খাদিজার বয়স দশ বছর। পেটের দায়ে সে বিত্তবান মাসুম সাহেবের বাসায় বাঁধা ঝিয়ের কাজ করে। কিন্তু বেগম সাহেবা বড়োই নির্দয়। পান থেকে চুন খসলে আর রেহাই নেই। ইতোমধ্যেই তার গায়ে বেগম সাহেবার বদান্যতায় অনেকগুলো দগদগে ঘা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে মাঝরাত অবধি তাকে বিরামহীন কাজ করতে হয়। কিন্তু অনেক সময় পেট পুরে খেতেও দেওয়া হয় না তাকে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

ভারতীয় পুরাণে উল্লিখিত একজন ত্যাগী মুনি হলেন দধীচি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
9 months ago
উত্তরঃ

শ্রমজীবী মানুষদের বঞ্চিত করে যারা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে উদ্ধৃত উক্তিটিতে তাদের 'মিথ্যাবাদী' বলা হয়েছে।

শ্রমজীবী মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠে অট্টালিকা, ধনি হয় আরও ধনি। শ্রমিকরা পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি পায় কম কিন্তু মালিক সেটার লাভ বা মুনাফা পায় অনেক বেশি। যেসব অসাধু মালিক শ্রমজীবীদের বঞ্চিত করে উদ্ধৃত উক্তিটিতে তাদের 'মিথ্যাবাদী' বলা হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
9 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের খাদিজার অবস্থা 'কুলি-মজুর' কবিতার শোষিত ও বঞ্চিত কুলি-মজুরদের অবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

'কুলি-মজুর' কবিতায় কবি মানবসভ্যতার যথার্থ রূপকার শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে কলম ধরেছেন। তাঁর মতে, যুগ যুগ ধরে কুলি-মজুরের মতো লক্ষ কোটি শ্রমজীবী মানুষের হাতেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। অথচ ধনিকশ্রেণি এদেরকে শোষণ করেই অঢেল বিত্ত-সম্পদের মালিক হয়েছে।

উদ্দীপকের খাদিজা একজন শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি। পেটের দায়ে সে বিত্তবান মাসুম সাহেবের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে। মাসুম সাহেবের স্ত্রী খাদিজার সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করেন। প্রায়শই তিনি তাকে পেট ভরে খেতে পর্যন্ত দেন না। শুধু তা-ই নয়, কারণে-অকারণে তিনি মাঝেমধ্যেই তার উপর পাশবিক অত্যাচার চালান। উদ্দীপকের খাদিজার উপর শোষণ-নির্যাতনের এ বিষয়টি আলোচ্য কবিতার কুলি-মজুরদের অবস্থার সমান্তরাল। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের খাদিজার অবস্থাটি কবিতার শ্রমজীবী মানুষের ধনিকশ্রেণি কর্তৃক শোষণের দিকটির সাথে সংগতিপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
9 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বক্তব্যে 'কুলি-মজুর' কবিতার মূলভাব আংশিক প্রকাশিত হয়েছে বলেই আমি মনে করি।

'কুলি-মজুর' কবিতায় কবি খেটে খাওয়া মানুষের জয়গান গেয়েছেন। তিনি মনে করেন, কুলি-মজুরের মতো শ্রমজীবী মানুষের ত্যাগেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। তবুও তারা উপযুক্ত মর্যাদা কখনোই পায়নি। আর তাই আলোচ্য কবিতাটিতে কবি এই শ্রমজীবী মানুষদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

উদ্দীপকে আমরা অসহায় দরিদ্র এক গৃহকর্মীর উপর নির্মম অত্যাচারের দিকটি প্রত্যক্ষ করি। সেখানে খাদিজা তার শ্রমের মর্যাদা তো পায়-ই না বরং প্রতিনিয়ত শোষিত হয়, গৃহকত্রীর নিষ্ঠুরতার শিকার হয়। খাদিজার এই যাতনার দিকটি আলোচ্য কবিতার শোষিত ও বঞ্চিত কুলি-মজুরদের অন্তর্যাতনার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।

'কুলি-মজুর' কবিতায় কবি শ্রমজীবী শ্রেণির উপর ধনিকশ্রেণির আগ্রাসনের চিত্র অঙ্কন করেছেন। পাশাপাশি সমাজ-সভ্যতার উন্নয়নে এই শ্রমজীবী শ্রেণির ভূমিকা তুলে ধরে তাদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। পক্ষান্তরে উদ্দীপকে কেবল ধনিকশ্রেণি কর্তৃক অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষদের শোষণ ও নির্যাতনের দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে। কবিতাটির মূল বিষয় শ্রমজীবীদের অধিকার প্রত্যাশার দিকটি সেখানে আলোচিত হয়নি। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের বক্তব্যে আলোচ্য কবিতার মূলভাব আংশিক প্রতিফলিত হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
9 months ago
54

কুলি-মজুর

কাজী নজরুল ইসলাম

দেখিনু সেদিন রেলে,

কুলি বলে এক বাবু সাব তারে ঠেলে দিলে নিচে ফেলে!

চোখ ফেটে এল জল,

এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?

যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সাব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ? চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল!
রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে,
রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে,
বল তো এসব কাহাদের দান! তোমার অট্টালিকা
কার খুনে রাঙা? ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা।
তুমি জান নাকো, কিন্তু পথের প্রতি ধূলিকণা জানে
ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে!

আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু-পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!

(অংশবিশেষ)

Related Question

View All
উত্তরঃ

'শুধিতে হইবে ঋণ' কথাটির দ্বারা শ্রমজীবীদের শুভদিন আগমনের বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।

যুগে যুগে শ্রমিকদের শ্রমেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। তারাই সভ্যতার প্রকৃত রূপকার। কিন্তু তাদের এই শ্রম ও ত্যাগ সর্বদাই উপেক্ষিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি এসব শ্রমজীবী মানুষের বন্দনা করে বলেছেন যে তাদের জন্য শুভদিন আসছে। তাদের প্রতি ধনিকশ্রেণির জমে থাকা ঋণ শোধ করতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
9 months ago
531
উত্তরঃ

আজমল সাহেবের ছেলের আচরণে 'কুলি-মজুর' কবিতার ধনিকশ্রেণির দাম্ভিক মনোভাবের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের বিনিময়ে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে বিশ্বসভ্যতা। তাদের শ্রম ও ত্যাগের ফলে পৃথিবীব্যাপী উন্নয়নের চাকা আজও সচল রয়েছে। তবুও তারাই সর্বদা অবহেলা, বঞ্চনার শিকার হয়েছে। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলের আচরণে নিচু শ্রেণির মানুষের প্রতি অবহেলার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেব ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও তার ছেলে দাম্ভিক ও অত্যাচারী। সে বাড়ির কাজের লোক, আশপাশের দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। তাদের সাথে কারণে-অকারণে খারাপ আচরণ করে। আলোচ্য 'কুলি-মজুর' কবিতায়ও দেখা যায় রেলস্টেশনে এক বাবু সাব এক কুলিকে ঠেলে মাটিতে ফেলে দেয়। এর মধ্য দিয়ে বাবু সাহেবের মধ্যে অত্যাচারী ধনিকশ্রেণির দাম্ভিক মানসিকতা লক্ষ করা যায়। এদিকটি উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলের আচরণেও পরিলক্ষিত হয়। এ বিবেচনায় উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলের মধ্যে আলোচ্য কবিতার বাবু সাহেবের দাম্ভিক ও অত্যাচারী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
9 months ago
233
উত্তরঃ

শ্রমজীবী মানুষের বন্দনা করার প্রেক্ষাপট বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

শ্রমজীবী শ্রেণিই সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি। ধনীদের আরাম-আয়েশের জন্য এসব শ্রমিক তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করে। কিন্তু সে পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা মজুরি তো পায়-ই না বরং তাদের ভাগ্যে জোটে কেবল অন্যায় আর অবহেলা। এখন সময় এসেছে তাদের শ্রমের স্বীকৃতি দেওয়ার।

'কুলি-মজুর' কবিতাটি মূলত শ্রমজীবী মানুষের বন্দনাগাথা। এ কবিতায় কবি খেটে খাওয়া মানুষের জয়গান গেয়েছেন। যুগ যুগ ধরে শ্রমজীবীদের ত্যাগের মহিমায় রচিত হয়েছে সভ্যতার অগ্রযাত্রার ইতিহাস। কিন্তু সেই শ্রমের মর্যাদা তারা কখনোই পায়নি। তাই কবি মনে করেন সভ্যতার প্রকৃত রূপকার এই শ্রমিকদের এখন জেগে ওঠার দিন এসেছে। তারা আজ নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে। তাই কবি তাদের জয়গান গেয়েছেন, বন্দনা করেছেন তাদের অবিস্মরণীয় অবদানের।

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেব 'কুলি-মজুর' কবিতার কবির মতোই একজন সচেতন মানুষ। তার ছেলে দরিদ্র-শ্রমজীবী মানুষদের সাথে খারাপ আচরণ করে। তা দেখে তিনি ছেলেকে ডেকে বুঝিয়ে বলেন, আজ আমরা যে সুন্দর ও বিলাসী জীবনযাপন করি তার মূলে রয়েছে সমাজের নিচু স্তরের খেটে খাওয়া মানুষের অসীম ত্যাগ-তিতিক্ষা। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে 'কুলি-মজুর' কবিতার কবি যেভাবে শ্রমজীবী মানুষের বন্দনা করেছেন, উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের কথায়ও সেই একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মনোভাব 'কুলি-মজুর' কবিতার মূলভাবেরই প্রতিফলন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
9 months ago
212
উত্তরঃ

শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে কবি প্রদত্ত উত্তটি করেছেন। 'কুলি-মজুর' কবিতায় কবি কলম ধরেছেন মানুষের অধিকারের পক্ষে। কবিতায় তিনি শ্রমজীবী কুলি-মজুরদের দধীচিমুনির সঙ্গে তুলনা করেছেন। যাদের রক্ত, ঘামে সভ্যতার বিকাশ, তারাই আজ অবহেলিত। তাদের শ্রমের উপর ভর করে যারা ধনী হয়েছেন, তারাই সব সুবিধাভোগী। লেখক তাই এসব স্বার্থান্বেষী সুবিধাভোগী মহলের মুখোশ উন্মোচন করে শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
9 months ago
207
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews