'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের গল্পকথক ভুল করে ভুল চৌধুরী বাড়িতে উপস্থিত হলেও সেখানে তার ভ্রমণ ছিল আনন্দময়। সেই বাড়িতে তার সমবয়সি ছেলেরা তাকে নিয়ে পদ্মবিলে পাখি শিকারে যায়। পাখি শিকারে গিয়ে তার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়।
'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের গল্পকথকের মেজোমামার বিয়ে। পরীক্ষার কারণে সেই বিয়েতে বিচ্ছিন্নভাবে অংশ নিতে গিয়ে সে উপস্থিত হয় ভুল বিয়েবাড়িতে। সেই বাড়ির লোকজন তাকে আন্তরিকভাবেই গ্রহণ করে। বরের ভাগ্নে হিসেবে আদর-আপ্যায়ন করে। সেই বাড়ির ছেলেরা তাকে নিয়ে পাখি শিকার করতে যায় বিলে। বিলটির নাম পদ্মবিল হলেও সেখানে পদ্ম ছিল না। স্থানে স্থানে শাপলা আর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ছিল শুধু। শিকারের নামে প্রাণী হত্যা মন্দ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেও তার রেহাই হয় না। বুলু-টুলুরা চার-পাঁচটা বক মারার পরেই গল্পকথকের হাতে বন্দুক দিয়ে শিকার করতে বলে। গল্পকথক না চাইলেও জোর করে তাকে শুট করতে হয়। সে শুট করতে জানে না। তবুও জোর করে শুট করতে হলে কম্পিত হাতে ট্রিগার চাপে। সেই গুলি গিয়ে লাগে বাঁ পাশে কিছুটা দূরে দাঁড় করিয়ে রাখা তাদের মোটরকারের চাকায়। সশব্দে চাকাটি ফেটে যায়। বুলু-টুলু গাড়ির পিছন থেকে বাড়িত চাকা এনে লাগিয়ে নেয়। অতঃপর তারা বাড়ি ফেরে।
গল্পকথকের অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ ও পাখি শিকারের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্নরকম অভিজ্ঞতার। বন্দুক চালানোর অনভিজ্ঞতা নিয়েও শুট করেছিল। যার গুলি লেগে গাড়ির চাকা ফেটে গিয়েছিল।
Related Question
View All'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের গল্পকথক একটি কিশোর ছেলে হওয়ায় ট্রেনের ভদ্রলোক তাকে সহানুভূতির চোখে দেখেন। তাদের গন্তব্য একই জায়গায় হওয়ায় তাদের মধ্যে একটি আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে যার প্রকাশ ঘটে।
'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের কিশোর ছেলেটির মেজোমামার বিয়ে। স্কুলে পরীক্ষা থাকার কারণে সে পরিবারের বাকি সবার সাথে মামাবাড়ি যেতে পারে না। ছোটোমামা তাকে সরাসরি কনের বাড়িতে উপস্থিত হওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। তার পরামর্শ অনুযায়ী গল্পকথক সরাসরি কনের বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। তার ট্রেন দুপুর সাড়ে বারোটায়। সাড়ে এগারোটায় সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখে ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে ওঠে। কিশোরটি যে কামড়ায় চড়ে, সেখানে বেশি ভিড় ছিল না। একজন ভদ্রলোক তাকে ডেকে পাশে বসায়। এরপর দুজনের মধ্যে রসাত্মক ও আন্তরিক একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে চেপে কিশোরটি পাশে থাকা ভদ্রলোকের ঘড়িতে দেখতে পায় কেবল বারোটা বাজে। তার ট্রেন ছিল সাড়ে বারোটায়। ভদ্রলোকের ঘড়িতে সময় বারোটা দেখালে সে দ্বিধান্বিত হয়। ভদ্রলোকের ঘড়ির সময় সম্পর্কে সে সন্দিহান হয়ে পড়ে। ঘড়ি সচল নাকি অচল এই বিষয়ে ভদ্রলোকের কাছে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে পরবর্তী কথোপকথন রসাত্মক হয়ে ওঠে। বয়স্ক একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে কিশোর একটি ছেলের মধ্যে অনায়াস ও কৌতুকপূর্ণ কথোপকথন তাদের উভয়ের আন্তরিকতার পরিচয় দেয়। পরবর্তীকালে কিশোরটি তখন তার ছোটোমামার ট্রেনের সময় নির্ধারণে ভুল হতে পারে ভেবে নেয়। এরপর ভদ্রলোকের সাথে গল্পকথকের আলাপচারিতায় প্রকাশ পায় তারা একই গন্তব্যে যাচ্ছে।
সেই স্টেশন থেকে পরবর্তী গন্তব্যের কথা জানতে চাইলে চৌধুরীদের প্রসজা আসে। কিশোরটির মেজোমামা সেখানকার চৌধুরীদের মেয়ে বিয়ে করছেন। কিশোরটি সেই চৌধুরী বাড়িতে যাচ্ছে। ভদ্রলোক জানান, তিনিও চৌধুরী বাড়িতেই যাচ্ছেন। চৌধুরী তার আত্মীয় হন। তার মেয়ের বিয়েতে যোগদানের জন্য তিনি যাচ্ছেন। ভদ্রলোক ও কিশোরটির গন্তব্য একই জায়গায়, একই বাড়িতে হওয়ায় তাদের মধ্যে আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়।
পরিশেষে বলা যায়, তাড়াহুড়ো করে ভুল ট্রেনে চেপে বসলেও সেখানে একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে সহজ ও অনায়াস সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় গল্পকথকের পরবর্তী যাত্রা সহজ ও সুন্দর হয়। বয়সের ব্যবধান ঘুচে যায় উভয়ের সৌহার্দপূর্ণ মানসিকতায়। তাদের গন্তব্য একই জায়গায় হওয়ায় তাদের মধ্যকার আন্তরিকতা আরও বৃদ্ধি পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!