মুসলমান শাসনের শুরু হতেই বাংলায় পাট ও রেশমের চাষ শুরু হয়।
মধ্যযুগের চাষাবাদ পদ্ধতি অনুন্নত থাকায় সেসময় কৃষককে সেচের পানির জন্য বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে হতো।
মধ্যযুগে বাংলায় কৃষি ফলনের প্রাচুর্য থাকলেও এ সময়ে চাষাবাদ পদ্ধতি ছিল অনুন্নত। আধুনিক সময়ের মতো পানি সেচ ব্যবস্থা সে যুগে ছিল না। এ কারণে সে যুগে কৃষককে অধিকাংশ সময়েই সেচের জন্য বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে হতো।
মধ্যযুগের সমাজ ব্যবস্থার মানদণ্ডে মহিবের মামার অবস্থান অভিজাত মুসলমান শ্রেণিভুক্ত।
মধ্যযুগের মুসলমান অভিজাতগণ ভোজনবিলাসী ছিলেন। তাদের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন মাছ-মাংসের সঙ্গে আচার থাকতো। তারা এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা যাবতীয় মুখরোচক খাবার খেতেন। ভাত, মাছ, শাক-সবজি ছিল বাঙালি মুসলমানদের প্রতিদিনের খাবার।
উদ্দীপকের মহিব তার মামার বাড়ি বেড়াতে গেলে মামা মহিবের জন্য মাছের কাবাব, মুরগির রেজালা, ডিমের কোর্মাসহ বিভিন্ন রকম খাবার তৈরি করেন। উপরের আলোচনা থেকে আমরা ধারণা পাই মধ্যযুগের অভিজাত মুসলমানরা এসব মুখরোচক খাবারে অভ্যস্ত ছিলেন। তাই বলতে পারি, মহিবের মামা মধ্যযুগের মুসলমান অভিজাত শ্রেণির পর্যায়ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে মধ্যযুগের বাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
এমন কোনো মানব সমাজের সন্ধান আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি যেখানে স্তরবিন্যাস বা শ্রেণিবৈষম্য ছিল না। স্তরবিহীন বা বৈষম্যমুক্ত সমাজ অলীক কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যযুগের সমাজ ব্যবস্থায়ও বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। এ সমাজে যেমন সামাজিক বৈষম্য ছিল তেমনি অর্থনৈতিক বৈষম্যও ছিল। অর্থনৈতিক বৈষম্য বলতে বোঝায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উপার্জনের ভিত্তিতে সৃষ্ট বৈষম্য। মধ্যযুগে তিনটি শ্রেণি গড়ে উঠেছিল। তা হলো উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন শ্রেণি। মধ্যযুগে অধিক সম্পদ এবং উচ্চ বংশমর্যাদার লোকেরা উচ্চ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল: মধ্যম আয় এবং নিম্ন শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এর মধ্যে নিম্ন বা তৃতীয় শ্রেণি গড়ে উঠেছিল কৃষক, তাঁতি এবং স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের নিয়ে।
উদ্দীপকে মহিবের মামা সমৃদ্ধশালী ব্যবসায়ী। অন্যদিকে গ্রামে রয়েছে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ যারা দুর্দশা ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে টিকে আছে। উদ্দীপকের মহিবের মামার এই অবস্থান এবং স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যকার পার্থক্য অর্থনৈতিক বৈষম্যকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মধ্যযুগে বাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
Related Question
View Allকবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন।
বাংলার মাটিতে কৃষিজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। বাংলার কৃষিভূমি অস্বাভাবিক উর্বর হওয়ায় এখানে ধান, গম, পাট, আদা, পিঁয়াজ, তেল, সরিষা, পান, সুপারি, রেশম, ডাল, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। ফলে উদ্বৃত্ত বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এর ফলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল।
রেজা সাহেবের বাড়ির খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে বাংলার সুলতানি আমলের মিল রয়েছে।
সুলতানি আমলে বাংলার অভিজাতরা ভোজনবিলাসী ছিলেন। তাদের খাদ্য তালিকায় ছিল মাছ, মাংস, শাক, সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের খাদ্য তালিকায় আচারের নামও পাওয়া যায়। এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা আর ঘিয়ে রান্না করা যাবতীয় মুখরোচক খাবার জায়গা করে নেয়। খাদ্য হিসেবে রুটির কথাও পাওয়া যায়। খিচুড়ি ছিল তখনকার সমাজের প্রধান খাদ্য।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রেজা সাহেব গত সপ্তাহে তার মেয়ের জন্মদিনে পোলাও, কাবাব, রেজালা ও মিষ্টির আয়োজন করেন। এ খাবারগুলোর সাথে বাংলার সুলতানি আমলের খাওয়া-দাওয়ার মিল বিদ্যমান।
রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা সুলতানি আমলের চেয়ে সমৃদ্ধ ছিল না বলে আমি মনে করি।
সুলতানি আমলে বাংলায় অনেক কৃষিপণ্য উৎপন্ন হতো। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ধান, গম, পাট, রেশম, হলুদ, শশা, পিঁয়াজ, তুলা, আদা, জোয়ার, তিল, পান, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি। ফলে উদ্বৃত্ত দ্রব্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। এছাড়াও বস্ত্রশিল্পে বাংলার অগ্রগতি ছিল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানকার নির্মিত বস্ত্রগুলো গুণ ও মানের বিচারে যথেষ্ট উন্নত ছিল বিধায় বিদেশে এগুলোর প্রচুর চাহিদা ছিল। এদেশের মসলিন কাপড়ের প্রচুর চাহিদা ছিল ইউরোপের বাজারে।
এছাড়া সুলতানি আমলে বাংলার রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, সুতি কাপড়, রেশমি বস্ত্র, চিনি, গুড়, আদা, লঙ্কা, লবণ, নানা প্রকার মসলা, আফিম, ঔষধ ইত্যাদি। বাংলায় আমদানি করা হতো স্বর্ণ, রৌপ্য ও মূল্যবান পাথর। ফলে রপ্তানি বেশি হওয়ার কারণে বাংলার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য বজায় ছিল সুলতানি আমলে।
উদ্দীপকের রেজা সাহেবের আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের পরিমাণ খুবই স্বল্প। তাই একথা বলা যায় যে, রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থার চেয়ে সুলতানি আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সমৃদ্ধ ছিল।
সুবাদার শায়েস্তা খান হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
বাংলার বহু স্থানে আজও মুঘল শাসকদের শিল্প প্রীতির নিদর্শন রয়েছে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু সংখ্যক মসজিদ, সমাধি ভবন, স্মৃতিসৌধ, মাজার, দুর্গ, স্তম্ভ ও তোরণ নির্মিত হয়েছিল। ফলে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য মধ্য যুগকে মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!