গ্রাম থেকে মানুষ ক্রমাগত শহরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। শহরের চাকচিক্যময় জীবনযাপন প্রণালী, সুযোগ সুবিধা আকর্ষণ করে। কিন্তু এই শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে না পারলে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে এবং বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। এমনিতে বস্তির নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন ও জীবিকার জন্য নিরক্ষর জনগোষ্ঠী অপরাধ ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

গ্রামীণ সমাজসেবা (RSS) এর কার্যক্রম বাংলাদেশ সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন।

উত্তরঃ

শহর সমাজসেবা বলতে বাংলাদেশ সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত একটি সেবামূলক কার্যক্রমকে বোঝায়।

এ কার্যক্রম মূলত সমষ্টি উন্নয়নভিত্তিক। এতে শহরের দরিদ্র ও বস্তিতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান তথা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করা হয়। জাতিসংঘের সহায়তায় ১৯৫৫ সালে সর্বপ্রথম ঢাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বর্তমানে এ কর্মসূচি দেশের সকল জেলায় পরিচালিত হচ্ছে। শহর সমাজসেবার মাধ্যমে দরিদ্রদের স্বাবলম্বী করা এবং শহর এলাকায় একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালানো হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের অর্ক কিশোর অপরাধী হওয়ায় তাকে সংশোধনের জন্য উদ্দীপকের বিশেষ আদালত অর্ককে মুক্তি দিয়েছে।

১৯৭৪ সালের শিশু আইন, জাতীয় শিশু নীতিমালা, UNCRC-United Nations Convention on the Rights of the Child এর আওতায় বাংলাদেশ সরকার জাতীয় কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করে। এ কেন্দ্রে কিশোর অপরাধীদের সেবা-যত্ন, খাদ্য সরবরাহ, আবাসন ও পোষাক-পরিচ্ছদ, চিকিৎসাসহ কারিগরি শিক্ষা, আচরণ সংশোধন, মানবিক উন্নয়ন এবং পরামর্শ প্রদানসহ নানাবিধ দায়িত্ব পালন করে। এক্ষেত্রে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের আওতাভুক্ত কিশোর আদালত কিশোর অপরাধীদের সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়।

উদ্দীপকের ১৫ বছর বয়সী অর্ক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় অপরাধী। তাকে একটি বিশেষ আদালতে হাজির করা হলো। আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয়। মূলত এটিই কিশোর আদালত। বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো তিনটি উপায়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে কিশোর আদালত একটি। এ আদালত শিশু-কিশোরদের অপরাধ বিবেচনা করে তাদেরকে সংশোধনের প্রচেষ্টা চালায়। সংশোধনের জন্য তাদেরকে কল্যাণমূলক বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে। আর কোনো অপরাধে না জড়ানোর শর্তে তাদেরকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে থাকে। এ কারণেই অর্ক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

উত্তরঃ

'শাস্তি নয়, সংশোধনই ইঙ্গিতকৃত বিশেষ আদালতের অর্থাৎ কিশোর আদালতের মূল দর্শন।'

বাংলাদেশ সরকার অপরাধী শিশু-কিশোরদের আবাসন, সংশোধন এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। মূলত কিশোর অপরাধীদের কল্যাণ সাধনই এ কেন্দ্রের মূল কাজ। এ কারণে শাস্তি নয় সংশোধনের জন্যই এখানে কিশোরদের গ্রহণ করা হয়।

কিশোর অপরাধীদের বিচার এবং তাদের সংশোধনের জন্য কিশোর আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের মাধ্যমে গঠিত এ আদালতে কিশোর-কিশোরী অপরাধীর অপরাধের কারণ বিশ্লেষণ করে তাদের পুনর্বাসন ও সংশোধনের চেষ্টা করা হয়। কিশোর আদালত দেশের অন্যান্য আদালতের মতো নয়। এখানে কোনো শুনানি হয় না, বিচার প্রক্রিয়া হয় ঘরোয়া পরিবেশে। এ আদালতে বাদী-বিবাদী আইনজীবী কেউ থাকে না। এমনকি কোনো শাস্তিও প্রদান করা হয় না। অপরাধীর আত্মীয়-স্বজন, একজন প্রবেশন অফিসার বা সমাজকর্মী এবং আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকেন। এ আদালতে অপরাধের কারণ, ধরন, উৎস এবং সংশোধনের উপায় খুঁজে বের করা হয়। এ আদালতের মূল কথা হলো শিশুরা নিষ্পাপ। পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা মোটেও যৌক্তিক নয়।

পরিশেষে বলা যায়, কিশোর-উন্নয়ন কেন্দ্র কিশোর অপরাধীদের সুষ্ঠু-স্বাভাবিক জীবনদানে প্রয়াসী। এ কারণে শাস্তি প্রদান না করে সংশোধন প্রচেষ্টাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

157

Related Question

View All
উত্তরঃ

মাঠকর্মী যে সকল নিয়ম-নীতির মাধ্যমে তার কার্য সম্পাদন করে তাকে মাঠকর্ম নীতি বলা হয়।

275
উত্তরঃ

ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হচ্ছে সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির পেশাগত অনুশীলন। এ শাখায় মনো-সামাজিক সামঞ্জস্যহীনতা, অক্ষমতা বা আংশিক অক্ষমতা অথবা আবেগীয় ও মানসিক সামঞ্জস্যহীনতার প্রতিকার ও প্রতিরোধে কাজ করে।

সাধারণত শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্যকলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্যার্থীকে সাইকোথেরাপি এবং পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে।

439
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।

একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেগুলোই মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না করলে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

উদ্দীপকে তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না। তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পায় না। এমনকি অসুস্থ হলেও তারা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। আর তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ এ সকল মৌলিক মানবিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তাই বলা যায়, তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষরা মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

178
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারের সহায়তার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত করে তোলে। গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, বেকার, দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উপার্জনক্ষম করে তোলা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করা এবং গ্রামের সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাও গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর বাইরে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতা দূরীকরণে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচলিত হয়। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেও এ কর্মসূচি কাজ করে থাকে। গ্রামের জনগণের মধ্যে পুষ্টিজ্ঞান, খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, শিশু যত্ন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান, শিশু, যুবক, মহিলা, প্রতিবন্ধী প্রভৃতির জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অক্ষমদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে। একইসাথে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কাজ করে থাকে।

162
উত্তরঃ

প্রতিটি কাজের সফলতা-বিফলতা বিশ্লেষণ করাই হলো মূল্যায়ন।

289
উত্তরঃ

পরিবার গঠনে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।

বিবাহ হচ্ছে এমন একটি কার্যপ্রণালি যার মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে। মূলত বিবাহ হচ্ছে পরিবার গঠনের উপায়। কেননা একজন নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে পারিবারিক জীবনের সূচনা ঘটিয়ে দেয় বিবাহ। বিবাহ ছাড়া পরিবার গঠন অসম্ভব।

456
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews