পৃথিবীতে মোট ১৯৫টি দেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম হলেও, আজকের বিশ্বে কোনো দেশের পক্ষেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা চলা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এমন কি রাজনৈতিক দিক দিয়েও দেশগুলো একে অপরের উপর কমবেশি নির্ভরশীল। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিজেদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরস্পরের সহযোগিতা নিতে হয়।
পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা চলা সম্ভব নয়। এজন্য অন্য দেশ ও সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান ও একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে যে সংস্থা গড়ে ওঠে তাকে আঞ্চলিক সংস্থা বলে। কয়েকটি আঞ্চলিক সংস্থা হলো- সার্ক, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রভৃতি।
পুরো পৃথিবীকে কেন্দ্র করে যে সংস্থার বিস্তৃতি ঘটেছে তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো- জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ওআইসি, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ফাও, ইউএনএফপিএ, ন্যাটো, ইউএনডিপি, হু প্রভৃতি।
UNICEF-এর পূর্ণরূপ হলো- United Nations International Children's Emergency Fund. (জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জরুরি শিশু তহবিল)।
ইউনিসেফ জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা যা বিভিন্ন দেশের বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, মৌলিক শিক্ষা, স্যানিটেশন ও নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ত্রাণ সাহায্য প্রদানের লক্ষ্যে ইউনিসেফ ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে আসছে। ইউনিসেফের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত। ১৯৬৫ সালে ইউনিসেফ শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পায়।
ইউনিসেফ ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর থেকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৫১ সালে ঢাকায় ইউনিসেফের অফিস প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭৭ সাল থেকে ইউনিসেফ নিয়মিতভাবে এ দেশের মা ও শিশুর উন্নয়নে কাজ করছে।
ইউনেস্কো জাতিসংঘের একটি সামাজিক সংস্থা, এ সংস্থার পুরো নাম United Nations Educational Scientific and Cultural Organization. (UNESCO) ('জাতিসংঘ শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা') ১৯৪৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। বর্তমানে ১৯৫টি রাষ্ট্র ইউনেস্কোর সদস্য।
ইউনেস্কোর প্রদান লক্ষ্য হলো শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে ইউনেস্কো কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ২৭শে অক্টোবর ইউনেস্কোতে যোগ দেয়। ১৯৭৩ সালে সরকার 'বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশন' গঠন করে। ইউনেস্কো বাংলাদেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বিশেষ করে বয়স্কদের শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইউনেস্কোর উদ্যোগেই আমাদের ভাষাশহিদ দিবস ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০১০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এখন ২১শে ফেব্রুয়ারি এবং বাংলা ভাষা পৃথিবীর সকল দেশ-জাতির মাতৃভাষাও প্রতিনিধিত্ব করছে।
ইউএনডিপি ১৯৬৫ সালে গঠিত হয়। এর পুরো নাম United Nations. Development Programme (UNDP) এটি জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন ও তদারকি করে থাকে। নিউইয়র্কে এর সদরদপ্তর অবস্থিত।
বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়নশীল দেশেগুলোর উন্নয়নে সহয়তা করা ইউএনডিপি-র প্রধান কাজ। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রধানত ৬টি ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে। যথা- গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা; দারিদ্রা দূরীকরণ; সংকট মোকাবিলা; পরিবেশ ও এনার্জি সংরক্ষণ; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং এইচআইভি (HIV) ও এইডস (AIDS)।
১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউএনডিপি সহায়তা করে আসছে। ইউএনডিপি বাংলাদেশ থেকে দারিদ্রদ্র্য দূরীকরণ, গ্রামাঞ্চলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, পরিবেেেশর উন্নয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্য ও সহযোগিতা করছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা FAO এর পুরো নাম Food and Agriculture Organization। এটি ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪টি দেশ এর সদস্য। এর সদর দপ্তর ইতালির রাজধানী রোমে।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থাটি সারা বিশ্বে ক্ষুধার বিরুদ্ধে কাজ করছে। ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণের মাধ্যমে বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে ফাও-এর প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ফাও-এর একটি সদস্য রাষ্ট্র। ঢাকায় এর শাখা অফিস আছে। বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষির উন্নয়নে ফাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এজন্য ফাও বাংলাদেশে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে সহায়তা ও কৃষির উন্নয়নে পরামর্শ দিয়ে থাকে। এছাড়া ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদে প্রান্তিক চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেয় সংস্থাটি।
বাংলাদেশ খাদ্যে পুরাপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। উপরন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই আমাদের দেশে, খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এই সমস্যার মোকাবিলায় একটি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফাও, সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সাহায্য করে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করে সংস্থাটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর পুরো নাম World Health Organization। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জাতিসংঘের এক বিশেষায়িত সংস্থা। এই সংস্থা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য কাজ করে থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। বিশ্ব, স্বাস্থ্য সংস্থার বিস্তৃত কাজের মধ্যে রয়েছে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পরামর্শ দেওয়া। এক্ষেত্রে বিশ্বের সকল অংশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করাই সংস্থাটির লক্ষ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিল গঠিত হয়। এটি ৭ই এপ্রিল তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালন করে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর সপ্তর অবস্থিত।
বিশ্বের সকল অংশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য। বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের পাশাপাশি। বাংলাদেশেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ঘাতক রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া কলেরা ও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণেরও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অবদান উল্লেখযোগ্য'।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশ থেকে সংক্রামক ব্যাধি দূর করতে সাহায্য করছে। এছাড়া দেশ থেকে ম্যালেরিয়া, দূরীকরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হার কমানোর জন্যও কাজ করছে সংস্থাটি।
শিশুদের ছয়টি ঘাতক রোগ হলো- হাম, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, যক্ষ্মা, পোলিও, হুপিং কাশি। শিশুদের এসব ঘাতক রোগ প্রতিরোধেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবদান রয়েছে।
জাতিসংঘে জনসংখ্যা তহবিল UNFPA এর পুরো নাম United Nations Population Fund. এটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর নিউইয়র্কে। বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশ ইউএনএফপিএ-এর সদস্য।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে ইউএনএফপিএ তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র যা বাংলাদেশেও (UNFPA) নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবিলা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়া ইউএনএফপি-এর অন্যতম প্রধান কাজ।
উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের জনসংখ্যাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানই হচ্ছে ইউএনএফপিএ-এর মূল লক্ষ্য। এটি জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে দেশগুলোর জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় ইউএনএফপিএ দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়া, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি বিষয়েও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে।
ইউএএফপিএ-র সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ চালু হয়েছে। এ বিভাগটি বাংলাদেশ ও বিশ্বের জনসংখ্যা সম্পর্কিত জ্ঞানদানের পাশাপাশি এ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
UNICEF-এর পূর্ণরূপ হলো- United Nations International Children's Emergency Fund.
ইউএনডিপির প্রধান কাজ হচ্ছ- বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করা।
UNDP-এর পূর্ণরূপ হলো- United Nations Development Programme.
UNFPA এর মূল লক্ষ্য হলো- উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের জনসংখ্যা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান।
UNDP-এর প্রধান কাজ হলো বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নে সহায়তা করা
WHO-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে "World Health Organization".
FAO-এর পূর্ণরূপ হলো- Food and Agriculture Organization.
FAO এর প্রধান লক্ষ্য হলো ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণের মাধ্যমে বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
FAO-এর সদর দপ্তর ইতালির রাজধানী রোমে।
ইউনিসেফের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।
মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে জাতিসংঘের ইউনিসেফ বা আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল কাজ করে।
WHO-এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে।
জলপাই পাতা শান্তির প্রতীক।
১৯৬৫ সালে ইউনিসেফ নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশন গঠন করা হয়।
UNFPA-এর পুরো নাম United Nations Population Fund.
ইউনিসেফ জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা, যা বিভিন্ন দেশের বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের সেবা প্রদান করে।
ইউনিসেফ ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫১ সালে ঢাকায় ইউনিসেফের অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়।
UNESCO-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Educational Scientific and Cultural Organization.
ইউনেস্কো জাতিসংঘের 'শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা'।
১৯৪৬ সালে ইউনেস্কো প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তর অবস্থিত।
বর্তমানে ১৯৫টি রাষ্ট্র ইউনেস্কোর সদস্য।
ইউনেস্কোর প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ইউনেস্কোর উদ্যোগে ২১ ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ইউএনডিপি ১৯৬৫ সালে গঠিত হয়।
ইউএনডিপি প্রধানত ৬টি ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে।
১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউএনডিপি সহায়তা করে আসছে।
১৯৪টি দেশ বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (FAO) সদস্য।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত।
UNFPA ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর সদর দপ্তর নিউইয়র্কে।
বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশ ইউএনএফপিএ-র সদস্য।
ইউনেস্কো জাতিসংঘের একটি সামাজিক সংস্থা। কারণ ইউনেস্কোর প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে ইউনেস্কো কাজ করে যাচ্ছে।
UNDP জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন ও তদারকি করে থাকে। বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করা UNDP-এর প্রধান কাজ। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রধানত ৬টি ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে। যথা- গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা; দারিদ্র্য দূরীকরণ; সংকট মোকাবিলা; পরিবেশ ও এনার্জি সংরক্ষণ; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং এইচআইভি (HIV) ও এইডস (AIDS) 1
বাংলাদেশ বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ফাও)-এর একটি সদস্যরাষ্ট্র। ঢাকাতে এর শাখা অফিস আছে। বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষির উন্নয়নে ফাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আবার প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ অবস্থার উন্নয়নকল্পে ফাও একটি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়। ফাও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে সহায়তা করে থাকে এবং কৃষির উন্নয়নে পরামর্শ দেয়। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করে। ঝড় ও সাইক্লোনে আক্রান্ত ক্ষুদে ও প্রান্তিক চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সংস্থা দেশ থেকে সংক্রামক রোগ দূর করতে সাহায্য করছে। শিশুদের ছয়টি ঘাতক রোগ যেমন- হাম, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, যক্ষ্মা, পোলিং, হুপিং কাশি প্রভৃতি প্রতিরোধেও সংস্থাটি অবদান রাখছে। এছাড়াও দেশ থেকে ম্যালেরিয়া দূরীকরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন উন্নতি, শিশু মৃত্যুহার কমানোর জন্যও সংস্থাটি কাজ করছে।
বিশ্বের সকল অংশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুবিধা 'নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গঠন করা হয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। ১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিল এটি গঠিত হয়। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গুরুত্ব রয়েছে গেছে। ইতিমধ্যে এ সংস্থা সংক্রামক ব্যাধি দূর করতে সাহায্য করছে। শিশুদের ৬টি ঘাতক রোগ প্রতিরোধেও এর অবদান আছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ সংস্থা তার অবদানের জন্য বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allপৃথিবীতে মোট ১৯৫টি দেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম হলেও, আজকের বিশ্বে কোনো দেশের পক্ষেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা চলা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এমন কি রাজনৈতিক দিক দিয়েও দেশগুলো একে অপরের উপর কমবেশি নির্ভরশীল। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিজেদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরস্পরের সহযোগিতা নিতে হয়।
পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা চলা সম্ভব নয়। এজন্য অন্য দেশ ও সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান ও একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে যে সংস্থা গড়ে ওঠে তাকে আঞ্চলিক সংস্থা বলে। কয়েকটি আঞ্চলিক সংস্থা হলো- সার্ক, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রভৃতি।
পুরো পৃথিবীকে কেন্দ্র করে যে সংস্থার বিস্তৃতি ঘটেছে তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো- জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ওআইসি, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ফাও, ইউএনএফপিএ, ন্যাটো, ইউএনডিপি, হু প্রভৃতি।
UNICEF-এর পূর্ণরূপ হলো- United Nations International Children's Emergency Fund. (জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জরুরি শিশু তহবিল)।
ইউনিসেফ জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা যা বিভিন্ন দেশের বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, মৌলিক শিক্ষা, স্যানিটেশন ও নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!