গত ৯ই জানুয়ারি ২০১৮, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় মো. বায়েজিদ নামে ৮ বছরের এক শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল। র‍্যাব ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ই ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বায়েজিদের অপহরণকারীদের গ্রেফতার করে। অপহরণকারীরা শিশু বায়েজিদকে অপহরণের স্বীকারোক্তিসহ নানা লোমহর্ষক অপরাধের বর্ণনা দেয়। উল্লেখ্য এ চক্রটি শিশুদেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও বিদেশে পাচার করত।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

সামাজিক আইন সমাজের স্বাভাবিক গতিধারাকে টিকিয়ে রাখে।

উত্তরঃ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন-২০০৩ এ তদন্তের সময়সীমা সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এই আইনের আওতায় কোনো অপরাধ সংঘটনের সময় পুলিশ বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে হাতেনাতে ধরা পড়লে অপরাধ সংঘটনের ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর অপরাধ সংঘটনের সময় ধরা না পড়লে সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত সম্পন্ন করবেন। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল তদন্তের সময়সীমা অনধিক আরও ৩০ দিন বৃদ্ধি করতে পারবে।

উত্তরঃ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ এর আওতায় র‍্যাব বায়েজিদের অপহরণকারীদের বিচার দাবি করতে পারে।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা প্রদান ও নির্যাতন রোধে বাংলাদেশে ১৯৮৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এসব আইন কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। তাই নতুনভাবে প্রণীত মূল আইনের সংশোধনী এনে ১৩ জুলাই ২০০৩ সালে পাস করা হয় 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধনী) আইন ২০০৩'। বায়েজিদের অপহরণকারীদের বিচার এ আইনের আওতায় হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের ৮ বছর বয়সী বায়েজিদকে অপহরণ করে একটি শিশু অপহরণ চক্র। এ চক্রটি শিশুদেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও বিদেশে পাচার করত। ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইনে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, নীতিবহির্ভূত কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে কোনো নারী ও শিশুকে পাচার করা হলে পাচারকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। এছাড়া সে. অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে। আবার মুক্তিপণ আদায় করার উদ্দেশ্যে যদি কোনো নারী বা শিশুকে আটক করা হয় তাহলে আটককারীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড হবে। সুতরাং দেখা যায়, র‍্যাব বায়েজীদের অপহরণকারীদের শাস্তি বা বিচারের জন্য ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইনের সহায়তা নিতে পারে।

উত্তরঃ

উক্ত আইন অর্থাৎ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন-২০০৩ অনুযায়ী পাচারকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এমনকি অতিরিক্ত অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন-২০০৩ এ বলা হয়েছে নারী ও শিশু পাচার করার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্যূন ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এ আইনে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিপণ আদায় করার উদ্দেশ্যে যদি কোনো শিশু বা নারীকে আটক করা হয় তাহলে আটককারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এমনকি অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। উদ্দীপকের পাচারকারীদেরও এ ধরনের শাস্তি হবে। উদ্দীপকে দেখা যায়, অপহরণকারীরা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মো. বায়েজিদ নামক ৮ বছরের শিশুকে অপহরণ করে। র‍্যাব অভিযান চালিয়ে এই অপহরণকারীদের গ্রেফতার করে। জানা যায়, এই অপহরণকারীরা শিশুদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও বিদেশে পাচার করত। এই অপরাধের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন-২০০৩ অনুযায়ী পাচারকারীদের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এমনকি অতিরিক্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বা যায় যে, উক্ত আইন অর্থাৎ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন-২০০৩ অনুযায়ী পাচারকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

61

Related Question

View All
উত্তরঃ

সামাজিক সমস্যা হলো এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতি যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

281
উত্তরঃ

পাত্র-পাত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে বা বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যে উপঢৌকন দিয়ে থাকে তাকে যৌতুক বলে। এখানে উপঢৌকন বলতে বাড়িঘর, জায়গা-জমি, নগদ অর্থ বা যেকোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে।

588
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।

বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়েকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। সে অনুযায়ী পাত্র বা পাত্রীর বয়স এর কম হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাল্যবিবাহ আমাদের দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। তবে এ সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কুমিল্লার লালমাই থানায় দাপাড় গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন যা উপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে ঐ এলাকার একজন সমাজকর্মী অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়াকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সমাজকর্মের পদ্ধতি অনুশীলন করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।

209
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাল্যবিবাহ ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক সমস্যা, যেমন- নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধের মতো সমস্যা সমাধান করা যায়।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিয়ের সময় কন্যাপক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করা হচ্ছে। আবার, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এছাড়া মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, সঙ্গদোষ, কৌতূহল, হতাশা প্রভৃতির কারণে যুবকবয়সীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের পদ্ধতি ও কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এতে সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি সমস্যাগুলো দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় সামাজিক আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। একইসাথে সরকার প্রণীত আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারলে এ সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন, যা ওপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে এলাকায় কর্মরত সমাজকর্মী সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের সমস্যা চিহ্নিতকরণ সচেতনতা সৃষ্টি আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ আইন প্রণয়ন আইনের বাস্তবায়ন পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছেন। একইভাবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ প্রভৃতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়।

221
উত্তরঃ

১৯৮৩ সালের নারী নির্যাতন আইন নারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর অনেকগুলো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন- নারীর মানসিক নির্যাতনের শাস্তি এ আইনে নেই। এছাড়া যৌতুক আদায়ের জন্য যে অপরাধ করা হয় তা প্রতিরোধে যে আইনি বিধান রাখা হয়েছে তা কঠোর কিন্তু যৌতুক লেনদেনের ব্যাপারে তেমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ আইনে নারী নির্যাতন প্রতিকারে শাস্তির বিধান করলেও বিবাহ ভাঙনজনিত পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকার এবং স্বার্থরক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া নির্যাতিত নারীসমাজের এক বিরাট অংশই এ আইনের আলো থেকে বঞ্চিত। এর কার্যকারিতার অভাবে দেশে নারী নির্যাতন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

475
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews