মাতৃভূমি তথা দেশের প্রতি প্রীতি ও দরদের আকর্ষণই দেশপ্রেম।
ইসলামের মূল বাণী- আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই। হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল। যারা এই কালিমার বিশ্বাসী তারা যেকোনো বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও অঞ্চলের অধিকারী হোক না কেন, তারা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। এজন্য রাসুল (স.) বলেছেন, "মুসলমান মুসলমানের ভাই।" (বুখারি ও মুসলিম)
'ক'-এর কাজে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রকাশ পেয়েছে, যা আখলাকে যামিমাত্র অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের কর্মকান্ড প্রতিরোধে ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
সন্ত্রাস অর্থ অতিশয় ত্রাস বা ভীতিকর পরিবেশ। অর্থাৎ ভয় দেখিয়ে বা বলপ্রয়োগ করে মানুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করা বা আদায়ের পরিবেশ সৃষ্টি করাকে সন্ত্রাস বলে। সন্ত্রাস ফিতনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ। সন্ত্রাসের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয় এবং মানুষের অর্থসম্পদ জীবনের নিরাপত্তা থাকে না। দেখা দেয় হত্যা, গুম, অপহরণ, ইভটিজিং, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, জবরদখল ইত্যাদি অপরাধ। ফলে জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
উদ্দীপকের 'ক' এ ধরনের একজন সন্ত্রাসী। সে তার অসৎ বন্ধুদের সাথে মিশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে পথিকের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার কাজে লিপ্ত। অতএব উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, 'ক'-এর কাজটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং সে একজন সন্ত্রাসী। এ ধরনের অপরাধের জন্য মহান আল্লাহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
খ'-এর আচরণটি পরিহার করা অত্যাবশ্যক- উক্তিটি যথার্থ।
অন্য কোনো ব্যক্তির মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে গোপনে মালিকের অনুমতি ছাড়াই হাতিয়ে নেওয়ার নাম চুরি বা চৌর্য। চুরির বৃদ্ধি ঘটলে সমাজে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। চুরির জন্য সম্পদ ও জীবন নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়। কারণ কখনো কখনো চোর ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মালিককে খুনও করে থাকে। চুরি হওয়ার আশঙ্কায় যেকোনো সম্পদের মালিক তাদের সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। চুরির দ্বারা সমাজে অন্যান্য অপরাধের বিস্তার ঘটে। চোর ব্যক্তিকে কেউ বিশ্বাস করতে পারে না।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, 'খ' গোপনে অপরের সম্পদ হাতিয়ে নেয়। এটা তার নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে। উদ্দীপকের 'খ' এর আচরণটি হলো চৌর্যবৃত্তি। সমাজে এ ধরনের অপরাধ খুবই ঘৃণিত। তাই 'খ'-এর এ ধরনের আচরণ পরিহার করা আবশ্যক।
Related Question
View Allনমরুদের মূর্তিপূজার বিরোধিতা করায় হযরত ইবরাহিম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন।
উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য মহানবি (স.) বলেন, "উত্তম চরিত্রের পূর্ণতাদানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।" সকল নবিই নিজ নিজ জাতিকে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। আর উন্নত চরিত্রকে পূর্ণতাদানের জন্য শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে আল্লাহ তায়ালা পাঠিয়েছেন।
পরমতসহিষ্ণুতা গুণের অভাবে লিপি ও হ্যাপির মধ্যে ঝগড়া হয়।
পরমত বলতে বোঝায় অপরের মত, পথ বা আদর্শ, সেটা ধর্মীয় হতে পারে, আদর্শিকও হতে পারে। আবার রাজনৈতিকও হতে পারে। অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে। উদ্দীপকের লিপি ও হ্যাপির মধ্যে ঝগড়ার মূল কারণ একজনের পছন্দকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, যা পরমতসহিষ্ণুতার পরিপন্থি। আর একটি সুস্থ ও সুন্দর সামাজিক জীবনের জন্য পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব অপরিসীম। পারিবারিক জীবনের সুখ-শান্তি এর ওপর নির্ভরশীল। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন বা সহানুভূতির মনোভাব পোষণ করার মাধ্যমে পারিবারিক শান্তি লাভ করা যায়।
সাব্বির ও মনিরের ভূমিকায় সমাজসেবার গুণটি ফুটে উঠেছে।
সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে স্বেচ্ছায় গৃহীত কাজই সমাজসেবা। ব্যাপক অর্থে মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য গৃহীত সকল কর্মসূচিই সমাজসেবা নামে পরিচিত। সমাজসেবা একটি মানবিক দায়িত্ব। সমাজের সম্পদশালী মানুষ পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য সেবামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে তাদের উন্নয়ন ঘটানো সামাজিক দায়বদ্ধতা। শিক্ষা-চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মানুষের প্রিয়ভাজন হওয়া সম্ভব। উদ্দীপকের সাব্বির ও মনির আহত পথচারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জনসেবার অন্তর্ভুক্ত। কেননা রাসুল (স.) বলেন, আল্লাহ বান্দাদেরকে ততক্ষণ সাহায্য করেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইকে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায়, সাব্বির ও মনিরের কাজটিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আমাদের সকলেরই মানুষের কল্যাণে সমাজের সেবায় এগিয়ে আসা উচিত।
নারীদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী হলেন হযরত আয়েশা (রা.)।
পৃথিবীর সকল মানুষের আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ.)-এর সন্তান বিশ্বে সকল মানুষ ভ্রাতৃসম।
আবহাওয়া ও ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে মানুষের আকার-আকৃতি, স্বভাব-প্রকৃতি এবং বর্ণ ও ভাষার মধ্যে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। যার ফলে মানুষ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবুও বিশ্বের সব মানুষ এক পিতামাতার সন্তান হওয়ায় বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই আদম (আ.) হতে এবং আদম মাটি হতে সৃষ্টি। (বুখারি)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!