জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম রাষ্ট্র।
যেসব অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০০ জনের কম সেসব অঞ্চলকে বিরল জনবসতিযুক্ত অঞ্চল বলা হয়।
বিরল বসতিযুক্ত অঞ্চলের জনবসতির ঘনত্ব সর্বত্র সমান নয়। কোনো কোনো অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫০০-১০০০ জন, আবার কোনো কোনো অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব ০-৫০০ জন। তাই বিরল বসতিযুক্ত অঞ্চলকে নাতি বিরল ও অতি বিরল বসতি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
উদ্দীপকে গালিব ঢাকায় থাকে। সেখানে উর্বর সমতলভূমি, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য জনবসতি অত্যন্ত ঘন।
বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে জনসংখ্যা প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০০ জনের বেশি সেসব অঞ্চলকে নিবিড় বা ঘনবসতি অঞ্চল বলা হয়।
উদ্দীপকের গালিব ঢাকা জেলার রাজধানীর সূত্রাপুরের বাসিন্দা। ঢাকা জেলার মহানগরীর থানাগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। ঘনত্বের দিক দিয়ে সূত্রাপুর থানা ঢাকা জেলায় দ্বিতীয়। ঢাকা জেলার পুরাতন ঢাকা হিসেবে খ্যাত এ এলাকা ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ। রাজধানীর মধ্যে হওয়ায় এখানে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্পের প্রসার, শিক্ষা-দীক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের সুযোগ-সুবিধা, পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি হওয়ায় জনসংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে গালিবের বসবাসকৃত এলাকা অর্থাৎ সূত্রাপুর খানা ঘনবসতি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
উদ্দীপকে গালিব ও আলিফের জেলার ঘনত্ব প্রায় কাছাকাছি-উক্তিটি যৌক্তিক।
বাংলাদেশের ঢাকা জেলার ঢাকা মহানগরীর থানাগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। ঢাকা জেলার পরেই আছে নরসিংদী জেলা।
উদ্দীপকের গালিব ঢাকা জেলার সূত্রাপুর থানা থেকে তার বন্ধু আলিফের বাড়ি নরসিংদী সদর থানায় বেড়াতে গেল। গালিব মূলত কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ঘোরার জন্য তার বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি দেখতে পেলেন তার এলাকার মতো এখানকার এলাকাও জনবসতিপূর্ণ। ঢাকা জেলার উর্বর সমতল ভূমি, কৃষির অনুকূল জলবায়ু ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য জনবসতি অত্যন্ত ঘন। এছাড়া ঢাকা রাজধানী হওয়ায় এখানে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্পের প্রসার, শিক্ষা-দীক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের সুযোগ-সুবিধা, পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা দ্রুত উন্নতি হওয়ায় জনসংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অালে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে, নরসিংদী জেলায় বহু কলকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। শিল্প-বাণিজ্যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। নরসিংদীর গ্রামাঞ্চলের উর্বর মৃত্তিকা কৃষিকার্যের উন্নতি ও ঘনবসতি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এছাড়া এ অঞ্চলের সুলভ ও উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ঘনবসতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, গালিবের ঢাকা জেলায় লোকসংখ্যা নরসিংদীর তুলনায় বেশি হলেও এ দুই অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্ব কাছাকাছি। কথাটি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি
Related Question
View Allমানুষের স্থায়িভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে একস্থান থেকে, অন্যস্থানে চলে যাওয়া বা গমন করাকে অভিগমন বলে।
কোনো দেশের মোট জনসংখ্যা ও মোট কার্যকর ভূমির অনুপাতকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনসংখ্যার মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা ধরে রাখার জন্য কাম্য জনসংখ্যা নীতি অনুসরণ করতে হয়।

উদ্দীপকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে আলোচনা করতে হলে আমাদের জনমিতিক বৈশিষ্ট্যের জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি অংশটি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। নিচে জনমিতিক প্রবৃদ্ধি অনুসারে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি হার ব্যাখ্যা করা হলো-
জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধিতে কোনো দেশের বা এলাকায় জনসং বৃদ্ধির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত ধরণ দেখানো হয়। অর্থাৎ কোনো দেশের জনসংখ্যা অতীতে কীভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিলো বর্তমানে কীভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে তার সবকিছু জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির স্তরে আলোচনা করা হয়। যা জনসংখ্যায় জনমিতিক বৈশিষ্ট্যের এক অন্যতম উপাদান।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কীভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা একটি তালিকার মাধ্যমে দেখানো হলো –
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি হার
সাল | বার্ষিক বৃদ্ধি হার (শতকরা) |
১৯৮১ | ২.৩১ |
১৯৯১ | ২.১৭ |
২০০১ | ১.৪৮ |
২০০৯ | ১.৫ |
২০১১ | ১.৩৭ |
তালিকায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের জনসংখ্যা অতীতে দ্রুত হারে বাড়লেও বর্তমানে এ হার হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৮১ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি
যে হার ছিল ২.৩১% ১৯৯১ সালে ২.১৭% এবং সবশেষে ২০১১ সালে ১.৩৭% অর্থাৎ এ তালিকা থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেলেও জনসচেতনা ও সরকারের প্রচেষ্টায় এ হার দিনে দিনে হ্রাস পাচ্ছে।
উদ্দীপকে 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ। এ দেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক লোক মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যায় যা আন্তর্জাতিক অভিগমনের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের অভিগমনের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি হয় এবং সঠিক উন্নয়ন সাধিত হয়।
প্রতিবছর অভিগমনের কারণে আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় যে সুফল আসছে তা হলো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক লোক বিদেশ গমন করে অর্জিত অর্থ বাংলাদেশে প্রেরণ করে। বিদেশ গমনের অন্যান্য সুবিধা হলো উন্নত শিক্ষা ও প্রযুক্তি জ্ঞানের প্রসার, বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও সম্পদের ওপর চাপ হ্রাস প্রভৃতি।
প্রতিবছর আমাদের দেশ থেকে বিদেশে যে পরিমাণ জনশক্তি অভিগমন করছে তাতে আমাদের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে অভিগমন করে থাকে। এতে দেশে উচ্চশিক্ষার হার বৃদ্ধি পায়, উন্নত শিক্ষা ও প্রযুক্তি জ্ঞানের প্রসার ঘটে। দেশে বেকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই আন্তর্জাতিক অভিগমনের ফলে আমাদের দেশের বেকার সমস্যা হ্রাস পায়। বিদেশে অভিগমন করলে দেশের সম্পদের ওপর চাপ কমে। আমাদের দেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় স্বল্প পরিমাণ জমি ও সম্পদের ওপর অধিক চাপ সৃষ্টি হয়। তাই আন্তর্জাতিক অভিগমনের ফলে জমি ও সম্পদের ওপর চাপ কমে যায় এবং অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, শিক্ষা ও প্রযুক্তিজ্ঞানের প্রসার, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, বেকার সমস্যার সমাধান, জমি ও সম্পদের ওপর চাপ হ্রাস করতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে অভিগমন বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে দেশের অর্থনীতিতে আরও সুফল বয়ে আসবে।
যেকোনো নির্দিষ্ট জনসংখ্যায় বিভিন্ন দিক পরিমাপের মাধ্যমে উপস্থাপন করাকেই জনমিতি বলে।
জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে একটি দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে যতজন লোক বাস করে তাকে ঐ দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
কোনো দেশের মোট জনসংখ্যাকে সে দেশের মোট আয়তন দ্বারা ভাগ করলেই প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাসকারী লোকসংখ্যার ঘনত্ব পাওয়া যায়। অর্থাৎ জনসংখ্যার ঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা মোট আয়তন। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৪০ জন (অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১)।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!