গল্পে উল্লিখিত পরিবেশ, সময় ও আবহাওয়ার বর্ণনা দাও। (বর্ণনামূলক প্রশ্ন)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

'কাকতাড়ুয়া' গল্পে উল্লিখিত পরিবেশ, সময় ও আবহাওয়া সম্পর্কে নিচে বর্ণনা করা হলো-

'কাকতাড়ুয়া' গল্পে উল্লিখিত সময়টা হলো মাঘ মাস। অর্থাৎ তখন শীতকাল। পেট্রোল ফুরিয়ে গিয়ে মৃগাঙ্কবাবুর গাড়ি যেখানে থামে তার নাম পানাগড়। তবে পানাগড় বন্দর থেকে স্থানটি তিন মাইল দূরে। বন্দর এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় এই স্থানে কোনো জনবসতি নেই। চারদিকে শুধু ধু-ধু মাঠ। আর তাদের গাড়ি এসে পৌঁছেছে দুপুর সাড়ে তিনটায়। এসময় গ্রামের মানুষ গোসল, খাওয়া-দাওয়া সেরে বিশ্রাম নেয়। তাছাড়া এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় লোকজন নেই।

মাঘ মাস, তাই ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। অনেক দূরে একটি কুঁড়েঘর তেঁতুল গাছের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এটি রাস্তার পূর্ব পাশের দিক। আরও দূরে এক সারি তালগাছ দেখা যায়। তারপর যা কিছু আছে সবই যেন জমাট বাঁধা বন।

রাস্তার অন্য পাশেও বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। রাস্তা থেকে চল্লিশ পঞ্চাশ হাত দূরে একটি পুকুর রয়েছে। তাতে পানি তেমন নেই। দু-একটা বাবলা গাছ ছাড়া গাছপালা যা আছে সব দূরে। এ দিকেও দুটো কুঁড়েঘর রয়েছে তবে মানুষের চিহ্ন নেই। মাঘ মাস হলেও রোদের তেজ প্রখর। আকাশে মেঘ দেখা গেলেও এদিকে রোদ। মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটা কাকতাড়ুয়া।

সূর্য যত অস্ত যাচ্ছে মেঘগুলো তত মাথার ওপর আসতে শুরু করছে। ঠান্ডা বাতাস বাড়ছে। সূর্য অস্ত গেলে ঠান্ডা আরও বাড়তে শুরু করেছে। মাঠের মধ্যে যে শীতের ফসলি ক্ষেত রয়েছে, তারই মাঝখানে কাকতাড়ুয়াটা। কাকতাড়ুয়া কৃত্রিম হলেও পাখিরা সত্যিকার মানুষ ভেবে ভয় পায়। মেঘের ফাটল দিয়ে কাকতাড়ুয়ার গায়ে পড়ছে রোদ। এ সময় কাজ হয় না বলে গ্রামের মাঠে-ঘাটে লোকজন কম দেখা যায়। তাই এক রকম নির্জনতা কাজ করছে চারপাশে। রাস্তা দিয়ে কয়েকটা গাড়ি গেলেও কেউ মৃগাঙ্কবাবুকে ডেকে তার সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করে না। তাই তিনি চা খান ফ্লাস্ক থেকে বের করে।
'কাকতাড়ুয়া' গল্পে শীত মৌসুমে দুর্গম গ্রামের আবহাওয়া ও পরিবেশকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
181

Related Question

View All
উত্তরঃ

'কাকতাড়ুয়া' গল্পের শিক্ষণীয় দিকটি হলো চোর ধরার কাজে ওঝার সাহায্য নেওয়ার মতো কুসংস্কারকে পরিহার করা।

'কাকতাড়ুয়া' গল্পে সত্যজিৎ রায় কুসংস্কারের ক্ষতিকর দিকটি তুলে ধরেছেন। বিশেষ পরিবেশে মানব মনে বিচিত্র সব অনুভূতির প্রকাশ ঘটতে পারে। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মৃগাঙ্কবাবু। তার বাবার স্বর্ণের ঘড়ি হারিয়ে গিয়েছিল তিন বছর আগে। তাদের সন্দেহ হয় বিশ বছর তাদের বাড়িতে কাজ করা পুরাতন চাকর অভিরামকে। অভিরাম আসলে এসবের কিছুই জানত না। সে বারবার অস্বীকার করায় মৃগাঙ্কবাবুর বাবা চোর ধরার জন্য ওঝার সাহায্য নেন। ওঝা কুলোতে চাল ছুড়ে মেরে প্রমাণ করে দেয় যে, ঘড়ি অভিরাম নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে স্বর্ণের ঘড়িটি আলমারি খুলতে গিয়ে আলমারির নিচে পড়ে গিয়েছিল। তিন বছর পর মৃগাঙ্কবাবু অবচেতনে তা দেখতে পান। বাড়ি ফিরে দেখেন আসলেই ঘড়িটি আলমারির নিচে পড়ে আছে। এই গল্পের শিক্ষণীয় দিকটি এই যে, সন্দেহের বশে কারও ওপর দায় চাপাতে ওঝার সাহায্য নেওয়া ঠিক নয়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
399
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews