ম্যাকাইভার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ছিলেন।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে যে সকল দল বা দলসমূহ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না তারাই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল পার্লামেন্টে বিতর্ক, সরকারের নীতির সমালোচনা, মুলতবি প্রস্তাব উপস্থাপন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে সংসদকে কার্যকর করে। সংসদের বাইরেও বক্তব্য, বিবৃতি ও সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে আইনের মধ্যে রাখতে বাধ্য করে। এছাড়া বিরোধী দল জনগণের সামনে সরকারের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসূচি তুলে ধরে। তাই বলা যায়, গঠনমূলক সমালোচনা এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করে বিরোধী দল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
উদ্দীপকের সিমিন হোসেন রিমি যে প্রক্রিয়ায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন পাঠ্যপুস্তকে এমন নির্বাচনের সাথে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মিল লক্ষ করা যায়।
পৃথিবীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশে দু প্রকার নির্বাচন পদ্ধতি চালু আছে। যথা- প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচন। যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটারগণ সরাসরি ভোেট প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বলা হয়। বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু রয়েছে। মূলত নির্বাচন হলো নাগরিকদের দেশ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি বাছাই প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থা। অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ায় বা পদ্ধতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দ অনুযায়ী প্রতিনিধি বাছাই করে তাকেই নির্বাচন বলে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে পার্লামেন্ট বা আইনসভা গঠিত হয়। বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর সিমিন হোসেন রিমি এভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত হয়েছেন।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, এ ধরনের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বিবিধ রকমের কার্যক্রম।
উদ্দীপকে যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তাতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যে ফুটে উঠেছে। সংসদ নির্বাচনের সুবিধার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার সাথে 'নির্বাচনি তফসিল' ঘোষণা করেন। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে প্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে মনোনীত হন। প্রধানত রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়েই প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয় অর্থাৎ নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত কাজকর্ম শুরু হয়। এ কাজের তালিকার মধ্যে আছে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, মনোনয়নপত্র বিতরণ, মনোয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাই, প্রার্থীদের প্রতীক বণ্টন, ব্যালট পেপার ছাপানো, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা করা, প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা, ব্যালট বাক্স বিতরণ করা, ভোট গ্রহণ, ভোট শেষে ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা অর্থাৎ নির্বাচনসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ।
পরিশেষে বলতে পারি, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং নিয়ন্ত্রণেই এ সকল কাজ সম্পাদিত হয়।
Related Question
View Allরাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেছেন, “যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।”
বাংলাদেশে নির্বাচনসমূহ পরিচালনার জন্য যে সাংবিধানিক সংস্থা রয়েছে তার নাম নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি আমার পঠিত পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। যেমনটি মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। মিতুলদের ক্লাবে অধিকাংশ সদস্যই সাধারণ সম্পাদক হতে চায়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে না চাওয়ায় অবশেষে সবাই মিলে কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে একজন সম্পাদক বাছাই করার জন্য। উক্ত ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তীতে তাদের ক্লাবের একজন সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এখানে সবাই মিলে সাধারণ সম্পাদক বাছাই না করে তারা কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে। আর সেই ক্ষমতাপ্রাপ্তরা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এটি পরোক্ষ গণতন্ত্রের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে।" উক্তিটি যথার্থই সঠিক।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হয়েছে পরোক্ষ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশ নেয়। কিন্তু মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়ায় যে দুর্বলতা কাজ করেছে তা হলো সততা ও নৈতিকতা বিচার না করে সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা। বাছাইকৃত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা থাকলে তাকে কিছু ব্যক্তির স্বার্থের জন্য বিতর্কিত হতে হতো না। অতএব, বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিজ স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। নির্বাচিত প্রার্থী যদি সততা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হয় তবে তিনি জনসমর্থন হারিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- 'গণতন্ত্র হলো, জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।'
যে নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোেট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!