গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান উৎস কৃষি।
হালখাতা হলো বছরের প্রথম দিন দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। ব্যবসায়ীরা ব্যবসার মঙ্গল কামনা করে নববর্ষের প্রথম দিন দেনা-পাওনার হিসাব সমন্বয় করে নতুন খাতা খোলেন। দোকানীরা 'শুভ হালখাতা কার্ড'-এর মাধ্যমে খদ্দেরদের নিমন্ত্রণ জানান এবং তাদের মিষ্টিমুখ করান।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির সামাজিক অর্থনৈতিক জীবনভিত্তিক সংস্কৃতি ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশে গ্রামীণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনভিত্তিক সংস্কৃতিতে দেখা যায়। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা প্রধানত কৃষির সাথে জড়িত। পূর্বে লাঙল দিয়ে মানুষ জমি চাষ করত, 'আর সেচ ব্যবস্থা ছিল প্রকৃতিনির্ভর। কিন্তু বর্তমানে কলের লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয়। আর পানিসেচের জন্য ব্যবহার করা হয় শ্যালো মেশিন বা ডিপ মেশিন। যেমনটি উদ্দীপকের কৃষক করিমের ক্ষেত্রে দেখা যায়। বস্তুত শহুরে সংস্কৃতির কিছু প্রভাব বর্তমানে গ্রামীণ সংস্কৃতিতে লক্ষ করা যাচ্ছে। গ্রামের মানুষ এক সময় হেঁটে-চলাফেরা করত। ছেলেমেয়েরা হেঁটে স্কুলে যেত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাঘাটের উন্নতি হওয়ায় গ্রামের ছেলেমেয়েরা স্কুলভ্যানে করে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। মানুষ রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশায় চলাফেরা করছে। উদ্দীপকে কৃষক করিম ও তার ছেলে আলামিনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে তেমনটি পরিলক্ষিত হয়। এর' মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের সামাজিক অর্থনৈতিক ও জীবনভিত্তিক সংস্কৃতিই প্রকাশ পায়।
উক্ত সংস্কৃতি অর্থাৎ গ্রামীণ সংস্কৃতি বর্তমানে শহুরে সংস্কৃতির প্রভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। সংস্কৃতি সর্বদাই পরিবর্তনশীল। পূর্বে গ্রামীণ মানুষ শুধু কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু বর্তমানে মানুষ নতুন নতুন অনেক পেশার সাথে যুক্ত হচ্ছে। তাছাড়া এক সময় কৃষিকাজে লাঙল আর শ্রমই ছিল প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু বর্তমানে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর, পানিসেচের জন্য শ্যালো মেশিন বা ডিপ মেশিন ব্যবহার হচ্ছে। এক সময় গ্রামের মানুষ সাধারণ পোশাক পরত। পুরুষরা লুঙ্গি, গেঞ্জি বা ফতুয়া পরত। মেয়েরা পরত সুতির শাড়ি। কিন্তু বর্তমানে শহুরে সংস্কৃতির প্রভাবে গ্রামের ছেলেরা লুঙ্গি, শার্টের পাশাপাশি প্যান্ট পরছে। মেয়েরা ফ্রক, সালোয়ার-কামিজ আর শাড়ি পরছে। গ্রামের মানুষ এখন হাঁটার বদলে রিকশা, ভ্যান, মোটরগাড়িতে চলাফেরা করছে। গ্রামীণ ঘরবাড়িতেও এসেছে নানা পরিবর্তন। এখন গ্রামে বাঁশ, ছনের ঘরের বদলে টিনের ও ইটের দালান লক্ষ করা যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, শহুরে সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
Related Question
View Allবাংলা প্রথম মাসের নাম বৈশাখ।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এদেশের কৃষি সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক তার কৃষিকাজের জন্য বিশেষভাবে মাটি, মেঘ, বৃষ্টি, রোদ এসবের ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতি যদি অনুর্বর হয় তাহলে কৃষি উৎপাদনেও তেমন ফল পাওয়া যাবে না। আবার প্রকৃতির আলো, বাতাস, আবহাওয়া সবকিছু অনুকূলে হলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তাই বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে বাংলার পহেলা বৈশাখের মেলা তথা বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে বাঙালিরা তাদের অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘ এক মাস মেলা উদ্যাপন করে। এ মেলায় গ্রাম-শহর সকল স্থানে লোক সমাগম হয়। মেয়েরা সকলে লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরিধান করে মেলার দৃশ্যকে রঙিন করে দেয়। শহরের মেলাগুলোতে বিভিন্ন ব্যান্ড পার্টির আয়োজন থাকে। এ মেলার আকর্ষণীয় দৃশ্য হচ্ছে- প্রভাতে সকল শ্রেণির মানুষের রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের আয়োজনে একত্রিত হওয়া। যা মূলত গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে দোয়েল চত্বর, টিএসসি, শাহবাগ সকল স্থান খুব সরগরম হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে গানবাজনার আওয়াজে প্রকৃতি যেন ভারী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে নাগরদোলা থাকে। এতে শিশুরা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে হাসি-আনন্দের মাঝেই দিনটি শেষ হয়। সুতরাং উদ্দীপকের মেলাটি নিঃসন্দেহে পহেলা বৈশাখের মেলা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতির একটি উৎসব বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈশাখী মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ মেলায় বাংলার ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে। মেয়েরা রং-বেরঙের শাড়ি পরিধান করে মেলা উদ্যাপন করে। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও নাগরদোলা বসে। দোকানিরা সেখানে নানা রকমের জিনিস বিক্রি করে এবং মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করে আনন্দের মাধ্যমে মেলা উদ্যাপন করে। মেলার দিন সকাল বেলা সকলে মিলে রমনা বটমূলে একত্রিত হয় এবং সমবেতভাবে পান্তা-ইলিশে অংশ নেয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন বছরে একবার হলেও তা আমাদের সংস্কৃতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিকশিত করেছে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মানুষ তার ধর্মকে সযত্নে লালন করলেও পহেলা বৈশাখের দিন সকলে কাঁধে কাঁধ মিলে এ মেলা উদ্যাপন করে। হাজার হাজার বছরের পুরনো এ সংস্কৃতি উদ্যাপনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অপরিসীম।
'গোপী নাচ' মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর উৎসব।
'বৈসাবি' বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, তঞ্চঙ্গা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর যৌথভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনকে বোঝায়। বাংলাদেশের প্রায় সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষ নাচ-গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশাখী, সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটিকে সমন্বয় করে বর্তমানে সবাই একত্রে পালন করে 'বৈসাবি।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!