দেশ রক্ষার প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
"একের পর এক প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন" বলতে এখানে হাসিনা সরকারের পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে কৌশলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কথা বলা হয়েছে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। এরপর থেকে এই সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এসব নির্বাচনে শেখ হাসিনা সরকার লোক দেখানো ভোটের আয়োজন করে শেষ পর্যন্ত কারচুপি করে জয়ী হয়। এভাবে সরকার যে পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে সেই কথাই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে 'গণঅভ্যুত্থানের কথা' রচনার ফুটে ওঠা দিকটি হলো গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট।
যুগে যুগে বিভিন্ন অপশক্তি এদেশের মানুষকে অবদমিত করে রাখতে চেয়েছে। তবে বাঙালিরাও তাদের এই অপচেষ্টাকে সফল হতে দেয়নি। সাম্য চেতনায় উদ্বুদ্ধ এ জাতি সম্মিলিত শক্তিতে সেসব অপশক্তিকে বারবার পরাভূত করেছে।
উদ্দীপকে বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থান গড়ে ওঠার পেছনের নানা কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসমতা, দুর্নীতি, মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণ এসব সরণের অন্যতম। 'গণঅভ্যুত্থানের কথা' রচনায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ নিকট অতীতে যে কয়েকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসব আন্দোলনের পেছনেও এ কারণগুলোই ছিল প্রধান অনুঘটক। উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার এ দিকটিই ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকটি 'গণঅভ্যুত্থানের কথা' রচনার অংশবিশেষের প্রতিনিধিত্ব করে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালিদের চিরকাল সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়েছে। যুগে যুগে বিভিন্ন শাসক নানাভাবে আমাদের ওপর শোষণ-নির্যাতন চালিয়েছে। তবে স্বাধীনচেতা বাঙালি তাদের আগ্রাসনকে মেনে নেয়নি। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে তারা নিজেদের অধিকার আদায় করে নিয়েছে।
উদ্দীপকে দেশে দেশে গণআন্দোলন গড়ে ওঠার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে। সেখানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসমতাকে এসব কারণের অন্যতম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বস্তুত যখন সমাজের বড় একটি অংশের কাছেই মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এবং সেবা পৌছায় না তখনই তা জন-অসন্তোষে রূপ নেয়। তাছাড়া দুর্নীতি, মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং ভোটাধিকারকে বিনন্ট করাও এসব অভ্যুত্থানের বড় কারণ।
'গণঅভ্যুত্থানের কথা' রচনায় ১৯৬৯, ১৯৯০ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ আন্দোলনে বিজয়ের অনিবার্যতাকে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে এসব আন্দোলন-সংগ্রামে গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। পক্ষান্তরে উদ্দীপকে কেবল গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার কারণই আলোচিত হয়েছে, রচনাটির অন্যান্য দিক নয়। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View All১১ দফা দাবি উত্থাপন করে 'ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ'।
শাসক যখন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে, তখনই জনগণ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং গণঅভ্যুত্থান ঘটায়।
একটি আন্দোলনের সঙ্গে যখন সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে শাসককে তাদের দাবি মেনে নিতে বা ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করে, তাকেই বলে গণঅভ্যুত্থান। এটি একটি সামাজিক বা রাজনৈতিক আন্দোলন, যেখানে জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার, ন্যায্যতা বা অন্য কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্রোহ করে থাকে। জনগণের বিশাল অংশ, যেমন- শ্রমিক, ছাত্র, সাধারণ মানুষ, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিও এতে অংশ নিয়ে থাকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে এমন গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল।
উদ্দীপকের ফরাসি বিপ্লব ছিল শোষণমুক্তির জন্য প্রতিবাদী আন্দোলন। এটি ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।
যুগে যুগে বিভিন্ন সময় পৃথিবীতে যত আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে, সেগুলোর পিছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবিচার, দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘন অনুভব করে, তখনই তারা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে। প্রয়োজনে শত্রুর বুলেটের সামনে বুক পেতে দাঁড়াতেও দ্বিধাগ্রস্ত হয় না। 'গণঅভ্যুত্থানের কথা' প্রবন্ধের মূল বিষয় ছিল সকল প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন ও বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তির জন্য প্রতিবাদ। যুগ যুগ ধরে অত্যাচারিত, শোষিত সাধারণ জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নেমে কীভাবে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল তার স্বরূপ এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকের 'ফরাসি বিপ্লব'টিও ছিল তেমনই এক প্রতিবাদী সংগ্রাম। রাজপুরুষদের দ্বারা শত শত বছর ধরে নির্যাতিত, শোষিত সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এখানে। দেশের সর্বস্তরের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেয়। বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে যেমন ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো হয়, তেমনই 'ফরাসি বিপ্লবেও অনেক মৃত্যুর বিনিময়ে জনতার জয় হয়, রাজতন্ত্রের কবল থেকে ফ্রান্স মুক্ত হয়। তাই ফরাসি বিপ্লব মানব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
উদ্দীপকের ফরাসি বিপ্লবের আন্দোলনকারীদের ভূমিকার সঙ্গে 'গণঅভ্যুত্থানের কথা' প্রবন্ধে উল্লিখিত বাংলাদেশের তিনটি গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।
সমাজে যখন অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, শাসকগোষ্ঠী জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখনই জনগণ জেগে ওঠে। অধিকার আদায়ের জন্য তারা রাস্তায় নেমে আসে। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তারা শোষণকারী শাসকগোষ্ঠীকে নির্মূল করে।
দেশের যেকোনো ক্রান্তিকালে ছাত্র-জনতার ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শাসকগোষ্ঠী যখন স্বৈরাচারী হয় তখন দীর্ঘদিনের শোষণে অতিষ্ঠ জনতা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। তারা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় একতাবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমনই তিনটি বড় গণঅভ্যুত্থান হয়- ১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে। ১৭৮৯ সালে সংঘটিত 'ফরাসি বিপ্লব'ও ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। অত্যাচারী শোষকগোষ্ঠীর হাত থেকে বাঁচার জন্য ছাত্র-জনতা নেমে এসেছিল রাস্তায়।
উদ্দীপকের ফরাসি বিপ্লবের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের সাদৃশ্য রয়েছে। ফরাসি বিপ্লবের সময় অত্যাচারী রাজপুরুষদের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষ পথে নেমে আসে। তাদের দমন করার জন্য শাসকেরা বাস্তিল দুর্গে বন্দি করে তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। ফলে দেশের সব মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। তেমনই বাংলাদেশেও তিনটি অভ্যুত্থান ঘটে। ছাত্ররা শুরুতে প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর স্বৈরাচারী শাসক গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করে। ফলে দীর্ঘদিনের শোষিত, নির্যাতিত সাধারণ জনতাও মাঠে নামে। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধে কোণঠাসা স্বৈরাচারী শাসক হার মানতে বাধ্য হয়। অনেক প্রাণের আত্মবলিদানে স্বৈরাচারমুক্ত হয় দেশের মানুষ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ফরাসি বিপ্লবের আন্দোলনকারীরা যেন বাংলাদেশের তিনটি গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদেরই প্রতিরূপ।
১৯৬৮ সালের শেষ দিকে আইয়ুব খানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অপশাসনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯৮২ সালে একটি নির্বাচিত সরকারকে জোর করে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসেন স্বৈরাচারী শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার দীর্ঘ নয় বছরের শাসনামলে তিনি দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করেন, বিরোধী দলগুলোর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালান এবং স্বৈরশাসন কায়েম করেন। ফলে সেই সময় দেশজুড়ে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!