হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থের নাম হচ্ছে বেদ।
বৈদিক শিক্ষার কর্ম ও জ্ঞান এ দুই মতের সংযোগ স্থাপন করে সৃষ্টি হয় স্মৃতিশাস্ত্র। এ শাস্ত্র মোক্ষলাভের জন্য কর্ম ও জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া জীবন চর্চার পদ্ধতি হিসেবে ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস এ চার আশ্রমের বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম দুই আশ্রমে কর্মযোগ এবং শেষের দুই আশ্রমে জ্ঞান যোগের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে এ গ্রন্থে। সর্বোপরি হিন্দু সমাজ পরিচালনার বিধিবিধানের এক অপূর্ব সমন্বয় হচ্ছে এ স্মৃতিশাস্ত্র।
উদ্দীপকের গোপালের চরিত্র পাঠ্যপুস্তকের মহামানব হরিচাঁদ ঠাকুরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছাত্রজীবন থেকেই হরিচাঁদ ঠাকুর ছিলেন খুব মেধাবী। তিনি শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি মানুষের চিরমুক্তির কথা ভাবতেন। বিদ্যালয়ের পড়াশুনা তাঁর ভালো না লাগায় তিনি মাঠে বন্ধুদের সাথে গোচারণ করতেন, খেলাধুলা করতেন। কখনোও কখনোও প্রাণ খুলে গান, ভজন এমনকি গীতাদি শুনিয়ে সকলকে মুগ্ধ করতেন। এজন্য সবাই তাকে রাখাল রাজা বলে ডাকত। হরিচাঁদ ঠাকুরের চিকিৎসা পদ্ধতি শাস্ত্রসম্মত ছিল না। সবকিছুতেই ছিল আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাব। শ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর কোনো নতুন ধর্মীয় মতবাদ প্রচার করেন নি। চৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তিত প্রেম ভক্তির ধর্মের প্রবহমানধারাকে আরও সহজভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর এই সহজ সাধন পথের নাম 'মতুয়াবাদ'। তাঁর অনুসারীদের বলা হয় মতুয়া। মতুয়া সম্প্রদায় শঙ্কর প্রবর্তিত, একেশ্বরে বিশ্বাসী। তিনি তাঁর অনুসারীদেরকে সংসারী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেও সংসারী ছিলেন। সামাজিকভাবে ঠাকুর এদেশের অবহেলিত সম্প্রদায়কে একতাবদ্ধ ও সনাতন ধর্মে একনিষ্ঠ থাকার প্রেরণা যুগিয়ে গেছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির লোক ঠাকুরের অনুসারী হয়েছে।
উদ্দীপকের অনিক বাবুর কর্মকান্ড আমার পাঠ্যপুস্তকের ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৮৮৮ সালে পাবনা জেলার হিমাইতপুর গ্রামে আবির্ভূত হন। তিনি 'সৎসঙ্গ' নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সৎসঙ্গের আদর্শ হচ্ছে- ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয় বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র। ভালোবাসাই মহামূল্য যা দিয়ে শান্তি কেনা যায়। এ সংঘের পাঁচটি মূলনীতি হচ্ছে- যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। আর এ সংঘের মূল স্তম্ভ হিসেবে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ নীতিগুলো অনুশীলিত হচ্ছে। এমনিভাবে ধর্ম ও বিজ্ঞানকে একত্রিত করে জীবন গঠনই সৎসঙ্গীদের আদর্শ। তাঁর ছড়া, কবিতা, প্রার্থনা, গীত, সংকীর্তন, গান এগুলো বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছে। সৎসঙ্গ চায় আদর্শ মানুষ, আদর্শ গৃহী, আদর্শ ধর্মযাজক। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন ধর্মের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় নন্দিত হচ্ছে।
Related Question
View Allভগবান স্বয়ং বা তাঁর কোনো দেব-দেবী মনুষ্যাদির মূর্তি ধারণ করে ভগবানের অপ্রাকৃত নিত্যধাম থেকে নেমে আসাকে অবতার বলা হয়। আর অবতার সম্পর্কে যে দার্শনিক চিন্তাভাবনা, তা অবতারবাদ নামে পরিচিত।
বেদ ও উপনিষদে বলা হয়েছে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। ব্রহ্ম বা ঈশ্বর একাধিক নয়। এই যে এক ঈশ্বরে বিশ্বাস, তাকে একেশ্বরবাদ বলে। আবার অবতার ও দেব-দেবী একই ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রকাশ, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এ বিশ্বাসই একেশ্বরবাদ। সুতরাং একেশ্বরবাদ হিন্দুধর্মের একটি বিশ্বাস।
শংকর স্বামী স্বরূপানন্দের মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে আবির্ভূত হন। তিনি 'অযাচক আশ্রম' এর প্রতিষ্ঠাতা। এ আশ্রমে অন্যের কাছ থেকে কোনো চাঁদা নেওয়া হয় না; এরা নিজেদের অর্থের সংস্থান নিজেরাই করেন। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি স্বামী স্বরূপানন্দের আদর্শকে রূপদান করার লক্ষ্যে চরিত্র গঠন আন্দোলন শুরু হয়। এর মূল আবেদন, "আমি ভালো মানুষ হব এবং অপরকে ভালো হতে সহায়তা দিব।" শংকর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষে অযাচক আশ্রমের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
উদ্দীপকের আলোচিত মহাপুরুষ হচ্ছেন শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস। তিনি ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরে আবির্ভূত হন। তিনি 'অযাচক আশ্রম' এর প্রতিষ্ঠাতা। অযাচক আশ্রমের বৈশিষ্ট্য হল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত উপাসনায় চরিত্র, গঠন, সমাজ সংস্কার, ব্রহ্মচর্য স্বাবলম্বন ও জগতের কল্যাণের কাজে নিযুক্ত থাকা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে অর্থ যাচঞা না করা এ সংগঠনের আদর্শ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগিতায় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি স্বামী স্বরূপানন্দের আদর্শকে রূপদান করার লক্ষ্যে চরিত্র গঠন আন্দোলন শুরু হয়। এর মূল আবেদন, "আমি ভালো মানুষ হব এবং অপরকে ভালো হতে সহায়তা দিব।" স্বামী স্বরূপানন্দের মতাদর্শ থেকে আমরা এ শিক্ষা পাই যে, সকলকে সমানভাবে ভালোবাসতে হবে। স্বামী স্বরূপানন্দ রচিত গ্রন্থাদি ও সংগীত সমাজের কল্যাণ সাধনে বিশেষ অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছে।
কারও অনিষ্ট কামনা না করে সকলকে মন থেকে ভালোবাসাকেই অহিংসা বলে।
হরিচাঁদ ঠাকুরের ধর্মনীতি থেকে মতুয়া ধর্মের উদ্ভব হলো। হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হিন্দু সমাজে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এক হরিণামে যেতে থাকার আহ্বান জানান। এ ধর্মের মূলমন্ত্র হচ্ছে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিণামে মেতে থাকা। হরিণামই জগতে কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে আবশ্যক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!