আমাদের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বাসস্থান অন্যতম। গৃহকে বাসোপযোগী করার জন্য প্রয়োজন হয় আসবাবপত্র । আর গৃহকে মনোরম ও আকর্ষণীয় করে নান্দনিকতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হয় গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা। এই ক্ষেত্রে দামি আসবাবের প্রয়োজন নেই। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কমদামি জিনিস দিয়েও গৃহ সজ্জা করে রুচি ও শিল্পী মনের পরিচয় দেওয়া যায়। গৃহকে সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে বসবাসের উপযোগী করে তোলার জন্য অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা একান্ত প্রয়োজন। পরিবার গৃহসজ্জার মাধ্যমে জীবনযাপনের মান উন্নত করে মানসিক তৃপ্তি লাভ করে। আর গৃহের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে কেন্দ্র করেই সামাজিক উন্নতির বিকাশ ঘটে।
Related Question
View Allআসবাবপত্র বিন্যাসের উপর গৃহসজ্জার সৌন্দর্য নির্ভর করে।
গৃহকে মনোরম ও আকর্ষণীয় করে নান্দনিকতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হয় গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা।
পরিবার গৃহসজ্জার মাধ্যমে জীবনযাপনের মান উন্নত করে মানসিক তৃপ্তি লাভ করে। গৃহকে সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে বসবাসের উপযোগী করে তোলার জন্য অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা একান্ত প্রয়োজন।
গৃহকে বাসোপযোগী করার জন্য প্রয়োজন আসবাবপত্র। পরিবারের জীবনযাত্রার মান, অবস্থানের মান, পারিবারিক জীবন চক্রের স্তর ইত্যাদির ভিন্নতায় আসবাবের চাহিদার ধন বদলায়।
আসবাব নির্বাচনে কালাম সাহেবকে কতগুলো বিষয় বিবেচনায় রাখতে হতো। যেহেতু কালাম সাহেবের নিজের কাছে অর্থ ছিল না, সেহেতু তার নতুন আসবাব প্রয়োজন কি না, বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল। কারণ পরিবারের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করতে হয়। আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করলে সমাজেও তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া কক্ষের আয়তন ও আকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করলে কালাম সাহেবকে হয়তো এতো অসুবিধায় পড়তে হতো না। আসবাব ক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর উপযোগিতা। আসবাবের উপযোগিতা হচ্ছে তার চাহিদা মেটানোর ক্ষমতার প্রতি লক্ষ রাখা।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখলে কালাম সাহেবকে এত সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো না।
প্রাধান্য বলতে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুকে বোঝায়।
বসার ঘরে সুদৃশ্য সেন্টার টেবিলে ফুলদানিতে তাজা ফুল, খাবার ঘরের টেবিলে বিভিন্ন ফল, শোবার ঘরে সুদৃশ্য আসবাব বা কার্পেট ইত্যাদি দিয়ে ঘর সাজিয়ে প্রাধান্য সৃষ্টি করা যায়। এসব কারণেই আসবাব বিন্যাসে প্রাধান্য গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষ সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর গৃহে ফিরে আসে এবং শয়নকক্ষে বিশ্রাম নেয়। তাই তাকে শয়নকক্ষের আসবাব বিন্যাসে যত্নবান হতে হবে। মিসেস জরিফা শয়নকক্ষের আসবাব যেভাবে বিন্যাস করতে পারেন তা হলো-
১. তিনি শয়নকক্ষে খাট, ড্রেসিং টেবিল, আলমারি ইত্যাদি আসবাব রাখতে পারেন। খাটের অবস্থান এমনভাবে হবে যাতে চোখে আলো না পড়ে।
২. শয়নকক্ষের দেয়ালের রং হালকা হলে ভালো হয়।
৩. তিনি খাটের পাশে বই বা খবরের কাগজ রাখার জন্য ছোট টেবিল রাখতে পারেন এবং একটি টেবিল ল্যাম্প রাখতে পারেন যাতে পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায়।
৪. তিনি দেয়াল সজ্জায় চিত্রকর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ড্রেসিং টেবিল বা সাইড টেবিলের ওপর একগুচ্ছ ফুল রেখে ঘরের সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে তুলতে পারেন।
এভাবেই মিসেস জরিফা তার শয়নকক্ষের আসবাবের সঠিক বিন্যাস করতে পারেন।
শিল্পরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে গেলে শিল্প সৃষ্টির মূলনীতিগুলো মেনে চলতে হয়।
সঠিকভাবে আসবাব বিন্যাসের মাধ্যমে গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জাকে আকর্ষণীয় ও আরামদায়ক করে রাখা যায়। এক্ষেত্রে শিল্পের মূলনীতিগুলো অনুসরণ করে আসবাব বিন্যাস করা উচিত।
জরিফা বেগম সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর বাসায় ফিরে শোবার ঘরে ঢুকে ক্লান্ত বোধ করেন। তিনি আসবাব বিন্যাসে শিল্পনীতি অনুসরণ করেন নি। তাই কক্ষটি কোনোভাবেই তাকে আকর্ষণ করে না।
ঘরের আকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব ক্রয় করতে হয়। বড় ঘরে বড় আসবাব এবং ছোট ঘরের জন্য ছোট আসবাব মানানসই। আবার যেখানে বড় ও ছোট আসবাবের সংমিশ্রণ প্রয়োজন, সেখানে বড় আসবাবের সঙ্গে সমতা রক্ষা করে ছোট দুই তিনটি আসবাব একত্রে সাজানো যায়। কক্ষের একদিকের সঙ্গে অন্য দিকের আসবাবপত্রের, মাঝখানের ও কর্ণারের আসবাবপত্রের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। এছাড়াও অপ্রত্যক্ষ ভারসাম্য গৃহসজ্জায় নতুনত্ব ও আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
আসবাব বিন্যাসে শিল্পনীতি ছন্দের প্রয়োগ করা হলে গৃহসজ্জায় আরও নান্দনিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছন্দ আসবাব বিন্যাসে আকর্ষণ সৃষ্টি করে এবং একঘেয়েমি দূর করে। সুতরাং বলা যায়, সঠিক শিল্পনীতি অনুসরণের মাধ্যমে জরিফা বেগমের বাসস্থান আকর্ষণীয় হতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!