আইনের মূলকথা হলো- আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।
আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়মকানুনকে বোঝায়, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ আইন সমাজের মানুষকে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে থেকে কাজ করার অনুমোদন দেয়। আর এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা এবং নাগরিকের সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠা। সুতরাং বলা যায় যে, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যাতে সুখে-শান্তিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে, সেজন্য আইন প্রণয়ন
উদ্দীপকের সংঘটির নির্ধারিত নিয়মনীতিকে একটি রাষ্ট্রের আইনের সাথে তুলনা করা যায়। একটি দেশের আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়মকানুনকে বোঝায়। যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এ আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়। আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। পৃথিবীর সব আইনের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যেমন-আইন সমাজের বাইরের মানুষের জন্য অর্থহীন। যেমন নিঃসঙ্গ সাধক ফকিরের নিকট আইনের কোনো প্রয়োজন নেই। আইন মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণের সাথে যুক্ত। ধ্যানধারণার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন কেউ যদি অসৎ চিন্তা করে তা আইনের আওতায় আসে না। আইন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কর্তৃক সমর্থিত। তাই আইন ভঙ্গকারীর জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকে আর আইনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। আর উদ্দীপকের ক্লাবটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো একটি রাষ্ট্রের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই আইনের উৎপত্তি হয়েছে।
উদ্দীপকের বুলারাটি তরুণ সংঘটির জন্য নির্ধারিত নিয়মনীতি ক্লাবের মধ্যে যেমন শৃঙ্খলাবোধ ফিরিয়ে এনেছে তেমনি এনে দিয়েছে সামাজিক স্বীকৃতি। কিন্তু এর পূর্বে অর্থাৎ যখন এর কোনো নিয়মনীতি ছিল না তখন যে যার ইচ্ছেমতো তাদের কার্যাবলি পরিচালনা করত। কিন্তু নিয়মনীতি নির্ধারিত হওয়ার পর তা একটি শক্তিশালী সংঘে পরিণত হয়েছে। এটি গ্রামের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়টি একটি রাষ্ট্রের জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা বা কার্যকারিতার বিষয়টি প্রমাণ করে। কারণ আইন তৈরি হয় মানুষ এবং সমাজের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। আইন প্রণয়ন করা হয় মানুষের মঙ্গলের জন্য। আইনের ব্যতিক্রম সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যদি তাদের খেয়াল-খুশিমতো অসামাজিক কার্যাবলিতে লিপ্ত হয়, তাহলে দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে চলে যায়। আইনের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং আইন হলো রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ। স্বাধীনতার রক্ষাকর্তা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রেখে মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ সাধনের জন্য এ আইনের বিকল্প নেই। সেই সাথে প্রয়োজন আইন প্রয়োগের জন্য কার্যকরী প্রতিষ্ঠান।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!