'বন্দনা' কবিতাটি 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
প্রতিটি ভালো কাজকে কল্যাণময় করার লক্ষ্যে প্রিয়জনের দোয়া নেওয়ার রেওয়াজ মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি। মধ্যযুগের কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের 'বন্দনা' কবিতায় সেই বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। কবি তার কাব্যের সূচনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। কাব্যকে সাফল্যমণ্ডিত করতে কবি পিতা-মাতা, গুরুজন, নগরবাসী, রাজসভার গণমান্য ব্যক্তিদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
উদ্দীপকের সাথে 'বন্দনা' কবিতার ওস্তাদের বন্দনার দিকটির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
মানবজীবনে শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য। শিক্ষকের হাত ধরেই মানুষ চিন্তাজগতের সঙ্গে পরিচিত হয়; জ্ঞানে-মূল্যবোধে জীবনকে বিকশিত করে তোলে।
উদ্দীপকে শিক্ষার্থী কর্তৃক গুরু-বন্দনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এই রীতি অনুযায়ী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একজন শিক্ষককে সম্মান জানানো বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে বোঝায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার জীবনে শিক্ষকের অবদানকে স্বীকার করে। 'বন্দনা' কবিতায় কবি কাব্যের সূচনায় শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করেছেন। করি তার জীবনে শিক্ষকের অবদান অকপটে স্বীকার করেছেন। শিক্ষকের কল্যাণে মনুষ্যত্বে উত্তীর্ণ হয়ে উন্নত জীবনের সন্ধান পেয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন। তাই কবি তার শিক্ষককে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। এভাবে বিষয়টি উদ্দীপকের গুরু-বন্দনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য শিক্ষকের অবদান অপরিসীম'- উদ্দীপক ও 'বন্দনা' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড আর শিক্ষক তার কান্ডারি। জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে জাতীয় জীবনকে পরিপূর্ণতা দানে শিক্ষক নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যান। জাতিকে কল্যাণের দিকে ধাবিত করেন।
উদ্দীপকে গুরুর বন্দনায় একজন শিক্ষার্থী শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা-নিবেদনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরুর আগেও শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। প্রাচীন গ্রিসে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের সূচনা হয় পৃথিবীর প্রবীণ শিক্ষক সক্রেটিসের হাত ধরে। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে শিক্ষকের অবদান তুলে ধরেছেন। শিক্ষকের হাত ধরেই কবি আলোকিত জীবনের স্বাদ পেয়েছেন। এটাকে কবি মনুষ্যত্বে উদ্ভাসিত জীবন বা দ্বিতীয় জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকের গুরুর বন্দনায় শিক্ষকের অবদানকে স্বীকার করার মতো 'বন্দনা' কবিতায়ও কবি গুরুর অবদান স্বীকার করেছেন। দেশ ও জাতির জন্য শিক্ষকের অবদান অপরিসীম। তিল তিল করে শিক্ষক তার নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় আকাঙ্ক্ষার উপযোগী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। আলোকিত ভবিষ্যৎ গঠনের কান্ডারির ভূমিকা পালন করেন। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য শিক্ষকের অবদান অপরিসীম।
Related Question
View All'বন্দনা' কবিতায় পিতার চেয়েও ওস্তাদ/শিক্ষককে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে।
'দোসর জন্ম' বলতে কবি শিক্ষকের হাত ধরে আলোকিত জীবনের স্পর্শ পাওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় জীবন পাওয়ার কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
জন্মগত দিক থেকে মানুষ অন্য সকল প্রাণীর মতোই প্রাণিত্বের ধারক। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ ন্যায়বোধ, কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধাবোধের সংস্পর্শে এসে মনুষ্যত্বের স্তরে উন্নীত হতে পারে। শিক্ষকের কল্যাণে মানুষ নৈতিক-সামাজিক ও মানবীয় গুণাবলি অর্জন করতে সক্ষম হয়। শিক্ষকের শিক্ষায় প্রাণিত্বের অন্ধকারত্ব থেকে মনুষ্যত্বের আলোয় আলোকিত জীবনের স্বাদ পাওয়ার বিষয়টিকে কবি 'দোসর জন্ম' বা দ্বিতীয় জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন। আলোচ্য পঙ্ক্তি দ্বারা সেই আলোকিত জীবনকেই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে 'বন্দনা' কবিতার কবির মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানবজীবনে মায়ের অবদান অন্য কারও তুল্য নয়। মা সন্তানকে কোলে-পিঠে করে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ প্রতিটি সন্তানের প্রধান কর্তব্য।
উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিকটি বিবৃত হয়েছে। এক রাতে তার মা পানি খেতে চাইলে ঘরে পানি না থাকায় বাইরে থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে এসে দেখেন তার মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। পানি হাতে বায়েজিদ সারা রাত মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে মা ঘুম থেকে জেগেই পানি পান করতে পারেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মায়ের অপরিমেয় ত্যাগের কথা স্বীকার করেছেন। মায়ের আদর-যত্ন-পরিচর্যার কথা তুলে ধরে তিনি মাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। সেই সঙ্গে কাব্য রচনার শুরুতেই মায়ের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করেছেন। এভাবে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশের দিকটি উদ্দীপকের বায়েজিদের কর্মকান্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"প্রকাশিত দিকটিই 'বন্দনা' কবিতার একমাত্র দিক নয়।"- 'মন্তব্যটি যথার্থ।
মানবশিশু অসহায় হয়ে জন্মগ্রহণ করে। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে বাবা-মা, শিক্ষক ও ঘনিষ্ঠজনদের অবদান উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি মানুষের উচিত তার জীবনে অবদান রাখা মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
'বন্দনা' কবিতায় কবি তার জীবনে মা-বাবা ও শিক্ষকের অবদান স্বীকার করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রথমেই কবি মায়ের সেবাযত্ন ও পরিচর্যায় অসহায় অবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এরপর কবি বাবার ত্যাগ স্বীকার ও শিক্ষকের হাত ধরে জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিকটি বিদ্যমান। মায়ের কষ্ট লাঘব করতে সারা রাত পানি হাতে মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে থেকে মাতৃভক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে তা 'বন্দনা' কবিতার কবির মায়ের প্রতি-শ্রদ্ধাবোধের দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে। তবে এটিই 'বন্দনা' কবিতার একমাত্র দিক নয়। এই কবিতায় কবি মায়ের পাশাপাশি বাবার ত্যাগ ও শিক্ষকের পরিশ্রমকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। এছাড়াও কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য নগরবাসী ও রাজসভাসদদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। এদিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
শাহ মুহম্মদ সগীর আনুমানিক ১৪-১৫ শতকের কবি।
"অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল"- এখানে কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
'বন্দনা' কবিতায় কবি মায়ের স্নেহ-মমতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। শিশুর শৈশব কাটে অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে। এ সময় মায়ের আদর-যত্ন না পেলে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ ব্যাহত হয়। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যার মধ্য দিয়ে শিশু ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মায়ের এমন ত্যাগকে কবি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। মানবশিশুর অসহায় অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক মায়ের অকৃত্রিম অবদানকে স্বীকার করার জন্য কবি আলোচ্য পঙ্ক্তিটির যোজনা করেছেন।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!