাই হলো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা।
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক। সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষাকারী হিসেবে বিচার বিভাগ এর শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সচেষ্ট থাকে। বিচার বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন সংবিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ, তাহলে তা বাতিল করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের রয়েছে। তেমনি শাসন বিভাগের কোনো কাজ সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ তা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা বজায় রাখতে বিচার বিভাগ এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!