বাংলাদেশের প্রথম কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে স্থাপিত হয়।
সমাজের অসহায় ও ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের মানবাধিকার রাখায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এ কমিশন গবেষণা, আইনগত এবং প্রশাসনিক সুপারিশের মাধ্যমে মানবাধিকার নীতিমালার উন্নয়ন করে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলাগুলো তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের সুযোগ সৃষ্টি করে। মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট শিক্ষার বিকাশ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির বাস্তবায়ন করে। সরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ, জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়সহ মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকার সিপিপি (Cyclone Preparedness Programme) প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আক্রান্তদের Early Warning Signal Evaluation, Sheltering, Search & Rescue, First Aid and Relief and Rehabilitation সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপকূলীয় ১৩টি জেলার ৩৭টি উপজেলায় মোট ৩,২৯১ ইউনিটে ৪৯,৩৬৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। বর্তমানে আরও ৫টি উপজেলাকে এর আওতায় আনা হয়েছে।
উদ্দীপকে ঘূর্ণিঝড় 'তুঘলক' এর কথা বলা হয়েছে। ভয়ঙ্কর শক্তি নিয়ে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা এ ঝড় মোকাবিলায় সমুদ্র বন্দরগুলোতে ১০নং মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে এবং সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে ও নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার উপরে বর্ণিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগ অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ করা যায়।
সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিহ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়াদান ব্যবস্থায় সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি ও পরিকল্পনা হালনাগাদকরণ কার্যক্রমে সমাজকর্মীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। সামাজিক গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত নীতি নির্ধারকদের সমাজকর্মীরা সহায়তা করতে পারেন। সমাজভিত্তিক ঝুঁকি হ্রাস এবং ঝুঁকি হ্রাস কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। এর পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি হ্রাস কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমষ্টি উন্নয়ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সচেতন করে তোলা যায়। এমনকি দল সমাজকর্মের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োগ করে দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে তোলায় সমাজকর্মীরা সাহায্য করতে পারেন। সমাজকর্মের অন্যতম সহায়ক পদ্ধতি হলো সামাজিক কার্যক্রম (Social action)। যোগাযোগ, তথ্য ও শিক্ষামূলক প্রচারণা এবং সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি ও পেশাদার গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে আইন পরিষদ গঠন প্রভৃতি সামাজিক কার্যক্রম প্রয়োগের কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকিহ্রাস, প্রস্তুতি ও সাড়াদান ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে সামাজিক কার্যক্রমের উপরোক্ত প্রয়োগ কৌশলগুলো অনুশীলন করা যায়.। সামগ্রিকভাবে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড়সহ সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ করা যায়।
Related Question
View Allমাঠকর্মী যে সকল নিয়ম-নীতির মাধ্যমে তার কার্য সম্পাদন করে তাকে মাঠকর্ম নীতি বলা হয়।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হচ্ছে সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির পেশাগত অনুশীলন। এ শাখায় মনো-সামাজিক সামঞ্জস্যহীনতা, অক্ষমতা বা আংশিক অক্ষমতা অথবা আবেগীয় ও মানসিক সামঞ্জস্যহীনতার প্রতিকার ও প্রতিরোধে কাজ করে।
সাধারণত শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্যকলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্যার্থীকে সাইকোথেরাপি এবং পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেগুলোই মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না করলে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না। তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পায় না। এমনকি অসুস্থ হলেও তারা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। আর তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ এ সকল মৌলিক মানবিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তাই বলা যায়, তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষরা মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারের সহায়তার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত করে তোলে। গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, বেকার, দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উপার্জনক্ষম করে তোলা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করা এবং গ্রামের সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাও গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর বাইরে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতা দূরীকরণে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচলিত হয়। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেও এ কর্মসূচি কাজ করে থাকে। গ্রামের জনগণের মধ্যে পুষ্টিজ্ঞান, খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, শিশু যত্ন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান, শিশু, যুবক, মহিলা, প্রতিবন্ধী প্রভৃতির জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অক্ষমদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে। একইসাথে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কাজ করে থাকে।
প্রতিটি কাজের সফলতা-বিফলতা বিশ্লেষণ করাই হলো মূল্যায়ন।
পরিবার গঠনে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিবাহ হচ্ছে এমন একটি কার্যপ্রণালি যার মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে। মূলত বিবাহ হচ্ছে পরিবার গঠনের উপায়। কেননা একজন নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে পারিবারিক জীবনের সূচনা ঘটিয়ে দেয় বিবাহ। বিবাহ ছাড়া পরিবার গঠন অসম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!