নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যসংখ্যা ৫টি। যথা- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন।
আটলান্টিক চার্টার হলো একটি সম্মেলন বা সনদ যা ১৯৪১ সালে ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে এ সম্মেলন বা সনদ হয় বলে এটিকে আটলান্টিক চার্টার বলা হয়। এ সম্মেলনের আয়োজক ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। বৈঠক শেষে এ দুই নেতা যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ঘোষণা দেন তাকে আটলান্টিক চার্টার নামে অভিহিত করা হয়। এটি ছিল জাতিসংঘ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শান্তিপুরের সাথে জাতিসংঘের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শান্তিপুরের শান্তি বিনষ্ট হলে গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো একটি শান্তিসংঘ গঠন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে বিবদমান বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে যা শান্তিসংঘের সাদৃশ্য রয়েছে। একই শতাব্দীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাত্মক পরিণতি সমগ্র মানবজাতিকে ভাবিয়ে তলেছিল এবং তারা শান্তির সন্ধানে ব্রতী হয়ে উঠেছিল। ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত করে। যার প্রেক্ষিতে ১৯৪৫ সালে ২৪ অক্টোবর জন্ম নেয় বিশ্ব শান্তি সংস্থা বা জাতিসংঘ। এর সদর দপ্তর আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত। এর ৬টি শাখা রয়েছে যার মাধ্যমে এটি তার কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে। বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যা। ১৯৫টি স্বাধীন দেশ।
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে জাতিসংঘের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
বর্তমানে জাতিসংঘের গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের সুফল বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রই ভোগ করছে। জাতিসংঘ যে কাজটি করে সবচেয়ে সফল তা হলো দুটি বা একাধিক রাষ্ট্রের ভিতরকার বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন করা। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠালগ্নে সারা বিশ্ব দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। ফলে সর্বক্ষণ একটি যুদ্ধভাব বিরাজ করছিল। এর মাঝে জাতিসংঘ মধ্যস্থতা করে সে সংকট নিরসন করে যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বিশ্বকে রক্ষা করে। জাতিসংঘ ১৯৬২ সালে কিউবা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধে এ অগ্নি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার উপক্রম দেখা দেয়। ১৯৬৫ সালে ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে মার্কিন হামলা, ১৯৬৮ সালে সাইপ্রাস সমস্যা ইত্যাদি একের পর এক সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ ভূমিকা পালন না করতে পারলে বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্মুখীন হয়ে পড়ত। সুতরাং বলা যায়, জাতিসংঘ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বারবার ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
Related Question
View All১৯৪৭ সালের ৫ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ সি. মার্শাল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করেন। মার্শালের এ নীতি ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য, হতাশা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো দেশ বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, ইউরোপকে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মার্শালের এ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা বিশ্ব ইতিহাসে 'মার্শাল পরিকল্পনা' নামে অভিহিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো জাতিসংঘ।
বিশ্ব ইতিহাসে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার আশার আলো প্রজ্বলিত করে জাতিসংঘ জন্মলাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু ১৯৩৮ সালের মধ্যেই লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এক প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। একদিকে জাপান, ইতালি ও জার্মানির আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ এবং অপরদিকে যৌথ নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা পালনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ব্যর্থতা, যুক্তরাষ্ট্রর বিচ্ছিন্ন থাকার নীতি এবং সোভিয়েত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে বাইরে থাকার নীতি প্রভৃতি কারণে লীগের সমাধি হয়। ১৯৩৯ সালের মধ্যে বৃহৎ শক্তিবর্গ বিভিন্ন জোট গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অধিকতর ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে মানুষ আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ববাসী একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই মিত্রশক্তির নেতারা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ভাবতে থাকেন। তারা ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও তার ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে এক বিশ্ব সম্মেলনে জাতিসংঘের সনদ উত্থাপিত হয়। পরিশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি দেশ জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষর করে এবং এ চার্টার স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথে জাতিসংঘ কার্যকরী রূপ লাভ করে। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির অর্থাৎ জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল নীরব বা নেতিবাচক।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্য মুজিবনগর সরকার তার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তৎপর হয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের এই স্বীকৃতির দাবি অযৌক্তিক ছিল না। কেননা, একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবই বাংলাদেশ পূরণ করেছিল। তবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই তার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে যে সমস্যাটি ছিল তা - হলো এর সনদের ২/৭ ধারা। এই ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম দেশগুলোর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদসা হিসেবে যোগদান করে।
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা একটি সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে আর্টলান্টিক সনদ বা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!