'গ' এর উত্তর অনুযায়ী, গনি মিয়া যেহেতু তার জমি হতে বাষ্পীভবন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করে তাই লবণে বালি থাকাই - স্বাভাবিক। এজন্য তাকে লবণ-বালির মিশ্রণ থেকে পরিষ্কার লবণ পেতে সল্ট রিফাইনিং মেশিনের মাধ্যমে পরিশ্রুত করে নিতে হয়। এজন্য প্রথমে মিশ্রণটি একটি স্বীকারে নিয়ে তাতে পানি যোগ করে - নাড়তে হয়। লবণ পানিতে দ্রবণীয় বলে লবণ পানিতে মিশে যাবে এবং বালি বীকারের নিচে তলানি হিসেবে জমা থাকবে। এবার একটি ফানেল নিয়ে তাতে একটি ছাঁকন কাগজ বসিয়ে দেওয়া হয়। এখন 'ফানেলটিকে একটি স্ট্যান্ডের সাথে আটকিয়ে ফানেলের নিচে একটি খালি বীকার বসানো হয়। একটি গ্লাস রড এর সাহায্যে বালি মিশ্রিত পানি নাড়তে থাকলে পানি বীকারে জমা হবে এবং ছাঁকন কাগজে বালি আটকে থাকবে।
সম্পূর্ণরূপে বালি পৃথক করতে হলে পরিসুত দ্রবণকে পুনরায় ছাঁকন কাগজ এর মধ্য দিয়ে ছেঁকে আরও অধিক স্বচ্ছ পরিসুত সংগ্রহ করা হয়। এবার বীকারের স্বচ্ছ পরিসুত দ্রবণকে তাপ দিতে থাকলে পানি আস্তে আস্তে বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যেতে থাকবে এবং সম্পূর্ণ পানি বাষ্পীভূত হয়ে গেলে বিকারের তলায় লবণের দানা পড়ে থাকবে। এ লবণকে রোদে শুকিয়ে শুদ্ধ লবণ সংগ্রহ করা হয়।
উপরিউক্ত পদ্ধতিতে গনি মিয়ার উৎপাদিত বালি মিশ্রিত লবণ থেকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার লবণ পাওয়া যায়।
Related Question
View Allদুই বা ততোধিক পদার্থকে এক সাথে মিশালে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলে।
সার্বজনীন দ্রাবক বলতে সেই সমস্ত দ্রাবককে বুঝায় যারা সব রকমের পদার্থকে দ্রবীভূত করে। তবে বাস্তবে সকল পদার্থকে দ্রবীভূত করার মতো কোনো দ্রাবক নেই। তবে পানি এমন একটি দ্রাবক যা অনেক পদার্থকে সহজেই দ্রবীভূত করতে পারে। অন্যকোনো দ্রাবকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সিলিকা ইত্যাদি জৈব যৌগ, স্পিরিট, এসিটোন, এসিটিক এসিড ইত্যাদি গ্যাসীয় পদার্থ সবগুলোকেই পানি দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ পানিই এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র সার্বজনীন দ্রাবক।
রূপত্তিকে দেখানো প্রিয়ন্তির উপাদানটি হলো লবণ, 'যা সমুদ্রের পানি থেকে প্রস্তুত করা হয়। নিচে রেখা চিত্রের মাধ্যমে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ প্রস্তুত প্রণালি দেখানো হলো-

উদ্দীপকের দ্রবণটি হলো লবণ ও পানির দ্রবণ। এ দ্রবণ হতে লবণ ও পানি দুটো উপাদানই আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব। লবণকে সহজেই পরিস্রাবণ পদ্ধতির সাহায্যে আলাদা করা যায়। পানি পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। প্রথমে দ্রবণকে ছাঁকন কাগজের সাহায্যে ছেঁকে পানিতে থাকা বালি ময়লা এবং লবণাক্ত পানি আলাদা করা হয় যা ক চিত্রে দেখানো হয়েছে।

এরপর পানিকে পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে আলাদা করা যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১টি ১টি পাতন যন্ত্র, ৫০০ মি. লি. লবণাক্ত পানি।
পদ্ধতি: খ চিত্রের মতো পাতন যন্ত্রটিকে সাজিয়ে 'গোলতলী ফ্লাক্সে লবণাক্ত পানি নিই। পাতন যন্ত্রটির পানি প্রবেশের নলটি একটি পানির ট্যাপের সাথে যুক্ত করে পানি প্রবাহ চালু করি। পানি নির্গমন নলের সাথে একটি প্লাস্টিকের পাইপ যুক্ত করে বেসিনে রাখি এবং বৈদ্যুতিক হিটারে তাপ দিই। বাষ্পীভূত পানি শীতকের সরু নলের মধ্য দিয়ে গোলতলী ফ্লাক্সে জমা হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর পর্যবেক্ষণ করি, দেখতে পাই যে, বিশুদ্ধ পানি জমা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় দ্রবণের লবণ পাত্রের তলায় জমা হয়।
যে মিশ্রণের বিভিন্ন অংশে তার উপাদানসমূহ বিভিন্ন অনুপাতে থাকে এবং একাধিক বস্তুর অস্তিত্ব সহজে বুঝা যায় তাকে অসমসত্ত্ব মিশ্রণ বলে।
কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম দ্রাবক নিয়ে কোনো দ্রবের সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করতে যতটুকু দ্রবের প্রয়োজন হয় তাকেই ঐ দ্রাবকে ঐ দ্রবের দ্রবণীয়তা বলে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ৩৬ গ্রাম লবণকে দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ এ তাপমাত্রায় পানিতে লবণের দ্রবণীয়তা হলো ৩৬। আবার ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানিতে চিনির দ্রবণীয়তা হলো ২১১.৪। অর্থাৎ এ তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ২১১.৪ গ্রাম চিনি দ্রবীভূত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
