যে গ্রন্থে ধর্ম ও কল্যাণময় জীবনের কাথা বলা হয়েছে তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে। বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীশ্রীচণ্ডী প্রভৃতি আমাদের অর্থাৎ সনাতন বা হিন্দুধর্মের উল্লেখযোগ্য ধর্মগ্রন্থ। বেদ আমাদের আদি ও প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
বেদ হলো সনাতন বা হিন্দুধর্মের আদি ও প্রধান ধর্মগ্রন্থ। বেদ চিরন্তন ও শাশ্বত। 'বেদ' মানে জ্ঞান। প্রাচীন ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান। এ জ্ঞান হচ্ছে জগৎ-জীবন ও তার উৎস পরম পুরুষ, ব্রহ্ম বা ঈশ্বর সম্পর্কে জ্ঞান।
বেদকে কেন্দ্র করে যে বিশাল সাহিত্যভাণ্ডার রচিত হয়েছে তাকে বৈদিক সাহিত্য বলে।
বেদ অর্থ জ্ঞান। বেদকে কেন্দ্র করে যে সাহিত্য তাকে বৈদিক সাহিত্য বলে। বৈদিক ধর্মগ্রন্থসমূহের রয়েছে চারটি ভাগ; সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক এবং উপনিষদ।
বেদের এক নাম সংহিতা। সংহিতা মানে সংগ্রহ বা সংকলন।
সমগ্র বেদ বা সংহিতাগুলোকে চারভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-৪. অথর্ববেদ-সংহিতা। এ সংহিতাগুলোকে একত্রে বলা হয় চতুর্বেদ।
১. ঋগ্বেদ-সংহিতা, ২.০ যজুর্বেদ-সংহিতা, ৩. সামবেদ-সংহিতা
যা অরণ্যে রচিত তাকে আরণ্যক বলে। আরণ্যকের বিষয় ধর্মদর্শন। কার উদ্দেশ্যে যজ্ঞ? সৃষ্টির উৎস কী? ইত্যাদি আধ্যাত্মিক বিষয় এতে আলোচিত হয়েছে। অর্থাৎ গভীর আধ্যাত্মিক জ্ঞানের বিষয় যাতে বর্ণনা করা হয়েছে তাই আরণ্যক।
উপ-নি-সদ্ + ক্বিপ্ হতে উপনিষদের উৎপত্তি হয়েছে। 'উপ' অর্থ সমীপে বা নিকটে এবং 'নি' অর্থ নিশ্চয়, সদ্ ধাতুর অর্থ অবস্থান। অর্থাৎ গুরুর নিকটে বসে নিশ্চয়ের সঙ্গে যে জ্ঞান অর্জন করা হয় তাকে উপনিষদ বলা হয়।
বেদাঙ্গ বেদপাঠের সহায়ক শাস্ত্র। বেদপাঠের অঙ্গ বলে এই সহায়ক শাস্ত্রগুলোকে বেদাঙ্গ বলা হয়। বেদাঙ্গের জ্ঞান না থাকলে বেদ অধ্যয়ন সম্পূর্ণ হয় না। বেদাঙ্গগুলো সূত্রাকারে রচিত। বেদাঙ্গ ছয় প্রকার, যথা- শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ। এই ছয়টিকে একসঙ্গে বলা হয় ষড়ঙ্গ।
বেদ একটি বিশাল জ্ঞানভান্ডার। কেননা বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানতে বেদই একমাত্র নির্ভরযোগ্য সহায়ক গ্রন্থ। বেদের মাধ্যমে মানবজাতি ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ এই চতুর্বর্গের সন্ধান লাভ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ভারতবর্ষের শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্ম-কর্ম, আচার-নিষ্ঠা সবই বেদের মধ্য দিয়ে প্রতিভাত হয়েছে। তাই মনুসংহিতায় লিখিত হয়েছে 'বেদঃ অখিলধর্মমূলম্' অর্থাৎ 'বেদ ধর্মের মূল'।
বেদ হচ্ছে ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান। এ জ্ঞান বলতে জগৎ ও জীবন এবং এর আদি কারণ ব্রহ্ম বা ঈশ্বর সম্পর্কিত জ্ঞানকে বোঝায়। এ জ্ঞান সত্যের স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান। এ সত্য স্বরূপের জ্ঞান সৃষ্টি করা যায় না, তা গভীর অন্তর্দৃষ্টিতে ধরা পড়ে এবং তা কোনো পুরুষ কর্তৃক রচিত হয়নি। তাই বেদ অপৌরুষেয়।
বৈদিক যুগে উপসনার পদ্ধতি ছিল যজ্ঞ রা হোমভিত্তিক। তখনো মূর্তি বা বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে উপাসনা করা প্রচলিত হয়নি। ঋষিগণ দেবতাদের শক্তি স্মরণ করে মন্ত্রের মাধ্যমে উপাসনা করতেন এবং অগ্নি প্রজ্জ্বলন করে দেবতাকে আহ্বান করতেন।
বেদের সঙ্গে দেবতাদের প্রসঙ্গ যুক্ত। বেদের বিষয়কেও দেবতা বলা হয়। বৈদিক দেবতাদের ঋষিগণ তিনটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছেন, যথা-১. স্বর্গের দেবতা, ২. অন্তরিক্ষলোকের দেবতা এবং ৩. পৃথিবী বাত্মর্ত্যলোকের দেবতা।
আগুন জ্বালিয়ে বেদের শ্লোক উচ্চারণ করে দেবতাকে আহ্বান জানানো এবং প্রার্থনা করাকে বলা হয় যজ্ঞ। যজ্ঞের সময় উচ্চারিত বেদের এই শ্লোককে বলা হয় মন্ত্র। বেদের কোনো কোনো শ্লোকে সুর আরোপ করে যজ্ঞের সময় গাওয়া হতো। এগুলোকেই বলা হয় সাম। সাম মানে হচ্ছে গান।
বেদ প্রথমে অবিভক্ত ছিল। কিন্তু পরিবর্তীকালে মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেন। যথা-ঋগ্বেদ-সংহিতা, যজুর্বেদ-সংহিতা, সামবেদ-সংহিতা, অথর্বদেব-সংহিতা। আর বেদকে ব্যাস বা ভাগ করার জন্য তাঁর অন্য একটি নাম হয় বেদব্যাস। ফলে তাঁর নাম হয় মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
ঋক্ শব্দের অর্থ স্তুতি। ঋক্ বা মন্ত্রগুলো হচ্ছে তিন বা চার পঙ্ক্তির ছোট ছোট কবিতা বা শ্লোক। সমস্ত ঋগ্বেদে ১০,৪৭২টি ঋক বা মন্ত্র রয়েছে।
'যজুঃ' মানে যজ্ঞের মন্ত্র। যজ্ঞ করার সময় প্রাচীনকালের ঋষিরা বেদ থেকে উদ্দিষ্ট দেবতার জন্য সুনির্দিষ্ট মন্ত্র পাঠ করে ধর্মানুষ্ঠান বা যজ্ঞ করতেন। যজ্ঞে ব্যবহৃত মন্ত্রগুলো সংগ্রহ করে যে-বেদে সংকলন করা হয়েছে তাকে যজুর্বেদ সংহিতা বলা হয়। যজুর্বেদে গদ্য ও পদ্য উভয় রীতিই ব্যবহার করা হয়েছে।
যজুর্বেদ-সংহিতার মধ্যে যজ্ঞানুষ্ঠানের নিয়ম-পদ্ধতি সংকলিত হয়েছে। যজ্ঞকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বর্ষপঞ্জি বা ঝতু সম্পর্কিত ধারণা। বিভিন্ন সময়ব্যাপী যজ্ঞ করা হতো। একেক প্রকার বেদী নির্মাণ করা হতো। এই নির্মাণ-কৌশল থেকেই জ্যামিতি রো ভূমি Win পরিমাপ্ত বিদ্যার উদ্ভব ঘটেছে
যজ্ঞ করার সময় কোনো কোনো মন্ত্র সুর করে গাওয়া হতো বলে এরূপ মন্ত্রগুলোকে সাম বলা হয়। যে বেদে এই সামমন্ত্রসমূহ সংকলিত হয়েছে তাকে সামবেদ সংহিতা বলা হয়। সামবেদ থেকে প্রাচীনকালের সংগীত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয়। আমরা যে সুর ব্যবহার করি তার অন্যতম আদি উৎস সামবেদ।
অথর্ববেদ-সংহিতা আধ্যাত্মিক ও জাগতিক নানা প্রকার জ্ঞানের সংগ্রহ। চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই সংহিতায় নানা প্রকার ব্যাধির প্রতিকারের উপায়ম্বরূপ নানা প্রকার বৃক্ষ, লতা, গুল্ম প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তৃতভাবে আলোচনা রয়েছে। আয়ুর্বেদ নামক চিকিৎসাশাস্ত্রের আদি উৎস এই বেদ। এছাড়া এই বেদে অস্থিবিদ্যা ও শল্যবিদ্যারও উল্লেখ আছে।
বেদের চতুর্থভাগ অথর্ববেদের প্রাচীন নাম অথর্বাঙ্গিরস। অথর্ব বলতে ভেষজ বিদ্যা, শান্তি, পুষ্টি প্রভৃতি মঙ্গলক্রিয়া বোঝায়। আর আঙ্গিরস বলতে আচার-অনুষ্ঠান শত্রুবধ, বশীভূত করার উপায় ইত্যাদিকে বোঝায়।
ঋগবেদে দেবতাদের প্রশংসা করা হয়েছে। যজুর্বেদে যজ্ঞের বিষয়বস্তু বর্ণনা করা হয়েছে। সামবেদ থেকে দেবদেবীদের এই ঈশ্বরের প্রশংসামূলক মন্ত্রগুলো গান আকারে গাওয়ার শিক্ষা লাভ হয়। অথর্ববেদে ভেষজবিদ্যা, শান্তি ও নানাবিধ শুভকর্ম সংক্রান্ত মন্ত্রাদি ও নির্দেশনা রয়েছে।
ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব-এ চারটি বেদকে একত্রে চতুর্বেদ বলা হয়। এই চতুর্বেদেই ধর্মাচরণ ও নানা আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণ সম্পর্কিত বিষয় আলোচিত হয়েছে। তাই সমগ্র বেদপাঠে পরমাত্মা, বৈদিক দেব-দেবী, যজ্ঞা, সংগীত, চিকিৎসাসহ নানা বিষয়ের জ্ঞান লাভ করে জীবনকে সুন্দর, সুস্থ ও পরিপাটি করে তুলতে এ গ্রন্থ আমাদের পাঠ করা অবশ্য কর্তব্য।
মহাভারতের ভীষ্ম পর্বের অন্তর্গত ২৫ থেকে ৪২ এই আঠারটি অধ্যায় একত্রে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, সংক্ষেপে গীতা নামে পরিচিত। কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন তারই নাম শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। কেবল ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই নয়, দার্শনিক গ্রন্থ হিসেবেও গীতা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুনকে উপলক্ষ্য করে যে সকল উপদেশ দিয়েছেন তা সকল কালের সকল মানুষের জন্য। এই ধর্মগ্রন্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি প্রভৃতি সম্পর্কে বিভিন্ন উপদেশ দেন। এটি সকল উপনিষদের সারবস্তু অবলম্বনে জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তিযোগের এক অপূর্ব সমন্বয়
গীতা পাঠের কতকগুলো নিয়ম আছে। প্রথমে গুরুকে প্রণাম করতে হয়। তারপর ইস্ট দেবতাকে প্রণাম করতে হয়। এরপর বিষ্ণু, সরস্বতী, ব্যাস, ব্রহ্মা ও শিবকে প্রণাম করতে হয়। অতঃপর করন্যাস ও অঙ্গন্যাস করে গীতা পাঠ করতে হয়।
মহাভারতের ভীষ্ম পর্বের অন্তর্গত ২৫ থেকে ৪২ এ আঠারোটি অধ্যায় একত্রে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সংক্ষেপে গীতা নামে পরিচিত। এখানে সর্বমোট সাতশত শ্লোক রয়েছে। এ সাতশত শ্লোক থাকায় গীতাকে সপ্তশতী বলা হয়ে থাকে
ব্রহ্মজ্ঞানে জ্ঞানী ব্যক্তি হচ্ছেন বাহ্মণ। যিন সত্ত্বঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত। শাসক কিংবা যুদ্ধকারী সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন ক্ষত্রিয়, যিনি রজঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি হচ্ছে বৈশ্য, যিনি রজঃ ও তমঃগুণ দ্বারা প্রভাবিত। শ্রমজীবী সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন শূদ্র। যিনি তমঃগুণ দ্বারা প্রভাবিত।
সনাতন বা হিন্দুধর্মের সমাজব্যবস্থায় যে বর্ণবিভাজন রয়েছে তা জন্মভেদে নয়, কর্মভেদে। যে যে রকম কর্ম করে তার বর্ণটি সে অনুসারে হয়। এ বিষয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, প্রকৃতির গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে আমিই চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছি।
ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য যে ব্রাহ্মণের সন্তানই হতে হবে, এমনটি নয়। সত্ত্বঃগুণ-প্রভাবিত কোনো শূদ্রের সন্তানও ব্রাহ্মণ হতে পারেন। আবার কোনো ব্রাহ্মণের সন্তান তমঃগুণে প্রভাবিত হলে সে শূদ্র বলে গণ্য হবে। সুতরাং জাতি বা বর্ণভেদ বংশগত নয়, গুণ ও কর্মগত।
কর্তব্যকর্ম নিষ্পন্ন করাই কর্তব্য পালন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় কর্তব্য পালনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর এ কর্তব্য পালন করতে হবে নিষ্কামভাবে অর্থাৎ কোনো প্রকার ফলের আশা না করে। এ প্রসঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন,
'কর্মে তব অধিকার কর্মফলে নয়,
ফল আশা ত্যাগ কর, কর্ম যেন রয়।' (গীতা ২/৪৭)
কর্তব্যকর্ম সম্পর্কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন, 'কর্ম অর্থাৎ কর্তব্য পালনই ধর্ম। তুমি ক্ষত্রিয়, যুদ্ধের মাঠে যুদ্ধ করাই তোমার ধর্ম। আসক্তিহীনভাবে যুদ্ধ কর, তাহলে সুফল পাবে। তুমি যুদ্ধ না করলে তোমার ধর্ম নষ্ট হবে। কেননা স্ব-স্ব কর্ম সম্পাদন করাই ধর্ম।
সাম্য বা সমতু মানে সমান। সকলকে সমান দেখার নাম সাম্যচেতনা। সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বর সমানভাবে বিরাজমান। সুতরাং সকল জীবকে এই যে সমতার দৃষ্টিতে দেখা এবং সমতাপূর্ণ আচরণ করা এরই নাম সাম্যবোধ।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে, সর্ববিষয়ে সকলের প্রতি যাঁর আচরণ সমতাপূর্ণ, তিনিই শ্রেষ্ঠ (৬/৯)। সমদর্শী সর্বভূতে আত্মাকে এবং আত্মায় সর্বভূতকে দেখেন (৬/২৯)। এর অর্থ হলো, সমদর্শী সকল জীবকে নিজের মতো মনে করেন এবং নিজেকে সকলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। তাই আমরাও সকলকে সমদৃষ্টিতে দেখব।
ভগবানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা বা ভালোবাসাকে ভক্তি বলা হয়। ভক্ত ভগবানের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে তাঁর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেন। তাই বলা হয় যে, ভক্তি হচ্ছে ভক্ত ও ভগবানের মধ্যকার মিলনসেতু।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভক্ত সম্পর্কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, ভক্ত কামনা-বাসনামুক্ত হবেন। তাঁর সমস্ত কর্মের ফল ভগবানের উদ্দেশ্যে নিবেদন করবেন। যিনি এভাবে ভগবানে আত্মনিবেদন করেন, তাঁর অন্তরে ভক্তি জন্মে এবং ভক্তিতেই মুক্তি লাভ হয়।
Related Question
View Allবেদকে কেন্দ্র করে ধর্মভিত্তিক যে বিশাল সাহিত্য গড়ে উঠেছে তাকে বৈদিক সাহিত্য বলে।
যে গ্রন্থে ধর্ম ও কল্যাণময় জীবনের কথা বর্ণিত হয়েছে সেটিই হলো ধর্মগ্রন্থ। বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, শ্রীমদ্ভগদ্গীতা, শ্রীশ্রীচণ্ডী প্রভৃতি আমাদের উল্লেখযোগ্য ধর্মগ্রন্থ। এসব গ্রন্থ পাঠ করার মাধ্যমে আমরা ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করতে পারি। সুশৃঙ্খল ও কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপনের জন্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সজল বেদের যজুর্বেদ খন্ডটি থেকে ধারণা অর্জন করেছে।
'যজুঃ' মানে যজ্ঞের মন্ত্র। প্রাচীনকালের ঋষিরা বেদ থেকে মন্ত্র উচ্চারণ বা আবৃত্তি করে ধর্মানুষ্ঠান বা যাগযজ্ঞ করতেন। যজ্ঞ করার সময় উদ্দিষ্ট দেবতার জন্য সুনির্দিষ্ট মন্ত্র পাঠ করা হতো। এভাবে যজ্ঞে ব্যবহৃত মন্ত্রগুলো সংগ্রহ করে যে বেদে সংকলন করা হয়েছে তাকে যজুর্বেদ-সংহিতা বলা হয়। যজ্ঞানুষ্ঠানের নিয়ম পদ্ধতি যজুর্বেদে সংকলিত হয়েছে। উদ্দীপকের সজল বেদের যে খন্ডটি অধ্যয়ন করেছে সেখান থেকে সে জ্যামিতি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা অর্জন করেছে দেখা যায়। এর দ্বারা যজুর্বেদ সংহিতাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রাচীনকালে বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন সময়ব্যাপী যজ্ঞ করা হতো। কোনো যজ্ঞ ছিল দৈনন্দিন, 'কোনো যজ্ঞ ছিল সপ্তাহব্যাপী, কোনো যজ্ঞ ছিল পক্ষকালব্যাপী। আবার কোনো যজ্ঞ বর্ষব্যাপী, এমনকি দ্বাদশব্যাপীও অনুষ্ঠিত হতো। একেক প্রকার যজ্ঞের জন্য একেক প্রকার বেদী নির্মাণ করা হতো। এই নির্মাণ-কৌশল থেকেই জ্যামিতি বা ভূমি পরিমাপ বিদ্যার উদ্ভব ঘটেছে। এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় যজুর্বেদ সংহিতা থেকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সজল বেদের যে খন্ড অধ্যয়ন করে জ্যামিতি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করেছে সেটি হলো যজুর্বেদ।
সজল ও শ্যামল বেদের একই খন্ড অনুশীলন করেনি।
বেদ ঈশ্বরের বাণী। বেদ প্রথমে অবিভক্ত আকারেই ছিল। পরবর্তীতে মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস বেদকে চারটি ভাগে ভাগ করেন। এগুলো হলো-
১. ঋগ্বেদ সংহিতা,
২. যজুর্বেদ-সংহিতা,
৩. সামবেদ-সংহিতা ও
৪. অথর্ববেদ সংহিতা।
উদ্দীপকের সজল বেদের যে খণ্ড থেকে জ্যামিতি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা অর্জন করেছে সেটি যজুর্বেদ এবং শ্যামল যে খন্ড থেকে গান-বাজনা সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেছে সেটি সামবেদকে নির্দেশ করছে। কেননা যজ্ঞের বেদী নির্মাণের কৌশল থেকে যে জ্যামিতি বা ভূমি পরিমাপ বিদ্যার উদ্ভব ঘটেছে তা আলোচিত হয়েছে যজুর্বেদে। অপরদিকে, 'সাম' শব্দের অর্থ গান। যজ্ঞ করার সময় কোনো কোনো ঋক্ বা মন্ত্র সুর করে গাওয়া হতো। এরূপ মন্ত্রগুলোকে বলা হয় সাম। যে-বেদে এই সাম মন্ত্রসমূহ সংকলিত হয়েছে তাকে বলা হয় সামবেদ-সংহিতা। সামবেদ থেকে প্রাচীনকালের সংগীত সম্পর্কে জ্ঞানলাভ হয়। আমরা যে সুর করে গান গাই, তার অন্যতম আদি উৎস এই সামবেদ। ষড়জ, ঋষভ প্রভৃতি স্বরের (সরগম) উৎসও সামবেদ। প্রধানত ঋগ্বেদের মন্ত্রগুলোকেই সুর দিয়ে গানের আকারে রূপদান করা হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সজল ও শ্যামল বেদের একই খণ্ড অনুশীলন করেনি।
গুরুর নিকটে বসে নিশ্চয়ের সঙ্গে যে জ্ঞান অর্জন করা হয় তাকে উপনিষদ বলে।
বেদ হচ্ছে ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান। এ জ্ঞান জগৎ ও জীবন এবং এর আদি কারণ পুরুষ বা ব্রহ্ম বা ঈশ্বর সম্পর্কে জ্ঞান। সত্যের স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান। এ সত্য স্বরূপের জ্ঞান সৃষ্টি করা যায় না। তা গভীর অন্তর্দৃষ্টিতে ধরা দেয় এবং তা কোনো পুরুষ কর্তৃক রচিত হয়নি। তাই মহারাজ বলেছেন 'বেদ অপৌরুষেয়'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!