গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।

উত্তরঃ

উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

উত্তরঃ

সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।

উত্তরঃ

সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।

উত্তরঃ

সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।

উত্তরঃ

বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন বলতে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও উপকরণের পরিবর্তন বোঝায়। যেমন, লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। এটি মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

উত্তরঃ

সংস্কৃতির পরিবর্তন মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নয়ন ঘটায়। এটি মানুষের চিন্তা, আচরণ এবং উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করে। পরিবর্তনের ফলে সমাজে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটে।

উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তন মানুষের জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে উন্নয়ন ঘটায়। এটি শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং উৎপাদনশীলতার উন্নতির মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করে।

উত্তরঃ

সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একসাথে কাজ করে। পরিবর্তন নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি প্রবর্তন করে এবং উন্নয়ন সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাক্টর ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে সমাজের উন্নয়ন ঘটেছে।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো বস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হলেও অবস্তুগত সংস্কৃতি ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়। এর ফলে সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, যা উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

উত্তরঃ

উন্নয়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার দেওয়া। এটি মানুষের জীবনমান উন্নত করে এবং সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ঘটে।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সবসময় ঊর্ধ্বগতিতে যায় না কারণ এটি 'কখনো ইতিবাচক আবার কখনো নেতিবাচক হতে পারে। ঊর্ধ্বগতি পরিবর্তন উন্নয়নকে নির্দেশ করে, আর নিম্নগতি পরিবর্তন সংকট তৈরি করতে পারে। তাই সংস্কৃতির উন্নয়ন বলতে ইতিবাচক পরিবর্তন বোঝানো হয়।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সময়ের মাত্রার মধ্যে সংগঠিত হয়। পুরাতন পাথর যুগ ও নতুন পাথর যুগের সংস্কৃতির পার্থক্য সময়ের পরিবর্তনের ফলে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন ঘটায়।

উত্তরঃ

পাশ্চাত্যের উন্নয়ন ধারণা অনেক সময় ধনিক শ্রেণির সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা বলে সমালোচিত হয়। এই এক রৈখিক উন্নয়ন ধারণা সমাজের সকল মানুষের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করে না। এটি যৌক্তিকভাবে সমালোচনার বিষয়।

উত্তরঃ

আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এটি সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও পরিবর্তন উভয়কেই নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, এটি নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি গ্রহণে সাহায্য করে আবার কিছু ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের ক্ষতিও করে।

উত্তরঃ

উন্নয়ন ও সংস্কৃতি একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। উন্নয়ন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। এটি সংস্কৃতির পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে এবং সমাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করে। অপরদিকে, উন্নত সংস্কৃতি উন্নয়নের ধারা আরও শক্তিশালী করে তোলে।

উত্তরঃ

সংস্কৃতির উন্নয়ন বলতে সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝানো হয়। এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং সামাজিক অগ্রগতির্কে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের ফলে কৃষি ও শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সংস্কৃতির উন্নয়নের একটি দিক।

উত্তরঃ

উন্নয়ন ধারণার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং জীবনমানের উন্নয়ন। এটি সমাজের শোষণ ও বৈষম্য দূর করে এবং মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে। উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে সামগ্রিক অগ্রগতির পথ সুগম করে।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি হলো এক সমাজ থেকে আরেক সমাজে সংস্কৃতির প্রসার বা প্রসারণ। এটি সাধারণত দুটি সমাজের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ঘটে। প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের ফলে সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তরঃ

ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে সংস্কৃতায়ন ঘটে। এতে নিজস্ব সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে অন্য সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইংরেজ শাসনের ফলে আমাদের ভাষায় অনেক ইংরেজি শব্দ যোগ হয়েছে।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ হলো নতুন পরিবেশের সংস্কৃতিকে গ্রহণ করার প্রক্রিয়া। মানুষ ভিন্ন এলাকায় বাস করলে সেখানকার সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ ও জীবনধারার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়। এটি ব্যক্তি ও সমাজের সংস্কৃতি আয়ত্ত করার একটি ধারা।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক আদর্শ হলো কোনো দেশ বা সমাজের মানুষের সংস্কৃতির ধরন। এটি তাদের আচার-আচরণ, খাদ্য, পোশাক, ধর্মবিশ্বাস, সংগীত ও লোককাহিনির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সাংস্কৃতিক আদর্শের মাধ্যমে সমাজের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে।

উত্তরঃ

প্রযুক্তি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নকে দ্রুততর করে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সহজে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে। এতে অনুন্নত সংস্কৃতি উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তি সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় ও উন্নত করছে।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার কারণ হলো সামাজিক সংযোগ, সংস্কৃতায়ন, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক আদর্শের পরিবর্তন। এসব প্রভাবের মাধ্যমে সংস্কৃতি নতুন রূপ নেয় এবং সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়।

উত্তরঃ

প্রযুক্তির উন্নয়ন ভৌগোলিক দূরত্ব দূর করে দিয়েছে। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে ভিন্ন সংস্কৃতি একে অপরের সংস্পর্শে আসছে। ফলে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান সহজতর হয়েছে।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সমাজে নতুন ধারণা ও মূল্যবোধ প্রবর্তন করে। এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। সমাজে নতুন ধারা ও উন্নত চিন্তাধারার সৃষ্টি হয়।

উত্তরঃ

বিশ্বায়নের ফলে বিভিন্ন সংস্কৃতি একে অপরের সাথে মিশেছে। উন্নত সংস্কৃতি অনুন্নত সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করছে এবং বৈশ্বিক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। এটি সাংস্কৃতির বৈচিত্র্যে হ্রাস ও নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক আদর্শের পরিবর্তনে মানুষের জীবনযাত্রা ও বিশ্বাসে নতুন ধারার সৃষ্টি হয়। এটি সমাজে আচার-আচরণ, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধে পরিবর্তন এনে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। নতুন জীবনধারার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ঘটে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো পাশ্চাত্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রভাব, বিশ্বায়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি। লোকসংস্কৃতির উত্থান ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারও পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতিতে লোকউৎসব, মেলা এবং লোকসামগ্রীর প্রচলন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বায়নের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রামীণ বিনোদনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এটি গ্রামীণ সংস্কৃতিতে আধুনিকতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে।

উত্তরঃ

বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হলো লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টরের ব্যবহার। এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে। এ ধরনের পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষি সংস্কৃতিকে আধুনিক করে তুলছে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশে যৌথ পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবারের প্রচলন বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি গ্রাম এবং শহর উভয় এলাকাতেই স্পষ্ট। পারিবারিক এই পরিবর্তন মানুষের জীবনধারায় আধুনিকতার ছাপ রেখেছে।

উত্তরঃ

নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ফলে পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাধীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী-পুরুষ একত্রে কাজ করায় শ্রমবাজারে নারীর ভূমিকা বেড়েছে। তবে গৃহস্থালি কাজের চাপ কমেনি, যা পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ।

উত্তরঃ

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের পেশা ও বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এটি পুরানো নিয়ম ভেঙে নতুন আত্মসম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করছে।

উত্তরঃ

আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় পরিবর্তন ঘটেছে। ইতিবাচক পরিবর্তন হলো নতুন সাংস্কৃতিক ধারণার সংযোজন। তবে নেতিবাচক দিক হলো নিজস্ব সংস্কৃতির অবমূল্যায়ন।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো হলো শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, গবেষণা, শিল্প-সাহিত্য, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি। এসব ক্ষেত্রের উন্নয়ন মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

উত্তরঃ

প্রচার মাধ্যম সাংস্কৃতিক বিস্তার ঘটানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেলের মাধ্যমে মানুষ তাদের আচার-আচরণে পরিবর্তন আনছে। এটি একটি ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবর্তন।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব হলো আকাশ সংস্কৃতির ফলে নিজস্ব সংস্কৃতির ক্ষতি। এটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হ্রাস করে এবং নিজস্ব ঐতিহ্যের ওপর বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তার করে।

উত্তরঃ

শিক্ষা সংস্কৃতির উন্নয়নে মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি ব্যবহার ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির প্রচলন হয়েছে। এসব উদ্যোগ শিক্ষাকে যুগোপযোগী এবং সহজলভ্য করেছে। শিক্ষার এই আধুনিকীকরণ সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে।

উত্তরঃ

বাঙালির সংস্কৃতি খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক, অলংকার, ভাষা-সাহিত্য, উৎসব ও সংগীতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গঠিত। দোচালা, আটচালা ঘর থেকে শুরু করে নকশিকাঁথা, পোড়ামাটির শিল্প ও তাঁতশিল্প এই সংস্কৃতির অংশ।

উত্তরঃ

পোড়ামাটির শিল্প মাটির ফলকে ছবি অঙ্কন করে তা পুড়িয়ে স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া। দিনাজপুরের কান্তজি মন্দির ও পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারে এ শিল্পকর্ম দেখা যায়। এতে রামায়ণ কাহিনি ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে।

উত্তরঃ

মসলিন কাপড় ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, মসৃণ ও উচ্চমানের। এটি বাংলার তাঁতশিল্পের অনন্য নিদর্শন এবং সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ ছিল। এর সূক্ষ্মতা ও সুনিপুণতা বহু কিংবদন্তি সৃষ্টি করেছে।

উত্তরঃ

চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। এটি বৌদ্ধ ধর্মীয় গীতিকাব্য যা প্রায় ১২০০ বছর আগে রচিত। চর্যাপদের রচয়িতাগণ বৌদ্ধ সাধক ছিলেন এবং এতে তত্ত্ব ও ভাবার্থের গভীরতা বিদ্যমান।

উত্তরঃ

বাউল গান বাংলার লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি আধ্যাত্মিক চিন্তা, প্রেম ও মানবতার বার্তা বহন করে। এটি গ্রামীণ জীবনযাত্রার সাথে গভীরভাবে যুক্ত এবং এখনও বাংলার সংস্কৃতিতে প্রচলিত।

উত্তরঃ

নাগরিক সংগীতের উন্নয়ন হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের মতো সংগীতজ্ঞদের মাধ্যমে। হিন্দুস্তানি উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রভাবে এই ধারা সমৃদ্ধ হয়েছে এবং জাতীয় সংগীতসহ বিভিন্ন আধুনিক গান তৈরি হয়েছে।

উত্তরঃ

বাংলার নকশিকাঁথা ঘরে তৈরি শিল্পকর্ম যা গ্রামের নারীরা সেলাই করে ফুটিয়ে তোলেন। এতে গল্পকাহিনি, প্রকৃতি ও বিভিন্ন নকশা নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়। এটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সৃজনশীলতার প্রতীক।

উত্তরঃ

সুলতানি আমলে বাংলার স্থাপত্যশিল্পে ইরানি প্রভাব পড়ে। গম্বুজ ও খিলানের নকশা, মসজিদ নির্মাণ এবং দপ্তর ও বাড়ি তৈরিতে এই প্রভাব দেখা যায়। লালবাগ কেল্লা, ছোট সোনা মসজিদ ইত্যাদি এর উদাহরণ।

উত্তরঃ

ইংরেজ আমলে বাংলা সাহিত্যের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং 'কাজী নজরুল ইসলাম ভূমিকা রেখেছেন। তারা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে বাঙালি জাতিকে এক নতুন পরিচয়ে পরিচিত করেছেন।

উত্তরঃ

বাংলার লোকগীতি যেমন বাউল, ভাটিয়ালি, গম্ভীরা এবং মুর্শিদি গান গ্রামীণ মানুষের জীবনের অংশ। এগুলো আঞ্চলিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে এবং সাধারণ মানুষের আবেগ ও চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটায়।

উত্তরঃ

বাংলার পোড়ামাটির শিল্পের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো দিনাজপুরের কান্তজি মন্দির ও পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারে পাওয়া গেছে। এতে রামায়ণ কাহিনি ও সেকালের সমাজজীবনের চিত্র ফুটে ওঠে। এই শিল্প বাংলার ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার পরিচায়ক।

উত্তরঃ

বাংলার তাঁতশিল্প সূক্ষ্ম, মসৃণ এবং উচ্চমানের দুকুল, মসলিন, জামদানি, সিল্ক শাড়ির জন্য বিখ্যাত। এই শিল্প বহুকাল ধরে দেশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে জনপ্রিয়। এটি বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন।

উত্তরঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা নাগরিক গানের উন্নতিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার গান বাংলার জীবনদর্শন, প্রকৃতি ও মানবতাকে অসাধারণভাবে তুলে ধরে। তাঁর রচিত 'আমার সোনার বাংলা আমাদের জাতীয় সংগীত। রবীন্দ্র সংগীত বাংলার সংগীতে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন।

উত্তরঃ

বাংলার পুঁথি সাহিত্য মুসলিম সমাজের কল্পকাহিনি ও রোমান্টিক আখ্যান নিয়ে গঠিত। ইউসুফ-জুলেখা, লাইলি-মজনু এবং সয়ফুল মুলক এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পুঁথি সাহিত্য সেকালের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে ধারণ করে।

উত্তরঃ

বাংলার গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি যেমন বাউল, ভাটিয়ালি ও গম্ভীরা গান মানুষের আনন্দ-বেদনা ও দৈনন্দিন জীবন তুলে ধরে। এটি সমাজের ঐক্য ও-ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। এসব গান বাংলার গ্রামীণ জীবনের পরিচায়ক এবং সংস্কৃতির মূলভিত্তি।

উত্তরঃ

নিজ সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উপাদানকে নিজ সংস্কৃতির সাথে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়াকে সংস্কৃতায়ন বলা হয়।

উত্তরঃ

চর্যাপদ হলো আদি বাংলা সাহিত্যের নমুনা।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি হলো সংস্কৃতির চলমান গতিধারা এবং এক সমাজ থেকে আরেক সমাজে সংস্কৃতির প্রসার লাভ।

উত্তরঃ

সংস্কৃতি হলো আমাদের জীবনপ্রণালি।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে।

উত্তরঃ

এক ধরনের সামাজিক পরিবর্তনই হলো সামাজিক উন্নয়ন।

উত্তরঃ

গ্রামীণ মহিলারা নিজ হাতে সেলাই করে যে কাঁথায় নানা নিপুণতায় গল্পকাহিনি ও ছবি ফুটিয়ে তোলেন সেই কাঁথাকে নকশি কাঁথা বলা হয়।

উত্তরঃ

দরিদ্র নারীরা নকশি কাঁথা নামক শিল্পটিকে টিকিয়ে দেখেছেন।

উত্তরঃ

কোনো দেশ বা সমাজের মানুষের সংস্কৃতির ধরনই হলো সাংস্কৃতিক আদর্শ।

উত্তরঃ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভিত গড়েছেন।

উত্তরঃ

বাঙালির প্রথম সাহিত্যকর্মের নাম চর্যাপদ।

উত্তরঃ

চন্ডীমঙ্গল রচনা করেন মুকুন্দরাম।

উত্তরঃ

আদিম সমাজ ছিল সহজ-সরল ও শ্রেণিহীন।

উত্তরঃ

চর্যাপদ আবিষ্কার করেন 'হরপ্রসাদ শাস্ত্রী'।

উত্তরঃ

বাঙালি জাতির মননের প্রতীক হলো বাংলা একাডেমি।

উত্তরঃ

টেরাকোটা হলো পোড়ামাটির শিল্প।

উত্তরঃ

আঞ্চলিক ভাষার অভিধান সংকলন করেছেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উত্তরঃ

সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।

উত্তরঃ

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ।

উত্তরঃ

পাল যুগের পুঁথিগুলো ছিল বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্রের।

উত্তরঃ

চর্যাপদের কাল নির্ণয় করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উত্তরঃ

পদ্মাবতীর রচয়িতা আলাওল।

উত্তরঃ

কান্তজি মন্দির দিনাজপুরে অবস্থিত।

উত্তরঃ

প্রাচীন বাংলার মসলিন কাপড়ের বেশ খ্যাতি ছিল।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাউল সুরে গাওয়া হয়।

উত্তরঃ

সংস্কৃতি দুই ধরনের। যথা- বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি।

উত্তরঃ

গাছের ডালপালা ও নুড়িপাথরই ছিল মানুষের প্রথম হাতিয়ার।

উত্তরঃ

মানুষের ব্যবহার্য ও ভোগের সামগ্রী এবং চিন্তাচেতনায় যখন পরিবর্তন লক্ষ করা যায় তখন তাকে বলা হয় মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন।

উত্তরঃ

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হওয়ার সময় সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে কিংবা অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে সংস্কৃতি তার রূপ বদলায়। একেই সংস্কৃতির পরিবর্তন বা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলে।

উত্তরঃ

উন্নয়ন বলতে ঊর্ধ্বগতি বা ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি

উত্তরঃ

যেসব কাজে একটি জাতির চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় শিল্পকলা।

উত্তরঃ

তালপাতার পুঁথিতে দেশীয় রং দিয়ে ছবি আঁকা হয়েছে পাল যুগে।

উত্তরঃ

তালপাতার পুঁথিগুলো বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্রের।

উত্তরঃ

পত্রোর্ণ নামে এন্ডি বা মুগাজাতীয় সিল্ক তৈরি হতো মগধ ও পুন্দ্রে।

উত্তরঃ

সুলতানি আমল থেকে বাংলার স্থাপত্যশিল্পে ইরানি প্রভাব পড়তে শুরু করে।

উত্তরঃ

বাঙালির প্রথম যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায় তা চর্যাপদ নামে পরিচিত।

উত্তরঃ

পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথম নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।

উত্তরঃ

ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের কাল নির্ণয় করেন।

উত্তরঃ

ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ গবেষণা করে জানান, প্রায় ১২০০ বছর আগে বৌদ্ধ সাধকরা চর্যাপদ লিখেছেন।

উত্তরঃ

চর্যাগীতির বিখ্যাত রচয়িতাদের মধ্যে ছিলেন লুইপা এবং কাহ্নপা প্রমুখ।

উত্তরঃ

সুলতানি আমলে শ্রীচৈতন্যের বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবে বাংলায় কীর্তন গান রচনার জোয়ার আসে।

উত্তরঃ

সুলতানি আমলে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার কাহিনি নিয়ে রচিত বাংলা কীর্তন গানগুলো বৈষ্ণব পদাবলী নামে পরিচিত।

উত্তরঃ

দেশীয় দেবদেবীকে নিয়ে রচিত কাব্যকাহিনি মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত।

উত্তরঃ

আলাওল রচিত পদ্মাবতী বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য অবদান।

উত্তরঃ

আমাদের দেশে বাংলা গদ্যের সূচনা হয় ইংরেজ আমলে উনিশ শতকে।

উত্তরঃ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভিত গড়েছেন।

উত্তরঃ

বঙ্কিমচন্দ্র ও সমসাময়িক সাহিত্যিকরা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভিতের ওপর সৌধ তুলেছেন।

উত্তরঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক বাংলা সাহিত্যকে শোভন ও সুন্দর করে পূর্ণতা দিয়েছেন।

উত্তরঃ

জাতীয় সংগীতের সুর নেওয়া হয়েছে বাউল গানের সুর থেকে।

উত্তরঃ

পরিবেশ-পরিস্থিতি ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বা ইতিবাচক পরিবর্তনকে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, বলা হয়। আমরা আমাদের সংস্কৃতি সম্বন্ধে সচেতন না হলে সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন না ঘটে সংস্কৃতির নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে। কাজেই সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য আমরা আমাদের সংস্কৃতি সম্বন্ধে সচেতন হব।

উত্তরঃ

আধুনিক প্রযুক্তি সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গোটা বিশ্ব এখন বিশ্ব পল্লিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন ঘরে বসে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের খবরাখবর জানার জন্য এক সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে অন্য সংস্কৃতি। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তি সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে।

উত্তরঃ

আধুনিক প্রযুক্তি বা বস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তন ও উন্নয়ন সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। এখন ঘরে বসে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবর জানা যায়। ফলে এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে।

উত্তরঃ

ভাষা, খাদ্যাভাস, পোশাক ও বিনোদন নিয়ে সংস্কৃতি। একেক জাতির একেক রকম আচার-আচরণ সংস্কৃতিতে ভিন্নতা নিয়ে আসে। ভাষার ভিন্নতা, পোশাকের ভিন্নতা, বিনোদনের ভিন্নতা ও খাদ্যাভ্যাসের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা সংস্কৃতির বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। সংস্কৃতির আদান-প্রদান ও সম্পৃক্ততা সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

উত্তরঃ

আধুনিক প্রযুক্তি বা বস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত্ত পরিবর্তন ও উন্নয়ন সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়নে গোটা বিশ্ব এখন একটি বিশ্ব পল্লিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এর ফলে যোগাযোগ প্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়েছে। এখন ঘরে বসে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবরাখবর জানার জন্য এক সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে অন্য সংস্কৃতি। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।

উত্তরঃ

গ্রামীণ সমাজের দরিদ্র নারীদের টিকিয়ে রাখা শিল্পকর্মটি হলো নকশি কাঁথা। নকশিকাঁথা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন সংস্কৃতি। গ্রামের মহিলারা অবসর সময়ে কাপড়ের ওপর কাপড়ের ভাজ রেখে সুই ও সুতা দিয়ে চমৎকার নকশা ফুটিয়ে তুলে কাঁথা তৈরি করে যা নকশি কাঁথা নামে পরিচিত। এসব কাঁথায় সুতা দিয়ে আশ্চর্য নিপুণতায় তারা গল্পকাহিনী ও ছবি ফুটিয়ে তুলেন। গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা এখনও পরমযত্নে এ শিল্পকর্মটি টিকিয়ে রেখেছেন।

উত্তরঃ

আধুনিক প্রযুক্তি বা বস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তন ও উন্নয়ন সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়নে গোটা বিশ্ব এখন একটি বিশ্ব পল্লিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এর ফলে যোগাযোগ প্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়েছে। এখন ঘরে বসে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের খবরাখবর জানার জন্য এক সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে অন্য সংস্কৃতি। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।

উত্তরঃ

'টেরা' অর্থ মাটি আর 'কোটা' অর্থ পোড়ানো। মাটির ফলক বা পাত তৈরি করে তাতে ছবি অঙ্কন করে পুড়িয়ে স্থায়ীরূপ দেওয়াকে টেরাকোটা শিল্প বলে। টেরাকোটাকে পোড়ামাটির শিল্পও হয়। দিনাজপুরের কান্তজি মন্দিরে পোড়ামাটির শিল্পকর্মে রামায়ণের কাহিনীসহ নানা সামাজিক জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারেও পোড়ামাটির প্রচুর কাজ আছে। এতে সেকালের সমাজজীবনের ছবি পাওয়া যায়। তাই বলা হয় এগুলো হলো প্রাচীন শিল্পকর্মের প্রতিচ্ছবি।

উত্তরঃ

নিজ সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উপাদানকে নিজ সংস্কৃতির সাথে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়াকে সংস্কৃতায়ন বলে। আমাদের দেশ বহুবার বহিরাগত শাসক দ্বারা শাসিত হওয়া "এখানে সংস্কৃতায়ন প্রক্রিয়ার কারণ বলে মনে করা হয়। যেমন-ইংরেজরা প্রায় দুইশ বছর আমাদের শাসক ছিল বলে অনেক ইংরেজি শব্দ আমাদের ভাষায় মিশে গেছে।

উত্তরঃ

বাঙালির প্রথম সাহিত্যকর্ম হলো চর্যাপদ। পন্ডিত হরপ্রসাদশাস্ত্রী এটি নেপালে রাজদরবার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বাঙালি বৌধ সাধকেরা এসব লিখেছেন। এসব মূলত বৌদ্ধধর্মের সাধন-ভজনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত গান। সাধু ভাষায় লিখিত এ চর্যাপদের প্রধান লেখক হলেন লুইপা, কাহ্ন পা, ডেবর পা, কুক্কুরি পা প্রমুখ।

উত্তরঃ

আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। কোনো মানুষ যখন নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ এক কথায় সমগ্র জীবনের সাথে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ ঘটে।

উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ হলো সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ। আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যখন মানুষ কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ এক কথায় সমগ্র জীবনধারার সাথে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় আত্তীকরণ হয়ে যায়, যা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সাধন করে।

66

সংস্কৃতি বলতে আমরা সাধারণত সমাজের মানুষের জীবন-যাপনের ধারাকে বুঝে থাকি। অর্থাৎ সংস্কৃতি হলো আমাদের জীবন-প্রণালি। মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণের লক্ষ্যে যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই হলো তার সংস্কৃতি। মানুষের এসব সৃষ্টি বা কাজ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে: বস্তুগত ও অবস্তুগত। সংস্কৃতিকেও তাই দুইভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে । বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। ঘরবাড়ি, তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, উৎপাদন হাতিয়ার এসব হচ্ছে বস্তুগত সংস্কৃতি। অবস্তুগত সংস্কৃতি হচ্ছে ব্যক্তির দক্ষতা, জ্ঞান, চিন্তা-ভাবনা, আচার-ব্যবহার, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পকলা ইত্যাদি। সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল । আদিকাল হতে সমাজে বসবাসকারী মানুষ তার সৃষ্টিকে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিক সাংস্কৃতিক জীবনে উন্নীত করেছে। সংস্কৃতির এই পরিবর্তনে বিভিন্ন উপাদান যেমন প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি সংস্কৃতির উন্নয়নেও এসব উপাদান কমবেশি অবদান রেখেছে। হাতিয়ার আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে প্রথম পরিবর্তন আসে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের ব্যবহার্য ও ভোগের সামগ্রী এবং চিন্তা চেতনায় যখন পরিবর্তন লক্ষ করা যায় তখন তাকে বলা হয় মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। আমরা সপ্তম শ্রেণিতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ধারণা পেয়েছি। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলা সম্পর্কে জানব ।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা - 

• সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করতে পারব ; 

• সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সাথে উন্নয়নের ধারণা কীভাবে যুক্ত তা ব্যাখ্যা করতে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব ;  

• সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব ; 

• বাংলাদেশে কীভাবে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করতে পারব ; 

• বাঙালির সংস্কৃতি ও শিল্পকলা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব ; 

• উন্নত সংস্কৃতিকে অনুশীলন করব এবং এর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করব ; 

• নিজ সংস্কৃতির প্রতি সচেতন এবং শ্রদ্ধাশীল হব ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।

181
উত্তরঃ

উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

139
উত্তরঃ

সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।

142
উত্তরঃ

বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।

171
উত্তরঃ

সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।

203
উত্তরঃ

সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।

111
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews