থুথুড়ে বুড়োর চোখের নিচে ছিল অপরাহ্ণের দুর্বল আলোর ঝিলিক।
"সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল" এই কথার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে সাকিনা বিবির স্বামীর মারা যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
এদেশের লাখো মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বর আক্রমণে শহিদদের একজন সাকিনা বিবির স্বামী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশের জন্য সাকিনা বিবির মতো গ্রামীণ নারীদের সহায়-সম্বল-সম্ভ্রম বিসর্জিত হয়েছে। সাকিনা বিবি এখানে মুক্তিযুদ্ধে স্বামী, সম্ভ্রম হারানো নারীদের প্রতিনিধি। প্রশ্নোক্ত কথাটিতে এই ভাবটিই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের 'ডান কাঁধ কামানের গোলায় ঝাঁঝরা' চরণটিতে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবির মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের দিকটি নির্দেশ করে।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। সেই অধিকার অর্জন করতে হলে মানুষকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। অনেক রক্ত ও অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি এ দেশ স্বাধীন করেছে।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী গহরের কথা বলা হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাঙালির ত্যাগ-তিতিক্ষার দিকটি এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় সাকিনা বিবি, হরিদাসীরা বিধবা হয়েছে; ছাত্রাবাস-বস্তি উজার হয়েছে। হানাদাররা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। বহু লোক আহত ও পঙ্গু হয়েছে। উদ্দীপকেও এই বিষয়টি লক্ষ করা যায়। গহর নামের লোকটি যুদ্ধে শহিদ হয়েও কবির চেতনায় চিরঞ্জীব হয়ে আছেন। তাঁর ডান কাঁধ কামানের গোলায় ঝাঁঝরা, বাম হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা, তবুও স্থির লক্ষ্যে সে ট্রেঞ্চের ভিতর যেন বসে আছে।
উদ্দীপকের 'গহর' আর 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার তেজি তরুণ একই আদর্শে উজ্জীবিত। মন্তব্যটি যথার্থ।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা দীর্ঘ নয় মাস শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের বুকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশের গহর এক সাহসী তেজোদীপ্ত তরুণ। তার ডান কাঁধ কামানের গোলায় ঝাঁঝরা হয়ে গেছে, বাম হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তবুও বন্দুক হাতে সে এক লক্ষ্যে ট্রেঞ্চের ভেতর বসে আছে। তার এই অবস্থান শত্রু নিধন, স্বাধীনতা অর্জন। কবি দিন গুনছেন স্বাধীনতার জন্য। 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় একইভাবে স্বাধীনতার স্বপ্নে তেজি তরুণ উজ্জীবিত। সে রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। কবি মনে করেন তার পদভারে একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে। সবাই সেখানে প্রতীক্ষায় আছে স্বাধীনতার জন্য।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কবি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের বিধ্বস্ত অবস্থা তুলে ধরেছেন। এখানে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে যা উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকের গহর এবং 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার তেজি তরুণ উভয়ই মুক্তি চেতনায় উজ্জীবিত।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!