যখন উচ্চ বংশজাত পাত্রের সঙ্গে নিম্নশ্রেণির কন্যার বিবাহ হয়, তখন তাকে অনুলোম বিবাহ বলে।
নগর সমাজে জ্ঞাতিসম্পর্কের প্রকৃতি অনেকটা কৃত্রিম।
পাশপাশি ফ্ল্যাটে বছরের পর বছর বাস করেও শহরবাসীরা পরস্পরের সাথে অপরিচিতি থাকেন। নগর জীবনে মানুষ আত্মীয়- স্বজনের ওপর নির্ভর করার চেয়ে তার নিজ কর্মপ্রচেষ্টা, সভা- সমিতি, বিমা, হাসপাতাল, সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তবে আধুনিক নগর সমাজে একান্ত নিজস্ব পরিবার ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে বন্ধন কম দৃঢ় নয়। বস্তুত নাগরিক জীবন নৈর্ব্যক্তিক ও বস্তুতান্ত্রিক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এখানে জ্ঞাতিসম্পর্কের প্রভাব ও গুরুত্ব অনেকাংশেই কম।
উদ্দীপকের মামুনের পরিবারটি একক পরিবার এবং একই সাথে নয়াবাস পরিবার।
মামুনের বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে শহরে গিয়ে বসবাস করার বিষয়টি নয়াবাস পরিবার ও একই সাথে একক পরিবারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমান সময়ে সমগ্র বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় পরিবার ব্যবস্থা হচ্ছে একক বা অণু পরিবার। একজন স্বামী এবং একজন স্ত্রী নিয়ে এ পরিবার গঠিত হয়। একক পরিবারে স্বামী- স্ত্রীর সন্তানাদি থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে। শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও আধুনিকায়নের ফলে একক পরিবার ক্রমশ সর্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে। গ্রামীণ সমাজের তুলনায় নগর সমাজে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা বেশি। যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে একক পরিবারের সৃষ্টি হয়ে থাকে। আবার বিয়ের পর যদি স্বামী- স্ত্রী নতুন কোনো জায়গায় গিয়ে আলাদা বসবাস করে তবে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে। এক্ষেত্রে নবদম্পতি স্বামীর কিংবা স্ত্রীর বাবার বাড়িতে থাকে না।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের মামুনের পরিবারটি একক পরিবার এবং একই সাথে নয়াবাস পরিবার।
উদ্দীপকের রতন মিয়ার বৃহৎ পরিবার ভাঙনের মূল কারণসমূহের মধ্যে নগরায়ণের প্রভাব, নতুন কর্মক্ষেত্র ও শিল্পায়নের বিকাশ, স্বাতন্ত্র্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাসের জন্য আসে। নতুন কর্মক্ষেত্র ও শিল্পায়নের বিকাশ এর অন্যতম কারণ। মানুষ দিন দিন শিক্ষিত হওয়ার কারণে শহরেই তাদের কর্মক্ষেত্র হয় এবং কলকারখানা গড়ে ওঠায় মানুষ শহরে কাজের জন্য ভীড় করে। ফলে গ্রামের যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে শহরে এসে একক পরিবারে রূপান্তরিত হচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপান্তরিত হওয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। যৌথ পরিবারে ব্যক্তির স্বকীয় চিন্তা ও বেশ খানিকটা সীমিত। তাই স্বাতন্ত্র্যবাদী চিন্তার কারণে যৌথ পরিবার থেকে আলাদা হয়ে একক পরিবার গঠিত হচ্ছে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, রতন মিয়ার পরিবার একসময় ভেঙ্গে নতুন কয়েকটি একক পরিবার গড়ে ওঠে যারা শহরে বসবাস শুরু করে। রতন মিয়ার ছেলেদের চাকরি ও ব্যবসার কারণে শহরে বসবাস করতে হয় এবং তাদের স্বাতন্ত্র্যবাদী চিন্তা ও আলাদা কর্মক্ষেত্রের কারণে একক পরিবার গড়ে তুলতে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, রতন মিয়ার যৌথ পরিবারটি ভেঙে একক পরিবার হওয়া বর্তমান সমাজের একটি সাধারণ চিত্র এবং এর কারণ নগরায়ণ ও স্বাতন্ত্র্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি।
Related Question
View Allগারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক।
শহুরে সমাজে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশের শহুরে সমাজ সাধারণত বৃহৎ এবং অধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট। ফলে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ কম। শহরের মানুষেরা অত্যন্ত যান্ত্রিক ও কৃত্রিম প্রকৃতির হওয়ায় পারস্পরিক আলাপ তেমন হয় না। ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক দূরত্ব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি হচ্ছে পরিবার। ক্ষমতার মাত্রার ভিত্তিতে বাংলাদেশে দু ধরনের পরিবারের অস্তিত্ব লক্ষণীয়। যথা- পিতৃপ্রধান ও সমতাভিত্তিক পরিবার। সহজ কথায়, এ দেশের পরিবার প্রধানত পিতৃপ্রধান। অর্থাৎ সমস্ত পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরুষের অধিকার সর্বস্বীকৃত। তবে পিতৃপ্রধান পরিবারে নারীর মর্যাদা একেবারেই নেই এমন কথা বলা চলে না। এ বিষয়টি পরিবার থেকে পরিবারে পৃথক হতে পারে। অন্যদিকে, নগরাঞ্চলে উচ্চ শিক্ষিত ও উদার মনোভাবাপন্ন পরিবারে সমতার নীতি মেনে চলতে দেখা যায়। তবে এ দেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা নিতান্তই কম দেখা যায়।
উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত উপাদানগুলোর ভিত্তিতে বাংলাদেশে যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয় পাওয়া যায় তা হলো চাকমা নৃগোষ্ঠী।
চাকমা সমাজে আদামের নেতৃত্বে কারবারী, মৌজার নেতৃত্বে হেডম্যান এবং সার্কেলের নেতৃত্বে থাকেন রাজা। অবশ্য বর্তমানে এ ধরনের নেতৃত্ব ব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। আবার এটাও ঠিক যে, অনুরূপ রাজনৈতিক প্রশাসনিক কাঠামোর নেতৃত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
আদাম বা পাড়া: কতকগুলো চাকমা পরিবার গুচ্ছ নিয়ে গঠিত হয় আদাম বা পাড়া। আদামের প্রধানকে বলা হয় কারবারী। চাকমা রাজা তাকে নিয়োগ করেন। তিনি আদামের শান্তিশৃঙ্খলা এবং সালিশ বিচার কার্যে মৌজা প্রধানকে সাহায্য করে থাকেন।
গ্রাম বা মৌজা: কতকগুলো চাকমা আদাম নিয়ে গঠিত হয় গ্রাম বা মৌজা। এর প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান। চাকমা রাজার সুপারিশক্রমে ডেপুটি কমিশনার হেডম্যানকে নিযুক্ত করেন। হেডম্যান মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। খাজনা আদায় করার দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত থাকে।
চাকমা সার্কেল: চাকমা সমাজের কয়েকশ মৌজা বা গ্রাম মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত। এর প্রধান হচ্ছেন চাকমা রাজা। রাজা বংশ পরম্পরায় নিযুক্ত হন। চাকমা রীতি অনুযায়ী তিনি সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। চাকমা রাজা চাকমা সমাজের প্রতীক।
তিনি সমগ্র চাকমা জনগোষ্ঠীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র।
বিবাহের প্রধান সামাজিক উদ্দেশ্য হলো পরিবার প্রতিষ্ঠা করা।
কোচরা বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে।
কোচদের প্রধান উৎসবের মধ্যে হেমন্তকালে ধান রোপণ করার সময় 'গোচর পর্ণা', নতুন ফসল তোলার সময় 'লবণ খাওয়া' ও 'ধানের ফুল দেওয়া; পিতামাতার আত্মার কল্যাণ কামনায় 'কৈনা গৎ', পুত্র সন্তান লাভের আশায় ভাদ্র মাসের অষ্টম চাঁদে 'জিড়য়া' ও 'ভাদু' এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে বৃষ্টির কামনায় 'হুদুমা' ইত্যাদি প্রধান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!