নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি বাহিনী প্রবেশের দৃশ্য প্রথম দৃষ্টিগোচর হয় গ্রামের ইমাম সাহেবের। মিলিটারি প্রবেশ করে শেষরাতের দিকে, যে সময় ইমাম সাহেব ফজরের আজান দেওয়ার জন্য মসজিদে ছিলেন। যে সময় তিনি মিলিটারিকে দেখেন সে সময় তিনি পাকা সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে সুরা ইয়াসিন পাঠ করছিলেন। প্রতিদিন তিনি আজানের আগে তিনবার সুরা ইয়াসিন পড়তেন। সেদিনও পড়ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার পড়ার সময়ই তিনি দলটাকে দেখতে পান। যারা গ্রামের স্কুলঘরের দিকে যাচ্ছিল। প্রথম কয়েক মুহূর্ত তিনি কিছু বুঝতেই পারেনি, বরং স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। তার বেশ কিছু সময় পর মতি মিয়া মসজিদে এ তাকে জিজ্ঞেস করেন তারা কিছু দেখেছে কি না। সে বলে সে কিছুই দেখেনি। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করা হলে তারাও একই উত্তর দেয়। কিন্তু ইমাম সাহেব মিলিটারি দেখেছে এটা সে নিশ্চিত। তাই শেষ পর্যন্ত ইমাম সাহেব দ্রুত সংক্ষিপ্তভাবে নামাজ আদায় করে বাড়ির দিকে রওয়ানা হন।
Related Question
View All'১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। নাতিদীর্ঘ এই উপন্যাসে লেখক একটি গ্রামের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থা তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জন্য যেমন গর্বের তেমনই আবার বেদনার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের উপর নির্বিচারে যে অমানবিক অত্যাচার করেছে তারই আখ্যান লিপিবদ্ধ করেছেন লেখক আলোচ্য উপন্যাসে। উপন্যাসের আখ্যানভাগে দেখা যায়, মেজর এজাজ নীলগঞ্জ গ্রামে এসেছেন মিলিটারি কমান্ডিং অফিসার হিসেবে। তিনি এসেছেন তথাকথিত যুদ্ধ করতে। যুদ্ধের নামে তিনি আরম্ভ করেছেন পাশবিক নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন। যে যুদ্ধকে তিনি যুদ্ধ বলে জাহির করতে চেয়েছেন সারভাইভাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন তা মূলত নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর অকথ্য নির্যাতন ছাড়া কিছুই নয়। যা আমরা দেখতে পাই তার প্রতিটি কর্মকাণ্ডে। প্রথমেই তিনি হত্যা করেন নীলু সেনকে। যিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন। তার অপরাধ তিনি হিন্দু। আবার, বিচারের নামে হত্যা করা হয় মনা কৈবর্তকে, সাথে তার এগারো বছরের ভাই বিরুকে। কিন্তু এর পেছনের উদ্দেশ্য ছিল জনমনে ভীতির সঞ্চার করা। এরপর মেজর এজাজ ব্যবহার করেছেন তার নিকৃষ্টতম অন্ধ্র। আজিজ মাস্টারকে উলঙ্গ করে পুরুষাঙ্গে ইট ঝুলিয়ে সারা গ্রামে ঘুরিয়ে আনতে নির্দেশ দেন।
একপর্যায়ে তিনি কৈবর্তপাড়ায় আগুন লাগিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। মেজর এজাজের যেসব কর্মকাণ্ড উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে তা কোনো যুদ্ধনীতি নয়। আবার সে যে সারভাইভালের বুলি আওড়ায় সেটাও ভিত্তিহীন। সে আসলে নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের সঙ্গে যা করেছে তা পুরোটাই নৃশংসতা। অমানবিক নির্যাতন করে সে আসলে পৈশাচিক আনন্দ অনুভব করেছে। উপন্যাসের শেষে দেখা যায় এজাজ রফিককে পর্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। যত সময় গড়িয়েছে এজাজ তত নির্মম হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!