যে সকল উদ্ভিদ লবণাক্ত মাটিতে অঙ্কুরোদগম করতে পারে না, এমনকি বেঁচে থাকতে পারে না, তারাই গ্লাইকোফাইটস।
এ অধ্যায়ে প্রথমে প্রতিকূল পরিবেশ ও বিরূপ আবহাওয়া সহিষ্ণু ফসল ও ফসলের জাতের বৈশিষ্ট্য, গুরুত্ব আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফসল, মৎস্য ও পশুপাখি উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। অধ্যায়ের শেষ দিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ফসল, মৎস্য ও পশুপাখির অভিযোজন কৌশল ব্যাখ্যা করা হয়েছে ।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
বিরূপ আবহাওয়া-সহিষ্ণু ফসলের জাতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
বিরূপ আবহাওয়া-সহিষ্ণু ফসলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
কৃষি ক্ষেত্রের (ফসল, মৎস্য ও পশুপাখি) উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বর্ণনা করতে পারব;
কৃষি ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারব;
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ফসল, মৎস্য ও পশুপাখির অভিযোজন কৌশল বর্ণনা করতে পারব;
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ফসল, মৎস্য ও পশুপাখির অভিযোজনের উপযোগিতা মূল্যায়ন করতে পারব।
Related Question
View Allযেসব ফসল বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে সেসব ফসলকে লবণাক্ত সহিষ্ণু ফসল বলে।
তাপমাত্রা হলো ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তারকারী অন্যতম জলাবায়ুগত উপাদান।
বীজ বপনের পর মাটির তাপমাত্রা হ্রাস পেলে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয় না। ফসলের দৈহিক বৃদ্ধির সময় তাপমাত্রা হ্রাস পেলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এছাড়াও তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধিতে ফসল বিভিন্ন পোকা ও রোগে আক্রান্ত হয়। এভাবে তাপমাত্রা কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করে।
সুজিত বাবুর সিদ্ধান্ত ছিল বিনা ধান-৮ চাষ করা।
সুজিত বাবুর বাড়ি সমুদ্র উপকূলবর্তী সাতক্ষীরা জেলায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততার মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রবল জোয়ারের ফলে সৃষ্ট বন্যায় সরাসরি লবণাক্ত পানি দ্বারা জমি ডুবে যাওয়ায় মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে মাটির নিচের লবণ উপরে উঠে আসে। উপকূলীয় এলাকায় ধান উৎপাদন করতে হলে উন্নত জাতের ধান চাষ করতে হবে যা লবণাক্ততা সহিষ্ণু। এসব জাতের ধান গাছ কোষের রসস্ফীতি বজায় রেখে মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পানি শোষণের মাধ্যমে লবণাক্ত পরিবেশে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারে। এসব লবণাক্ততা সহনশীল জাতের মধ্যে একটি হলো বিনা ধান-৮। এ জাতটির জীবনকাল ১৩০-১৩৫ দিন। লবণাক্ত এলাকায় এ জাতটি চাষ
করে হেক্টর প্রতি প্রায় ৫ টন ধান উৎপাদন করা সম্ভব। কাজেই সুজিত বাবুর বিনা ধান-৮ চাষের সিদ্ধান্তটি সঠিক।
সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার প্রভাব খুব বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কম বৃষ্টিপাতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ধারা আরও বাড়ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে আরও অনেক এলাকায় লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু ফসল সম্পর্কে ধারণা নেই বলে তারা স্থানীয় জাতের ফসল চাষ করে। ফলশ্রুতিতে তারা ভালো ফলন পেতে ব্যর্থ হয় এবং লাভবান হতে পারে না। লবণাক্ত সহিষ্ণু ফসলের চাষ উপকূলীয় এলাকায় জনপ্রিয় করতে সেসব ফসলের চাষ পদ্ধতি চিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শনের কার্যক্রমটি বেশ
কার্যকরী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুজিত বাবুর এলাকায় আমন মৌসুমে লবণাক্ত সহিষ্ণু বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪০, ব্রি ধান ৪১, বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ৪৭, বিনা ধান -৮ এবং বারি আলু-২২, বারি মিষ্টি আলু ৬ ও ৭, আখের জাত-ঈশ্বরদী ৩৯ ও ৪০ ইত্যাদি বিভিন্ন ফসলের চাষ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে। এতে এলাকাবাসী নিজে উৎসাহিত হয়ে এসব নতুন জাতের ফসল চাষ করে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং অন্যকেও উৎসাহিত করতে সক্ষম হবে।
তাই বলা যায়, সুজিত বাবুর এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সঠিক ছিল।
কোনো স্থানের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, সূর্যকিরণ, বায়ুর চাপ, কুয়াশা প্রভৃতির দৈনিক সামগ্রিক অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার একটি ক্ষতিকর দিক হলো খরা। শুষ্ক মৌসুমে একটানা ২০ দিন বা তার অধিক দিন কোনো বৃষ্টিপাত না হলে তাকে খরা বলে। এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এতে উদ্ভিদ দেহে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি দেখা যায়। ফলে শতকরা ১৫- ৯০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়ে থাকে। খরার ফলে মাাটির উর্বরতা কমে এবং পরিবেশ বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!