'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্নসম্প বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্মা, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
ঢাকার মসজিদগুলোতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশেলও রয়েছে। এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং কারুকাজ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এসব মসজিদ ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
লালবাগ মসজিদ ও সিতারা বেগম মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এগুলোর গঠনশৈলী চমৎকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই মসজিদগুলোতে মোগল শাসনামলের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
শিয়াদের ইমামবাড়া এবং হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এখানে মহররমের সময় নানা ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হয়। ইমামবাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতীক। এগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইংরেজ শাসনামলে এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ঢাকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকেশ্বরী মন্দির অনেক পুরনো এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক। রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক আমলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরগুলো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢাকার আর্মেনিয়ান গির্জা ১৭৮১ সালে আরমানিটোলায় নির্মিত হয়। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরানো গির্জা এবং আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন। গির্জাটির স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
ভিক্টোরিয়া পার্কের নাম পরিবর্তন করে বাহাদুর শাহ পার্ক রাখা হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে শহিদ হওয়া সৈন্যদের স্মৃতিতে এই নামকরণ করা হয়। আগে এ স্থানটি আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত ছিল। এটি সিপাহি বিদ্রোহের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন।
বাহাদুর শাহ পার্কের পূর্ব নাম ছিল আন্টাঘর ময়দান। এটি ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে বিদ্রোহী সৈন্যদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। পরে বিদ্রোহে জীবনদানকারী সৈন্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পার্কটির নাম পরিবর্তন করা হয়। এটি ঢাকার স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।
আহসান মঞ্জিল ঢাকার নওয়াবদের তৈরি একটি বিখ্যাত 'প্রাসাদ। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এবং বর্তমানে একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের প্রতীক। আহসান মঞ্জিল বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কার্জন হল, ইংরেজ আমলে নির্মিত একটি সুন্দর ভবন। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের প্রতীক। শিক্ষাক্ষেত্রে এর অবদান উল্লেখযোগ্য।
গ্রিক সমাধিসৌধ ১৯১৫ সালে প্রাচীন গ্রিসের 'ডরিক রীতি' অনুসরণ করে নির্মিত হয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের চতুরে অবস্থিত। এর বর্গাকার গঠন এবং সমতল ছাদ প্রাচীন গ্রিক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। এটি ঢাকার স্থাপত্য ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন।
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁও। এটি মসলিন শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিল। মোগল যুগে এর গুরুত্ব কমে গেলেও এর ঐতিহাসিক খ্যাতি অক্ষুণ্ণ ছিল।
পানাম নগরের ইমারতগুলো সরাসরি চওড়া পথের দুই পাশে সাজানো ছিল। উত্তর পাশে ৩১টি এবং দক্ষিণ পাশে ২১টি ইমারত ছিল। ইমারতগুলো মোগল ও ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতির সমন্বয়ে তৈরি এবং কিছু ইমারত রঙিন মোজাইকে সাজানো।
পানাম নগরের অধিবাসীরা তাদের এলাকার নিরাপত্তার জন্য ইমারতগুলোর চারপাশে পরিখা খনন করেছিলেন। এই পরিখাগুলো শত্রু আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে কার্যকর ছিল। এতে পানাম নগর একটি সুরক্ষিত বসবাসের স্থান হয়ে ওঠে।
পানাম নগরের সরদারবাড়ি নির্মাণ করা হয় ১৯০১ সালে। এটি দুটি বড়ো প্রাসাদ নিয়ে গঠিত, যেগুলো একটি করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত। বর্তমানে সরদারবাড়ি লোকশিল্প জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
সরদারবাড়ি দুটি প্রাসাদ নিয়ে তৈরি, যা একটি লম্বা করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত। এই দোতলা বাড়িটিতে ৭০টি কক্ষ রয়েছে। এর কারুকাজ রঙিন মোজাইকে সাজানো, যা স্থাপত্যশৈলীতে মুগ্ধ করে। এটি সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যকে বহন করে।
শশীলজ প্রাসাদ ময়মনসিংহে অবস্থিত। এটি মুক্তাগাছার জমিদাররা তৈরি করেছিলেন। প্রাসাদটি জমিদারদের আভিজাত্যের প্রতীক এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর একটি উদাহরণ।
মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদারবাড়ি তার চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত। এটি জমিদারদের আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের পরিচায়ক। বাড়িটির নির্মাণশৈলী জমিদার আমলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়।
উত্তরা গণভবন নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদারদের তৈরি একটি প্রাসাদ। এর অনন্য স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য এটি বর্তমানে স্থাপত্যকীর্তির নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত।
তাজহাট জমিদার বাড়ি রংপুরে অবস্থিত। এটি জমিদারদের আভিজাত্যের নিদর্শন এবং স্থাপত্যশৈলীতে অনন্য। বর্তমানে এটি একটি স্থাপত্যকীর্তির নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত এবং পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।
জাতীয় জাদুঘরের প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতিবহ প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও প্রদর্শন। এসব প্রত্নসম্পদ দেখে দর্শনার্থীরা দেশের অতীত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।
জমিদারদের প্রত্নসম্পদ তাদের জীবনযাত্রা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। এগুলো সংরক্ষণ করে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মূল্যবান অংশ ধরে রাখা হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রদর্শন করা হয়।
জাতীয় জাদুঘরে বাংলার নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনকালের বিভিন্ন প্রত্নসম্পদ প্রদর্শিত হয়েছে। এখানে রয়েছে দিনাজপুরের মহারাজার ব্যবহার করা দ্রব্য ও হাতির দাঁতের কারুকাজ করা শিল্পদ্রব্য। বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর পোশাক, ঢাল-তলোয়ার এবং নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদারদের সিংহাসনসহ নানা সামগ্রী এখানে স্থান পেয়েছে।
আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে ঢাকার নওয়াবদের ব্যবহৃত পোশাক, খাট-পালঙ্ক, চেয়ার, সোফা, অলঙ্কার ও আলোকচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে। এটি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন এবং জাদুঘর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে ঢাকার নওয়াবদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে। এটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপত্য এবং বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে দেশের ইতিহাস সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে।
ময়মনসিংহ জাদুঘরে বৃহত্তর ময়মনসিংহের জমিদারদের ব্যবহৃত পাথরের ফুলদানি, কম্পাস, খেলার সরঞ্জাম, সরস্বতী ও বিষ্ণুমূর্তি, বাঘ ও বন্য, ষাঁড়ের মাথা এবং ইটালিতে তৈরি মূর্তি সংরক্ষণ করা হয়েছে। মুক্তাগাছার জমিদারদের স্মৃতিবহ এসব প্রত্নসম্পদ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
মুক্তাগাছার জমিদারদের সংগ্রহে রয়েছে পাথরের ফুলদানি, কম্পাস, অলঙ্কার, মৃৎপাত্র, কাপড়বোনার যন্ত্র, সরস্বতী ও বিষ্ণুমূর্তি এবং বন্য প্রাণীর মাথা। এগুলো ময়মনসিংহ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ি বর্তমানে একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে তাজহাট জমিদারদের ব্যবহৃত সামগ্রী, সংস্কৃত ও আরবি ভাষায় লেখা পাণ্ডুলিপি এবং উত্তরবঙ্গের প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শন করা হয়।
রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ি তার চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে জমিদারদের ব্যবহার করা সামগ্রী এবং প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবহ স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে কবির ব্যবহার করা সামগ্রী এবং আলোকচিত্র সংরক্ষিত আছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলে।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িতে তাঁর স্মৃতিজড়ানো নানা নিদর্শন ও আলোকচিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি বিশ্বকবির জীবন ও সৃষ্টির সাথে জড়িত ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত।
প্রত্ন শব্দের অর্থ হলো পুরনো বা প্রাচীন।
পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্ম, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে প্রত্নসম্পদ বলে।
প্রত্নতত্ত্ব হলো অতীত যুগের মানুষের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সে যুগের সংস্কৃতি সম্পর্কে অধ্যয়ন।
লোকশিল্প জাদুঘর সোনারগাঁও এ অবস্থিত।
অফিস বাড়ি হিসেবে তৈরি ঢাকার সবচেয়ে সুন্দরতম ভবন হলো কার্জন হল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের চত্বরে অবস্থিত গ্রিক সমাধি সৌধটিতে ডরিক রীতি অনুসৃত হয়।
সিতারা বেগম মসজিদ ঢাকার সূত্রাপুরে অবস্থিত।
ঢাকা শহরের সবচেয়ে পুরনো চার্চের নাম আর্মেনিয়ান চার্চ।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি ঢাকার নওয়াব আবদুল গনি বাহাদুর শাহ পার্ক তৈরি করেন।
ময়মনসিংহ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে।
ভিক্টোরিয়া পার্ক তৈরি করেন ঢাকার নওয়াব আবদুল গণি।
বলধার জমিদার ছিলেন নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী।
শিলাইদহ কুষ্টিয়া জেলাই অবস্থিত।
১৭৮১ সালে আর্মেনিয়ান গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঢাকার ঔপনিবেশিক যুগের মসজিদগুলো মোগল স্থাপত্যরীতিতে তৈরি। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় রীতিও যোগ হয়েছে।
চিনি টিকরি মসজিদ ঢাকার নারিন্দায় অবস্থিত।
ঢাকা শহরের বিখ্যাত ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক যুগের আগে তৈরি।
ঢাকা শহরের সবচেয়ে পুরনো গির্জা হলো আর্মেনিয়ান গির্জা।
বাহাদুর শাহ পার্ক ঢাকার সদরঘাট এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত।
বাহাদুর শাহ পার্ক তৈরি করার পর ব্রিটেনের রানি ভিক্টোরিয়ার নামে এর নাম দেওয়া হয় ভিক্টোরিয়া পার্ক।
বাহাদুর শাহ পার্ক নির্মাণের আগে এ জায়গাটির নাম ছিল আন্টাঘর ময়দান।
আন্টাঘর ময়দানের নামের সঙ্গে ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জড়িয়ে আছে।
১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এদেশীয় সৈন্যরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেন। ইংরেজরা একে বলে সিপাহি বিদ্রোহ।
সিপাহি বিদ্রোহে পরাজিত সৈন্যদের আন্টাঘর ময়দানে (বাহাদুর শাহ পার্ক) গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়।
ভারতবর্ষের শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নামে পার্কটির নাম হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
আহসান মঞ্জিল ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
সুলতানি আমলে মসলিন শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে সোনারগাঁওয়ের খ্যাতি ছিল।
পানাম নগর সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।
পানাম নগরে এখনও ৫২টি ইমারত টিকে আছে।
লোকশিল্প জাদুঘর ঢাকার সন্নিকটে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।
জাতীয় জাদুঘর ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত।
নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদারের প্রাসাদ উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত।
শমসের গাজী সুড়ঙ্গ ফেনী জেলার ছাগলনাইয়াতে অবস্থিত।
বর্তমানে ঢাকার আহসান মঞ্জিল একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বর্তমানে রংপুরের তাজহাট জমিদারদের প্রাসাদ একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িটি কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থিত।
'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরনো। প্রত্নসম্পদ বলতে পুরনো স্থাপত্য ও শিল্পকর্ম, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ন নিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
পূর্ব থেকেই ঢাকা শহরে অসংখ্য মসজিদ গড়ে উঠেছে। বর্তমানে পুরাতন মসজিদগুলোর মধ্যে লালবাগের (হরনাথ ঘোষ রোড) মসজিদ, বেচারাম দেউড়ি মসজিদ, সিংটোলা সিতারা বেগম মজিদ ইত্যাদি। এছাড়া সারা শহরজুড়ে অজস্র মসজিদ গড়ে ওঠার কারণে ঢাকা শহরকে মসজিদের শহর বলা হয়।
ঢাকার পুরনো স্থাপত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে সদরঘাট এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্ক। এক সময় এ জায়গাটির নাম ছিল আন্টাঘর ময়দান। আন্টাঘর ময়দান ইতিহাসে বিখ্যাত। কারণ আন্টাঘর ময়দানের নামের সাথে জড়িয়ে আছে ১৮৫৭সালের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস। এ যুদ্ধে প্রাণদানকারী সৈনিকদের স্মরণে ১৯৫৭ সালে এখানে নির্মিত হয়েছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ।
১৯৫৭ সালে ঢাকায় তৈরি স্মৃতিস্তম্ভটি ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনদানকারী সৈনিকদের স্মরণে তৈরি। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এদেশীয় সৈন্যরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেন। ইংরেজরা একে বলে সিপাহি বিদ্রোহ। এ যুদ্ধে এদেশীয় সৈন্যরা পরাজিত হয়। বিদ্রোহী সৈন্যরা যাঁরা ঢাকায় ইংরেজদের হাতে বন্দি হন তাদের ঢাকার আন্টাঘর ময়দানে গাছের সাথে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়। এ যুদ্ধে জীবনদানকারী সৈনিকদের স্মৃতিতে এখানে ১৯৫৭ সালে নির্মিত হয় একটি স্মৃতিস্তম্ভ।
প্রত্ননিদর্শন বলতে বোঝানো হয় পুরনো স্থাপত্য ও শিল্পকর্ম, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে। প্রাচীনকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করার জন্য পুরনো স্থাপত্য নিদর্শন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আমরা যদি প্রাচীনকালের এসব প্রত্নস্থান ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ করি তবে আমরা সেকালের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে পারব।
ইংরেজ আমলে অফিস সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কার্জন হল নির্মিত হয়। অফিস বাড়ি হিসেবে ঢাকায় যেসব ভবন তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে কার্জন হল। বর্তমানে এ স্থাপত্য কীর্তিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জাদুঘর বলতে বোঝায় এমন একটি ভবন বা প্রতিষ্ঠান যেখানে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সংগ্রহ সংরক্ষিত থাকে। বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত। এ জাদুঘরের গ্যালারিতে সারা দেশে প্রত্ননিদর্শনের সঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে বাংলার নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনকালের বেশকিছু প্রত্নসম্পদ। এছাড়াও আমাদের দেশে অনেক আঞ্চলিক জাদুঘরও রয়েছে।
চমৎকার স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের বিচারে দিঘাপতিয়ার জমিদার বাড়িটি বিখ্যাত। রাজা দয়ারাম রায় এটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং প্রমদানাথ রায় এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন। দেশবিভাগের পর রাজারা ভারত চলে গেলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খান এটিকে দিঘাপতিয়ার গভর্নরের বাসভবন হিসেবে উদ্বোধন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এটিকে উত্তরা গণভবন নামে ঘোষণা করা। অনন্য স্থাপত্যকর্ম ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক দিয়ে এ ভবনটি বিখ্যাত।
'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্ন সম্পদ বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্ম। মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ন নিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, সংস্কৃতির রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। তাই আমাদের জীবনে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অবদান অনেক।
Related Question
View All'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরানো। প্রত্নসম্প বলতে পুরানো স্থাপত্য ও শিল্পকর্মা, মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা ইত্যাদিকে বোঝায়। এসব প্রত্ননিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেকালের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, রুচি বা দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
ঢাকার মসজিদগুলোতে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে কিছুটা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশেলও রয়েছে। এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং কারুকাজ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এসব মসজিদ ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
লালবাগ মসজিদ ও সিতারা বেগম মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এগুলোর গঠনশৈলী চমৎকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই মসজিদগুলোতে মোগল শাসনামলের ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
শিয়াদের ইমামবাড়া এবং হোসেনি দালান শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এখানে মহররমের সময় নানা ধর্মীয় কার্যক্রম পালিত হয়। ইমামবাড়া ঢাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতীক। এগুলো ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইংরেজ শাসনামলে এগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ঢাকার প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রমনা কালীমন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকেশ্বরী মন্দির অনেক পুরনো এবং এটি ঢাকার ঐতিহ্যের পরিচায়ক। রমনা কালীমন্দির ঔপনিবেশিক আমলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরগুলো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঢাকার আর্মেনিয়ান গির্জা ১৭৮১ সালে আরমানিটোলায় নির্মিত হয়। এটি ঢাকার সবচেয়ে পুরানো গির্জা এবং আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্যের নিদর্শন। গির্জাটির স্থাপত্যশৈলী চমৎকার এবং এটি বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!