'ক' রাষ্ট্রে সরকারপ্রধানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে হয়। অন্যদিকে, 'খ' রাষ্ট্রে শাসন, বিভাগ আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ হতে সম্পূর্ণ স্বাধীন। ফলে শাসন বিভাগকে তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। 

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

যে শাসনব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সকল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে সেটিই হলো এককেন্দ্রিক সরকার।

উত্তরঃ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে আইনের ব্যাখ্যা ও বিচারকার্য পরিচালনার সময় বিচারকদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মতামত প্রকাশের ক্ষমতাকে বোঝায়। স্বাধীন বিচার বিভাগ বলতে আইন বিভাগ ও - শাসন বিভাগের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত বিচার বিভাগকে বোঝায়। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা এবং গণতন্ত্রের মহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ খুব প্রয়োজন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাসমূহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার অন্যতম। সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক শাসনকার্য পরিচালিত হয় এবং তারা তাদের কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে সরকারপ্রধানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে হয়। এটি সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারেরই বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে এ ধরনের শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা অধিক শক্তিশালী। এ ব্যবস্থায় আইনসভার ওপর আস্থাশীল হয়ে শাসন বিভাগ শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে। আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের দ্বারা সরকার গঠিত হয়। সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। প্রকৃত শাসনক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ তাদের কাজের জন্য সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।

উত্তরঃ

'ক' রাষ্ট্রের মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা 'খ' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার চেয়ে উত্তম। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দুটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলো যথাক্রমে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। এ দুটি শাসনব্যবস্থাকে একে অপরের বিপরীত রূপ বলে মনে করা হয়। উক্ত দুটি শাসনব্যবস্থারই বেশকিছু দোষত্রুটি রয়েছে। তবে উভয়ের মধ্যে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা উত্তম। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য সংসদীয় পদ্ধতির সরকার এবং 'খ' রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারকে নির্দেশ করছে। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের তুলনায় উত্তম। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে মন্ত্রিপরিষদ তার যাবতীয় কাজকর্মের জন্য আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে বলে মন্ত্রিপরিষদের স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠার কোনো সুযোগ থাকে না। এ সরকারব্যবস্থার অন্যতম প্রধান গুণ হলো এর নমনীয়তা। এখানে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে প্রশাসন বা সরকারের প্রয়োজনমাফিক রদবদলের ব্যবস্থা রয়েছে। আইনসভার মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার অধিকতর জনকল্যাণমুখী ও জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা। অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর স্বাধীনভাবে কাজ করায় উভয়ের মধ্যে সুষ্ঠু সহযোগিতা গড়ে ওঠে না। সকল ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি আইনসভার থাকে না। রাষ্ট্রপতি তার কার্যকালে অনিয়ন্ত্রিত ও একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পান যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। রাষ্ট্রপতি জনপ্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন না বলে স্বচ্ছতাও থাকে না। এসব কারণেই মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার চেয়ে উত্তম।

206

Related Question

View All
উত্তরঃ

বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।

235
উত্তরঃ

A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

210
উত্তরঃ

সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।

উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।

শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।

এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

213
উত্তরঃ

ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।

347
উত্তরঃ

সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।

1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews