মুসলিম বিবাহে সাক্ষী থাকা আবশ্যক।
বিবাহের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের পরিবারকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- একক বিবাহভিত্তিক ও বহু বিবাহভিত্তিক পরিবার।
একজন পুরুষ ও একজন নারীর বিবাহ বন্ধনের ভিত্তিতে যে পরিবার গড়ে ওঠে তাকে একক বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। একজন পুরুষ ও একাধিক স্ত্রী অথবা একজন স্ত্রী ও একাধিক পতিকে নিয়ে যে পরিবার গড়ে ওঠে তাকে বহু বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। বাংলাদেশে একক বিবাহভিত্তিক পরিবারই বেশি, তবে মুসলিম সমাজে বহু বিবাহভিত্তিক পরিবারও দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অনেক ধনী ব্যক্তিই বহু বিবাহ করে থাকেন।
উদ্দীপকে বিবাহ, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্কের ওপর সমাজের নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রামে বড় হওয়া আদনান শহরের একটি শিল্পকারখানায় চাকরি করে। এজন্য সে শহরেই বসবাস করে। সম্প্রতি সে ভালোবেসে সামিরাকে বিয়ে করেছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রেমঘটিত বিয়ের খবর পড়ে এবং সিনেমাতে দেখে আদনান উক্ত বিবাহের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়, যা নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা আধুনিক যুগে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে নতুন নতুন পেশার উদ্ভব ঘটছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ কাজের সন্ধানে শহরের দিকে ছুটছে। তারা শহরে বসবাস করছে এবং বিবাহ করে অণু পরিবার গড়ে তুলছে। আবার সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সমাজের মানুষ ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সুবাদে বিভিন্ন প্রকার অনুষ্ঠানাদি উপভোগ করে থাকে যা বিবাহ, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্কে বিশেষ প্রভাব রাখে। যেমন- কেউ সিনেমাতে প্রেমঘটিত বিয়ে দেখে তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে প্রেমঘটিত বিয়ে করে থাকে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আদনান মূলত আধুনিক উপাদানের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই উক্ত বিবাহের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে।
নগরায়ণ ও শিল্পায়ন এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া ছাড়া বিবাহ, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্কের ওপর সমাজের অন্যান্য আধুনিক উপাদানের প্রভাব রয়েছে।
মোবাইল যোগাযোগের কারণে প্রেমঘটিত বিবাহের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানুষ আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। টেলিফোনের মাধ্যমে বিয়ে পর্যন্ত হচ্ছে যাকে টেলিফোন বিবাহ বলা হয়। ইদানীং অনেক বিবাহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগের ফলে সম্ভব হচ্ছে। অনেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাল্পনিক জ্ঞাতিসম্পর্ক গড়ে তুলছে। ফলে সমাজে প্রতিনিয়ত নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠছে। কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। আর এ যোগাযোগের মাধ্যম বিবাহ, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে।
তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশ সাধনের সাথে সামাজিক যোগাযোগ গভীরভাবে সম্পর্কিত। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের সূচনা করে। এগুলোর মধ্যে বিবাহ, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্ক অন্যতম।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানসমূহ ছাড়া বিবাহ, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্কের ওপর অন্যান্য আধুনিক উপাদানের প্রভাবও রয়েছে।
Related Question
View Allগারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক।
শহুরে সমাজে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশের শহুরে সমাজ সাধারণত বৃহৎ এবং অধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট। ফলে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ কম। শহরের মানুষেরা অত্যন্ত যান্ত্রিক ও কৃত্রিম প্রকৃতির হওয়ায় পারস্পরিক আলাপ তেমন হয় না। ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক দূরত্ব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি হচ্ছে পরিবার। ক্ষমতার মাত্রার ভিত্তিতে বাংলাদেশে দু ধরনের পরিবারের অস্তিত্ব লক্ষণীয়। যথা- পিতৃপ্রধান ও সমতাভিত্তিক পরিবার। সহজ কথায়, এ দেশের পরিবার প্রধানত পিতৃপ্রধান। অর্থাৎ সমস্ত পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরুষের অধিকার সর্বস্বীকৃত। তবে পিতৃপ্রধান পরিবারে নারীর মর্যাদা একেবারেই নেই এমন কথা বলা চলে না। এ বিষয়টি পরিবার থেকে পরিবারে পৃথক হতে পারে। অন্যদিকে, নগরাঞ্চলে উচ্চ শিক্ষিত ও উদার মনোভাবাপন্ন পরিবারে সমতার নীতি মেনে চলতে দেখা যায়। তবে এ দেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা নিতান্তই কম দেখা যায়।
উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত উপাদানগুলোর ভিত্তিতে বাংলাদেশে যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয় পাওয়া যায় তা হলো চাকমা নৃগোষ্ঠী।
চাকমা সমাজে আদামের নেতৃত্বে কারবারী, মৌজার নেতৃত্বে হেডম্যান এবং সার্কেলের নেতৃত্বে থাকেন রাজা। অবশ্য বর্তমানে এ ধরনের নেতৃত্ব ব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। আবার এটাও ঠিক যে, অনুরূপ রাজনৈতিক প্রশাসনিক কাঠামোর নেতৃত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
আদাম বা পাড়া: কতকগুলো চাকমা পরিবার গুচ্ছ নিয়ে গঠিত হয় আদাম বা পাড়া। আদামের প্রধানকে বলা হয় কারবারী। চাকমা রাজা তাকে নিয়োগ করেন। তিনি আদামের শান্তিশৃঙ্খলা এবং সালিশ বিচার কার্যে মৌজা প্রধানকে সাহায্য করে থাকেন।
গ্রাম বা মৌজা: কতকগুলো চাকমা আদাম নিয়ে গঠিত হয় গ্রাম বা মৌজা। এর প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান। চাকমা রাজার সুপারিশক্রমে ডেপুটি কমিশনার হেডম্যানকে নিযুক্ত করেন। হেডম্যান মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। খাজনা আদায় করার দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত থাকে।
চাকমা সার্কেল: চাকমা সমাজের কয়েকশ মৌজা বা গ্রাম মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত। এর প্রধান হচ্ছেন চাকমা রাজা। রাজা বংশ পরম্পরায় নিযুক্ত হন। চাকমা রীতি অনুযায়ী তিনি সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। চাকমা রাজা চাকমা সমাজের প্রতীক।
তিনি সমগ্র চাকমা জনগোষ্ঠীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র।
বিবাহের প্রধান সামাজিক উদ্দেশ্য হলো পরিবার প্রতিষ্ঠা করা।
কোচরা বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে।
কোচদের প্রধান উৎসবের মধ্যে হেমন্তকালে ধান রোপণ করার সময় 'গোচর পর্ণা', নতুন ফসল তোলার সময় 'লবণ খাওয়া' ও 'ধানের ফুল দেওয়া; পিতামাতার আত্মার কল্যাণ কামনায় 'কৈনা গৎ', পুত্র সন্তান লাভের আশায় ভাদ্র মাসের অষ্টম চাঁদে 'জিড়য়া' ও 'ভাদু' এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে বৃষ্টির কামনায় 'হুদুমা' ইত্যাদি প্রধান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!