'১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে নীলগঞ্জ নামক এক প্রত্যন্ত গ্রামকে কেন্দ্র করে। সেই গ্রামে মুক্তিবাহিনীর একটি দল লুকিয়ে আছে এমন সন্দেহে মিলিটারি মেজর এজাজ তার দলবল নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেন। গ্রামে আসার পর থেকেই তারা গ্রামবাসীর প্রতি নির্মম নির্যাতন চালায়। '১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করে শেষরাতে। মিলিটারি প্রবেশের বিষয়টি প্রথম বুঝতে পারেন নীলগঞ্জ মসজিদের ইমাম সাহেব। আজানের আগে সুরা ইয়াসিন পড়ার সময় তিনি দলটিকে দেখতে পান। কিন্তু শুরুতে তিনি বুঝতেই পারেন না যে গ্রামে মিলিটারি এসেছে। কারণ নান্দাইল রোডে কিংবা সোহাগীতে এখনো পর্যন্ত মিলিটারি আসেনি। এজন্য তিনি কার্য স্থির করতে পারছিলেন না যে তিনি বসে থাকবেন নাকি গ্রামের সবাইকে খবর দেবেন। আবার নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি মুসল্লিদের জিজ্ঞেস করছিলেন যে তারা কিছু দেখেছে কি না।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসটি হুমায়ূন আহমেদের একটি যুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস। যেখানে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে কাহিনিকে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনিতে প্রবেশ করানো হয়েছে। উপন্যাসে একপক্ষীয় যুদ্ধ দেখানো হয়, যেখানে পাকিস্তানি মিলিটারি উপস্থিত কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ বাঙালি সেনা অনুপস্থিত। উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে পাকিস্তানি সেনাদের তন্ডব দেখা যায়।
পাকিস্তানি মিলিটারির মেজর এজাজ আহমেদ একজন শিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান মানুষ। তিনি খুব সাহসীও। উপন্যাসের নানা জায়গায় আমরা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাই। তিনি জানেন যে তারা যেটা করছেন সেটা অন্যায়, কিন্তু যখন জাতির প্রশ্ন এসেছে তখন তিনি তার কাজ চালিয়ে গেছেন।
শুরুতে গ্রামে শুধু ভিন্নমীদের ওপর অত্যাচার করা হয়। গ্রামে ঢুকেই সবার আগে নীলু সেনকে হত্যা করা হয়। বলাইকেও খোঁজা হয় হত্যা করার জন্য। এরপর কৈবর্তপাড়ার দিকে নজর যায় মিলিটারির। তারা কৈবর্তপাড়ায় গিয়ে মনা এবং তার ছোট ভাই বিরুকে হত্যা করে। এতে গ্রামের মুসলমানরা এক রকম নিশ্চিত হয় যে মিলিটারিরা তাদের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু তাদের এ ধারণা অচিরেই ভুল প্রমাণিত হয়। কেননা এরপর মিলিটারিরা ধর্ম-বর্ণ ভুলে যায়। তারা হত্যা, ধর্ষণ, অত্যাচার সবার ওপর করতে থাকে।
পাকিস্তানিদের আচরণই হলো এমন। তারা বাঙালি জাতির প্রতি তীব্র বিদ্বেষ লালন করে। এজন্য তারা বাঙালি বিনাশের খেলায় মেতে ওঠে। আর এখানে কে হিন্দু কে মুসলমান এটা চিন্তা করে না। তারা বাঙালি হলেই তার ওপর অত্যাচার চালিয়ে যায়। তাই বলা যায়, মেজর এজাজের নৃশংস আচরণ মূলত বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের জাতিগত ঘৃণার দিকটিকেই নির্দেশ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!