সামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
ছোটবেলা থেকেই যেসব কিশোর-কিশোরীরা খেলাধুলা, সংগীত, ছবি আঁকা, শরীর চর্চা ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যাবলির সুযোগ পায় না তারা মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তির জন্য অপসংস্কৃতির পথ খোঁজে। সমাজের এসব নানা অপসংস্কৃতির কারণেই কিশোর-কিশোরীরা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ও শিল্পাঞ্চলে বস্তি রয়েছে। বস্তির পরিবেশ ও সেখানকার নানা খারাপ অভিজ্ঞতা শিশু-কিশোরদের অপরাধী করে তোলে। সঙ্গদোষে এবং অভাবের তাড়নায়ও বস্তির শিশু-কিশোররা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
দরিদ্র পরিবারের শিশু-কিশোররা অল্পবয়সেই নানা রকম কাজ করে টাকা উপার্জন করতে বাধ্য হয়। এই টাকায় কখনো কখনো তারা জুয়া খেলে, মাদক সেবন করে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়ায়। অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে বা লোভে পড়েও তারা অনেক সময় অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
শারীরিক-মানসিক ত্রুটি বা বৈকল্য থাকলে শিশুকে অন্যের সামাজিক গ্লানি বয়ে চলতে হয়, যা থেকে শিশুমনে হীনমন্যতার জন্ম হয়। এর ফলেও অনেক অপরাধী হতে পারে।
নতুন পরিবেশে সঙ্গী বা বন্ধু নির্বাচনে শিশু-কিশোরদের সমস্যা হয়। এভাবে সঙ্গদোষেও কেউ কেউ অপরাধী হতে পারে। বর্তমানে মোবাইল ও ইন্টারনেটের অপব্যবহারের ফলেও সমাজে এক ধরনের কিশোর অপরাধ দেখা যাচ্ছে।
কিশোর অপরাধের তিনটি কারণ হলো-
১. কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য।
২ . পিতা-মাতার আদার-যত্নের অভাব বা অতিরিক্ত শাসনের ফলে কিশোর অপরাধী হয়ে ওঠে।
৩. সঙ্গদোষে কেউ কেউ অপরাধী হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে কিশোররা সাধারণত যেসব অপরাধ করে তার মধ্যে রয়েছে চুরি, পকেটমার, বিনা টিকিটে রেলভ্রমন, মানুষ, দোকানপাট, বাড়িঘর ও যানবাহনের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য নাশকতামূলক কাজ এবং মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা প্রভৃতি।
যে পরিবারে কিশোর অপরাধী আছে তাদের পারিবারিক শান্তি বিনষ্ট হয়। কিশোর অপরাধীর পরিবারকে কেউ সম্মান করে না। অপরাধীর পরিবার সামাজিকভাবে হেয়পতিপন্নের স্বীকার হয়।
বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চল সর্বত্রই কিশোর অপরাধীদের দ্বারা মেয়েদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা শোনা যায়। তারা মেয়েদের প্রতি অশ্লীল ও অশোভন উক্তি করে। এদের কারণে মেয়েরা নিরাপদে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে পারে না।
পরিবারে সন্তানদের সুস্থ মানসিক বিকাশের উপর্যুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের চলাফেরার ওপর নজর রাখতে হবে। তাদের বন্ধু ও সাথিদের সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
কিশোরদের অপরাধপ্রবণতার একটি প্রধান কারণ পরিবারের দারিদ্র্য। সেজন্য অভিভাবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।
সকল শিশু-কিশোরকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। এতে করে শিশুরা শিক্ষার প্রভাবে সুস্থ ও সুন্দর জীবন-যাপনে আগ্রহী হবে। অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ তাদেরকে অপরাধ থেকে দূরে রাখবে।
কিশোর অপরাধ রোধে তিনটি পদক্ষেপ হলো-
১. শিশু-কিশোরদের জন্য সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।
২. শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. শিশু-কিশোররা যেন খারাপ সংস্পর্শে না পড়ে সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
মাদক দ্রব্য গ্রহণে মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়ে এবং যা আসক্তি সৃষ্টি করে। ব্যক্তির এই অবস্থাকে বলে মাদকাসক্তি এবং যে গ্রহণ করে তাকে বলে মাদকাসক্ত।
মাদকাসক্ত সঙ্গীদের সাথে মেলামেশার মধ্য দিয়েই প্রধানত মাদকাসক্তির সূত্রপাট ঘটে। মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে না জেনেই, কেবল সাময়িক উত্তেজনা লাভের জন্য ও বন্ধুদের প্ররোচনায় কিশোর-কিশোরীরা মাদকদ্রব্য সেবন করে।
বেকারত্ব, নিঃসঙ্গতা, প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি কারণে অনেকের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়। আর এই হতাশা থেকে মুক্তি লাভের আশায় প্রথমে বন্ধুবান্ধবের পরামর্শে বা তাদের দেখাদেখি অনেক মাদকদ্রব্য গ্রহণ করতে শুরু করে।
অপসংস্কৃতির প্রভাবও মাদকাসক্তির পিছনে একটি বড়ো কারণ হিসেবে কাজ করে। চলচ্চিত্র, টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট প্রভৃতির মাধ্যমে আজকাল এক দেশের সংস্কৃতি সহজেই অন্য দেশের সংস্কৃতি ও জনজীবনকে প্রভাবিত করছে। দুই ভিন্ন সংস্কৃতির টানাপোড়েনে পড়েও যুব সমাজের একটা অংশ বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাদকে আকৃষ্ট হচ্ছে।
আমাদের সমাজজীবনে মাদকাসক্তি বর্তমানে একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক জীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। নিজেদের ক্ষতি তো এরা করেই, উপরন্তু ভয়, উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার শিকার হয়ে সমাজেও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে।
শারীরিক ক্ষতির মধ্যে একজন মাদক গ্রহণকারীর হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তার মানসিক স্বাস্থ্যও এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে। মাদক গ্রহণকারীরা হতাশা ও হীনমন্যতায় ভোগে।
পারিবারিক জীবনে মাদকের প্রভাব নানা জটিল সমস্যা সৃষ্টি করে। পুরো পরিবারের সুখ-শান্তিকে নষ্ট করে। যে পরিবারে একজনও মাদকাসক্ত সন্তান থাকে সে পরিবারে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকে। প্রতিবেশীদের কাছে ওই পরিবারের মর্যাদা থাকে না।
মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সমাজে নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সন্তানদের ছোটোবেলা থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর জন্য অভিভাবক ও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সচেষ্ট হতে হবে। মোটকথা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়েই মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় পর্যায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব সমিতি প্রভৃতি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থাগুলো নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে 'মাদককে না বলুন'- এই প্রতিজ্ঞায় জনগণ বিশেষ করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে পারে। এছাড়াও পাঠ্যপুস্তক, সংবাদপত্র, রেডিয়ো, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, পোস্টার, বিলবোর্ড ও লিফলেট ইত্যাদির মাধ্যমেও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সম্পর্কে সর্বশেষ বিধিমালা ২০১৩, প্রণয়ন করেছে। তামাকজাত দ্রব্য পাবলিক প্লেসে এবং পাবলিক পরিবহনে ব্যবহার করলে এর শাস্তির বিধান রেখেছে। কোনো ব্যক্তি পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে পারবেন না।
শাস্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, 'এই বিধান কেউ লঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক ৩ শত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয় বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হইবেন।'
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নেশা বা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে। মাদক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ছাত্রদের সামনে শিক্ষকের ধূমপানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
সামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তারকারী অবস্থা, যা থেকে মুক্তির জন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ।
পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করার শাস্তি অনধিক ৩ শত টাকা অর্থদণ্ড।
একজন মাদক গ্রহণকারীর হৃদরোগ, যক্ষ্মা, ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রোগ হতে পাবে, যা তার শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে।
জাপানে কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
৭ থেকে ১৬ বছর বয়সে যারা অপরাধ করে তারাই কিশোর অপরাধী।
জনসংখ্যা নীতি বলতে জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত পরিকল্পনা বা নীতিকে বোঝায়।
মাদকসেবী বন্ধুর মাধ্যমে মাদকাসক্তির সূত্রপাত ঘটে।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম হলো টেলিভিশন।
থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা ৭ থেকে ১৮ বছর।
শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি শিশুমনে হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের বয়সসীমা ৭ থেকে ১৬ বছর।
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য।
শিশু-কিশোররা সাধারণত কৌতূহলপ্রবণ হয়।
কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড় সামাজিক সমস্যা।
পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা ৭ থেকে ১৮ বছর।
শারীরিক-মানসিক ত্রুটি বা বৈকল্য শিশুমনে হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়।
সুস্থ পারিবারিক জীবন ও সুষ্ঠু সামাজিক পরিবেশের অভাবে শিশু-কিশোররা অপরাধী হয়ে উঠতে পারে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ও শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বস্তি রয়েছে।
বেকারত্ব, নিঃসঙ্গতা, প্রিয়জনের মৃত্যু, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি কারণে অনেকের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়।
মাদকাসক্তি রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর।
কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের বিভিন্ন অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
হতাশা মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ। কারণ হতাশা থেকে মুক্তি লাভের আশায় প্রথমে বন্ধুবান্ধবের পরামর্শে বা তাদের দেখাদেখি অনেকে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করতে শুরু করে। পরে এটা তাদের নেশায় পরিণত হয়।
চলচ্চিত্র, টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট প্রভৃতির মাধ্যমে আজকাল এক দেশের সংস্কৃতি সহজেই অন্য দেশে প্রচারিত হয়। ফলে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। এই টানাপোড়ন সৃষ্টিকারী সংস্কৃতিটাকে অপসংস্কৃতি বলে।
পিতামাতা বারবার কর্মস্থল পরিবর্তন করলে তাঁদের সন্তানরা নতুন নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। এ কারণে সঙ্গী বা বন্ধু নির্বাচনে তাদের সমস্যা হয়। ফলে অনেকে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠে।
বাংলাদেশে বর্তমানে দক্ষ, আধাদক্ষ ও অদক্ষ জনশক্তির একটা বিরাট অংশ বেকার। বেকার জীবনে এ জনগোষ্ঠীর অনেকে হতাশায় ভুগছে। এক্ষেত্রেও অনেকে মাদকে আসক্ত হচ্ছে। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় পিতামাতার কর্মক্ষেত্রে অধিক ব্যস্ততা, বিশৃঙ্খল পরিবারে পিতামাতার ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি, তাছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি কারণে শিশু-কিশোরদের মনে হতাশার জন্ম নেয়। এক পর্যায়ে এসব পরিবারের সন্তানরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে।
হীনম্মন্যতা বিভিন্নভাবে কিশোর অপরাধের জন্ম দেয়। শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি বা বৈকল্য শিশুমনে হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়। ফলে শিশু বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ ও প্রতিভাবান শিশুরা অনেক সময় অপরাধী হয়ে ওঠে। তারা তাদের আবেগ ও প্রতিভা প্রকাশ করার উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় তারা হীনম্মন্যতায় ভোগে। যার দরুন অনেকসময় তারা অপরাধী হয়ে ওঠে।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা, সংগীত, ছবি আঁকা, শরীর চর্চা ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকলে শিশুরা সাধারণত আনন্দময় পরিবেশে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। অন্যদিকে, যারা এসব সুযোগ পায় না, তারা মানসিকভাবে অস্থিরতায় ভোগে। তারা এ মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন অন্যায়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এভাবে চিত্তবিনোদনের অভাবেও অনেক কিশোর-কিশোরী অপরাধী হয়ে ওঠে।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা সংগীত, ছবি আঁকা, শরীর চর্চা ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যাবলির সঙ্গে জড়িত শিশু-কিশোররা সাধারণত আনন্দময় পরিবেশে সুদ্ধভাবে বেড়ে ওঠে। অন্যদিকে যারা এসবের সুযোগ পায় না তারা মানসিক অস্থিরতার ফলে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণেই শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তোলা জরুরি।
মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ হলো কৌতূহল। কিশোররা স্বভাবতই কৌতূহলপ্রবণ ফলে কৌতূহলের বশেও অনেকে মাদক গ্রহণ করা শুরু করে। পিতা বা বাড়ির অন্য বয়স্কদের পকেট থেকে বিড়ি-সিগারেট চুরি করে শিশু-কিশোররা অনেক সময় তাদের কৌতূহল মেটায়। এ কৌতূহল থেকে একসময় তাদের ধূমপানের অভ্যাস গড়ে ওঠে। এ ধূমপান থেকেই তারা পরে অন্যান্য নেশাদ্রব্য যেমন- গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা প্রভৃতিতে আসক্ত হয়ে পড়ে।
মাদকাসক্তির বহুবিধ কারণ থাকলেও তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো হতাশা। জীবন চলার পথে বেকারত্ব, নিঃসঙ্গতা, প্রিয়জনের মৃত্যু, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি কারণে অনেকের মনে হতাশা সৃষ্টি হয়। এ হতাশা থেকে মুক্তি লাভের আশায় প্রথমে বন্ধুবান্ধবের পরামর্শে বা তাদের দেখাদেখি অনেকে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে হতাশাকে মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ বলা যায়।
মাদকাসক্তি একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। মাদক ব্যক্তির শারীরিক, পারিবারিক তথা সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। পরিবার ও সমাজের কাছে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়। মাদক গ্রহণের জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। এ কারণে আজই' আমাদের মাদককে না বলা দরকার।
মাদকাসক্তি প্রতিরোধে যুবকদের জন্য নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন। মাদকাসক্তি রোধে নৈতিক শিক্ষাই সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করে। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর জন্য ক্ষতিকারক ও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সচেষ্ট হতে হবে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও মাদক সম্পর্কে ধর্মে যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে সবাইকে তা জানতে হবে। মোটকথা নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে মাদকাসক্তি রোধ করা সম্ভব। এজন্য সমাজে নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
মাদকাসক্তি রোধে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর জন্য অভিভাবক ও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সচেষ্ট হতে হবে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও মাদক সম্পর্কে ধর্মে যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে সবাইকে তা জানতে হবে। মোটকথা নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমেই মাদকাসক্তি রোধ করা সম্ভব।
মাদকাসক্তি রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া উচিত। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর জন্য অভিভাবক ও পরিবারের বায়াজোষ্ঠ সদস্যদের সচেষ্ট হতে হবে। মোটকথা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে মাদক বিরোধী সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!