সমাজে প্রচলিত আইন-কানুন, মূল্যবোধ ও রীতি-নীতির পরিপন্থি আচরণকে বিচ্যুত আচরণ বলে।
কিশোর অপরাধ হচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ।
কিশোর-কিশোরী কর্তৃক সংঘটিত সামাজিক মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি যেকোনো কাজকেই কিশোর অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। দারিদ্র্য, পারিবারিক অশান্তি, কুরুচিপূর্ণ চলচ্চিত্র, অসৎ সঙ্গ প্রভৃতি কারণে কিশোর- কিশোরীরা নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের শান্তর অপরাধী হওয়ার কারণ আর্থিক অনটন বা দুরবস্থা।
অপরাধের অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। এ প্রসঙ্গে জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস বলেন, পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই হলো অপরাধ। অপরাধের এ অর্থনৈতিক কারণের পেছনে যে দুটি বিষয় মুখ্য ভূমিকা পালন করে তা হলো- দারিদ্র্য এবং বেকারত্ব। দারিদ্র্যের কারণে সাধারণত ছোটখাটো চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি ঘটে। আবার বেকারত্ব অনেকের জীবনে হতাশা এনে দেয়। এই হতাশাগ্রস্ত মানুষগুলো ছিনতাই, খুন, রাহাজানি ইত্যাদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যেমনটি উদ্দীপকের শান্তর বেলায় ঘটেছে।
উদ্দীপকের শান্ত পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেয়ে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই হতাশা থেকে সে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এটি অপরাধের অর্থনৈতিক কারণ। তাই বলা যায়, শান্তর অপরাধী হওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
উদ্দীপকের শান্তর মতো অনেকের অপরাধী হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক অনটন সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
প্রবাদ আছে, 'অভাবে স্বভাব নষ্ট।' সমাজের সিংহভাগ অপরাধীর জন্ম দরিদ্র পরিবারে। অভাব-অনটন দূর করতে অনেকে চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি অপরাধে লিপ্ত হয়। আবার অভাবের কারণে মানুষ বদমেজাজি হয়ে ওঠে এবং সহজেই দাঙ্গা, হাঙ্গামা, খুন প্রভৃতি সংঘটনে উদ্যত হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যেসব মেয়েরা পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত তাদের সিংহভাগ অভাবগ্রস্ত, দরিদ্র পরিবারের সদস্য।
বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক ড. নাজমুল করিম বলেন, গরিবদের ভেতরই বেশিরভাগ অপরাধী পাওয়া যায়। অপরাধের অর্থনৈতিক কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামান দাশনিক কার্ল মার্কস বলেন, পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ। অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা দিলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়।
উপরের আলোচনা ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, উদ্দীপকের শান্তর মতো অপরাধী হওয়ার জন্য অর্থনৈতিক কারণের সক্রিয় প্রভাব রয়েছে।
Related Question
View Allধর্মের উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি মতবাদ হলো সর্বপ্রাণবাদ।
ধর্ম হলো পবিত্র বস্তু সম্পর্কিত কতগুলো বিশ্বাস ও প্রথার সমষ্টি ।
মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই অতিমাত্রায় কোনো শক্তির উপর ভর বা বিশ্বাস করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। ধর্ম জ্ঞান অপেক্ষা বিশ্বাস দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত। বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির আশায় মানুষ প্রার্থনা করে। ধর্ম যেহেতু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত সেহেতু এটি মানসিক শান্তি প্রদান করে।
উদ্দীপকে সংঘটিত অপরাধের জন্য অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
অপরাধের একটি অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। যেমনটি মার্কস বলেছেন পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা গেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। গরিব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অপরাধী বেশি দেখা যায়। কারণ ধন-সম্পদের অধিকারীরাই আইন প্রণয়ন করে এবং অপরাধীদের বিচার তাদের এখতিয়ারে। তাই তারা অপরাধ করেও শাস্তি ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারে। আর গরিবরা অনেক সময় আর্থিক কারণে অপরাধ করে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেমন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে তেমনি অত্যধিক ধন লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকেও অপরাধ সংঘটিত হতে পারে আর্থ- সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষের একটি অংশ তাদের পেশাগত কাজের মাধ্যমে অপরাধ করে থাকে যাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। যেমন- ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি।
উদ্দীপকের রহমত তার স্বল্প উপার্জনে পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে সক্ষম হলেও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচ চালাতে ব্যর্থ হয়। বাবার চিকিৎসার অর্থ যোগানের জন্যই সে টাকা চুরি করে। অতএব এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রহমতের অপরাধ সংগঠনের পিছনে অর্থনৈতিক কারণটিই দায়ী।
উদ্দীপকে রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সমাজজীবনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জানো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি সমাজে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রচলিত থাকে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত দুটি মাধ্যমে তথা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে হতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আইন, প্রথা প্রভৃতি মাধ্যম ভূমিকা রাখে। সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের আদর্শ, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, জীবনযাপন পদ্ধতি ব্যক্তির জীবনে স্থায়ী ছাপ ফেলে যা সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরেকট গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের ভেদাভেদ শেখায় এবং তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক আদর্শ-মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ফলশ্রুতিতে মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ, রীতি-নীতি সমাজ কাঙ্ক্ষিত পন্থায় গড়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। সুষ্ঠু সমাজজীবনের স্বার্থে একটি সমাজে আইন ব্যবস্থা প্রচলিত হয়। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীর শাস্তির বিধান করা হয়, যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এছাড়া এসকল বিষয় ছাড়াও ব্যক্তির নিজস্ব মূল্যবোধ, আদর্শ, রীতি-নীতির পাশাপাশি সমাজের আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, লোকাচার ও লোকরীতি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন প্রকৃতি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
উদ্দীপকে রহমত টাকা চুরি করার পর পত্রিকায় একজন রিকশাচালকের সততার সংবাদ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়। যার ফলে সে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করা টাকা পুনরায় নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিবে। রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে তার নিজস্ব মূল্যবোধ, রীতি-নীতি, আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, প্রচার মাধ্যম ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে সমাজে বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিদ্যমান।
"সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের।
সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপঞ্জ বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্চ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার- বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!