মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
ভাষা আন্দোলন বলতে বোঝায় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে সংঘটিত গণআন্দোলন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পরপরই দেশটির রাষ্ট্রভাষা কি হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিক, সফিকসহ আরো অনেকে শহিদ হন। এ আন্দোলনই ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাকিস্তানের অন্যতম আন্দোলন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে।
আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা দখল করার পর পাকিস্তানে সামরিক একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পূর্ব বাংলার জনগণের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে উপেক্ষা করেন। ৬ দফা আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামী করে ৩৫ জন বাঙালি সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় বক্তাবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আইয়ুব খানের পদত্যাগ, ১৯৬২ সালের সংবিধান বাতিল, 'এক ব্যক্তি এক ভোটের' ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব বাংলার জনগণ সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনই '৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান নামে খ্যাত। গণআন্দোলনে ভীত হয়ে আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুসহ অন্য বন্দিদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনায়ও দেখা যায়, 'খ' রাষ্ট্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতাকে গ্রেফতার করে দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে রাখার পর ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করায় জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এক পর্যায়ে সরকার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে জনপ্রিয় নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। যা আমার পঠিত ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে বাঙালির ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সাদৃশ্যপূর্ণ যা বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে বেগবান করে।
১৯৬৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। অল্পসময়ের মধ্যে এ প্রতিবাদ গণআন্দোলনে রূপ নেয়। গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতারা ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অটল থাকে। এ সময় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দিয়ে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। গণআন্দোলন আরও তীব্র রূপ ধারণ করে এবং প্রশাসন অচল হয়ে পড়ে। এরূপ পরিস্থিতিতে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার এবং সব আসামিকে বিনা শর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। গণঅভ্যুত্থানের ফলে ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলার অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
গণঅভ্যুত্থানের কারণে পূর্ব পাকিস্তানে বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যেতে থাকে। তাই শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নতির জন্য জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালে পূর্ব বাংলায় অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা হয় যা মুক্তিযুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বাঙালির রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ রচনা করে। এ আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব বাংলার জনগণ নিজেদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংগ্রাম করে এবং এর ফলে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
শাসন বিভাগ বলতে বোঝায় সরকারের সে বিভাগকে যে বিভাগ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে শাসন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসন বিভাগই সরকারের আসল চালিকা শক্তি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের নিয়ে শাসন বিভাগ গঠিত হয়। শাসন বিভাগের কাজ হলো আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন করা।
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য বৃয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলেও দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। উত্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাকিস্তানের ৪টি প্রদেশের মধ্যে পিপিপি মোট ৮৩টি আসন পায়। আওয়ামী লীগের এ বিজয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা হারানোর ভীতি ছড়িয়ে দেয়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ঘ' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বস্তুতপক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে বাঙালির স্বাধিকার এবং মুক্তি লাভের দাবিরই বহিঃপ্রকাশ।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেও তা আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ভাষেেণ তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরগুলোতে হাজার হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার সাথে সাথে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন প্রকৃতই পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
ছয়দফা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাঙালির অধিকার আদায়ের ৬টি দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি।
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি রাজনৈতিক জোটকে বোঝায়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ জোট চারটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত হয়। দলগুলো হলো- আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি পার্টি এবং গণতন্ত্রী দল। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!