খালেক মিয়ার আমগুলো নষ্ট হওয়ার জন্য শুধু জীবাণুই দায়ী নয় অন্যান্য বিষয় আছে বলেও আমি মনে করি।
উদ্দীপকে খালেক মিয়ার আমগুলো প্যাকিং ভালো না হওয়ায় অধিকাংশ আমই বিক্রির অনুপযোগী হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট এই জীবাণুগুলোর প্রভাবে ফল নষ্ট হয়ে যায়। জীবাণু ছাড়াও এনজাইম, রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং সংরক্ষণের অনুপযুক্ত স্থানের কারণে ফল নষ্ট হয়ে যায়। এনজাইমের প্রভাবে ফল অতিরিক্ত পেকে নরম ও বোটাচ্যুত হয়। থেতলানো ফল জীবাণুর আক্রমণে কালচে বর্ণ ধারণ করে, বিকৃত গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নষ্ট হয়ে যায়। ফল ও সবজির রাসায়নিক উপাদান 'এসিড' ও 'ট্যানিন' বাতাস ও পানির সংস্পর্শে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এর ফলে খাদ্যের বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদের পরিবর্তন হয় এবং নষ্ট হয়। আবার সংরক্ষণকৃত খাদ্যদ্রব্য সঠিকভাবে যথাস্থানে রাখা না হলে ধুলা-ময়লা, ইঁদুর, পোকামাকড়ের আক্রমণে খাদ্যবস্তু আক্রান্ত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, খালেক মিয়ার আমগুলো নষ্ট হওয়ার জন্য শুধু জীবাণুই দায়ী না এনজাইম, রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং সংরক্ষণের অনুপযুক্ত স্থানও দায়ী।
Related Question
View Allশুষ্ক পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি লোপ পায়।
ছত্রাক একজাতীয় উদ্ভিদ। এটি পানি ও আর্দ্রতায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এরা টক জাতীয় খাবারের ওপর বেশি জন্মায়। কিছু ছত্রাক বিষাক্ত হয়। খাবারের ওপর এটি এক ধরনের ধূসর সবুজ বর্ণের আস্তরণ তৈরি করে, যা খাবারকে নষ্ট ও খাওয়ার অনুপযোগী করে তোলে।
২নং চিত্রের খাদ্যগুলো হচ্ছে মাছ, মাংস ও দুধ।
এগুলো দ্রুত পচনশীল খাদ্য। এজন্য সুমাইয়া প্রথমেই এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এ ধরনের খাদ্য অতি দ্রুত অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পচন ধরে নষ্ট হয়। এসব খাদ্যে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। সেজন্য দ্রুত সংরক্ষণ না করলে পচন ধরে। এগুলো ফুটিয়ে, রেফ্রিজারেটরে রেখে বা বরফে জমিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। আবার মাছকে শুকিয়ে শুটকি বানিয়েও অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া দু-একদিনের জন্য মাংস, মাছ ভেজে বা একটু পানি, হলুদ ও লবণ মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। দুধ ফুটিয়েও দুই তিন দিন ভালো রাখা যায়। এসব দ্রুত পচনশীল খাদ্য ফ্রিজারে রেখেও সংরক্ষণ করা যায়, যার তাপমাত্রা -১৮° সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফ্রিজের এ চেম্বারে খাবার জমে বরফে পরিণত হয়। সুমাইয়া ২নং চিত্রের খাদ্যগুলো উপরিউক্ত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করেন।
১নং চিত্রের খাদ্যগুচ্ছ হলো পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ডিম এবং ৩নং চিত্রের খাদ্যগুচ্ছ হলো চাল, ডাল, শুকনা মরিচ ইত্যাদি।
১নং চিত্রের খাদ্যগুলো প্রায় পচনশীল খাদ্য। এসব খাদ্য স্বাভাবিক অবস্থায় কয়েকদিন রেখে খাওয়া যায়। এ খাদ্যগুলোতে পানির পরিমাণ কম থাকে বলে ঘরে ঠান্ডা আবহাওয়া, তাপ ও আলো থেকে দূরে রেখে কয়েকদিন খাওয়া যায়। অপরদিকে ৩নং চিত্রের খাদ্যগুলো অপচনশীল খাদ্য। এ খাদ্যগুলোতে পানির পরিমাণ নেই বললেই চলে। তাই এগুলোকে সঠিকভাবে ঝেড়ে, বেছে, রোদে শুকিয়ে, উপযুক্ত উপায়ে সংরক্ষণ করে অনেকদিন ঘরে রাখা যায়।
সুমাইয়া রমজান মাসে সাপ্তাহিক ও মাসিক বাজার করে রাখেন। তিনি ১নং ও ৩নং চিত্রের খাদ্যগুলো পরে গুছিয়ে রাখবেন বলে ঘরের এক পাশে রেখে দেন। কারণ এ খাদ্যগুলো স্বাভাবিকভাবে অনেক দিন রাখা সম্ভব।
খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায় খাদ্য যেন পচে নষ্ট না হয়ে যায় সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা অবলম্বন করা।
খাদ্যের গুণগত মান অনুসারে বিভিন্নভাবে মজুদ রাখাই খাদ্য সংরক্ষণ। অর্থাৎ ভবিষ্যতের জন্য উদ্বৃত্ত খাদ্য সামগ্রীকে নষ্ট বা অপচয় থেকে রক্ষা করাই খাদ্য সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
