যে জ্ঞানবোধ ও আচরণ সমাজ মূল্যবান ও অনুকরণীয় মনে করে, তাকে মূল্যবোধ বলে।
ব্যবসায় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা দ্বারা সমর্থনযোগ্য নয়, এমন কিছু করাকে অনৈতিক কাজ বলে।
ওষুধে ভেজাল দেওয়া, ওজনে কম দেওয়া, নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা প্রভৃতি ব্যবসায়ের অনৈতিক কাজ। এসব কাজ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর ব্যবসায়ী অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে বেশি দিন ব্যবসায়ে টিকতে পারে না। শুরুতে বেশি মুনাফা অর্জিত হলেও পরবর্তীতে ঐ ব্যবসায়ে গ্রাহকের আস্থা থাকে না। ফলে ব্যবসায়ীকে লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। তাই ব্যবসায়ে অনৈতিক কাজ পরিহার করা উচিত।
উদ্দীপকে বায়ু দূষণের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
স্বাভাবিক উপাদানের বাইরে বায়ুতে ধোঁয়া, গ্যাস, ধুলাবালি, সিসা প্রভৃতি যুক্ত হলে বায়ু দূষণ হয়। শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় বায়ু দূষণ হচ্ছে। বায়ুতে মিথেন গ্যাস ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের ফলে গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অবস্থিত শিল্পকারখানার ধোঁয়া যথাযথভাবে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে সেখানকার প্রতিটি ঘরের টিনের চালায় মরিচা পড়েছে। ঐ এলাকার শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন রোগে ভুগছে। শিল্পকারখানা থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর ধোঁয়া বায়ুতে মিশে যাওয়ার ফলে এ ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সুতরাং, কারখানার ধোঁয়া যথাযথভাবে নিষ্কাশন না করায় তা পরিবেশের সাথে মিশে বায়ু দূষণের সৃষ্টি করেছে।
কাপাসিয়ার বায়ু দূষণের ফলে পরিবেশ দূষণ সমস্যা সমাধানে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি।
শিল্প স্থাপন কোনো দেশের অগ্রগতিতে প্রধান ভূমিকা রাখে। কিন্তু, পরিবেশ দূষণ শিল্পের উন্নতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। তবে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে পরিবেশের ওপর শিল্পের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অবস্থিত শিল্পকারখানায় ধোঁয়া নিষ্কাশনের যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। ফলে সেখানে শিল্পকারখানার নিঃসৃত ধোঁয়া বাতাসের সাথে মিশে যাচ্ছে। এতে সেখানে বায়ু দূষণ হচ্ছে। এর মূল কারণ বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের অভাব। গাজীপুরের কাপাসিয়ার বায়ু দূষণ রোধে স্থানীয় প্রশাসনের উচিত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু, শুধু আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। আর বিশেষভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠানে যথাযথ ধোঁয়া নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিলে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে। সুতরাং, শুধু আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়, সবার দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গাজীপুরের কাপাসিয়ার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
Related Question
View Allইথস শব্দের অর্থ মানব আচরণের মানদণ্ড।
পণ্যের মজুতদারি না করা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীকে মুনাফা বাড়ানোর জন্য অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েই ব্যবসায়ের উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি হয়। তাই মজুতদারি না করে সমাজে সঠিকভাবে পণ্য বণ্টন করা উচিত।
উদ্দীপকে ব্যবসায় নৈতিকতার কারণে সাহিদ মানসিক প্রশান্তিতে আছে। ব্যবসায় নৈতিকতা ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীর আচরণকে সঠিকপথে পরিচালিত করে। একটি ব্যবসায়ের ধারণা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে এটি সফলভাবে পরিচালনার সাথে অনেক কাজ জড়িত থাকে। এসব কাজ সুন্দর, সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে সাহিদ ও নাদিম দুজনই ব্যবসায়ী। সাহিদ স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসায় করে সীমিত মুনাফা অর্জন করেন। তিনি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করেন না। আর নাদিম চাকচিক্যের আড়ালে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। কম মুনাফা অর্জন করলেও সাহিদ জানে তার ব্যবসায়ের সুনামহানি হবে না। ভালো মানের পণ্য সরবরাহের কারণে সাহিদ মানসিকভাবে অনেক সুখী। আর সৎ ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করায় তার কাজে নৈতিকতারই প্রতিফলন হচ্ছে।
নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও ভবিষ্যতে এ ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে না বলে আমি মনে করি।
নৈতিকতা ব্যবসায়ের অপরিহার্য উপাদান। যেকোনো ব্যবসায়ের সাফল্য লাভে নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নৈতিকতা মেনে না চললে ব্যবসায়ে টিকে থাকা যায় না।
উদ্দীপকে নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও তার ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব কম হবে। কারণ অনৈতিকভাবে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ক্রেতা বা ভোক্তারা বারবার কেনে না। ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের মাধ্যমে মানুষ কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হলে ঐ পণ্য মানুষ আর কিনবে না।
তাছাড়া বাইরের চাকচিক্য বজায় রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতা বা ভোক্তারা একসময় তা জানতে পারবে এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বলা যায়, নাদিম অনৈতিকতা ও ভেজাল মিশ্রণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য ভবিষ্যতে তার ব্যবসায় টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের বায়ু দূষণ করে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাকে নেওয়া ও মন্দটিকে এড়িয়ে চলা হলো ব্যবসায় নৈতিকতা।
ব্যবসায়ের নীতি বা আদর্শ মেনে (করণীয় ও বর্জনীয়) ব্যবসায় পরিচালনা করা অপরিহার্য। সঠিক মাপে পণ্য দেওয়া, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রেতাদের সাথে উত্তম আচরণ করা প্রভৃতি ব্যবসায় নৈতিকতার আওতায় পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
