গ বিভাগ - উপন্যাস

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ আহ্বান গল্পে মতলুব খাঁর গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়নি।
Satt AI
Satt AI
14 hours ago
উত্তরঃ

"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি" - উক্তিটি দ্বারা এমন একটি সমাজকে বোঝানো হয়েছে যেখানে মৌলিক জীবনধারণের উপাদান এবং বাস্তব জীবনের চাহিদা পূরণের চেয়ে ধর্মীয় ভণ্ডামি, কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার বাড়াবাড়ি বেশি পরিলক্ষিত হয়। এটি ইঙ্গিত করে যে, খাদ্য উৎপাদন বা অর্থনৈতিক উন্নতির মতো জরুরি বিষয়গুলোর চেয়ে বাহ্যিক ধর্মীয় আচারের প্রতি সমাজের গুরুত্ব বেশি, যা এক ধরনের ভারসাম্যহীনতার প্রকাশ।

এই উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ হলো, যে সমাজে মানুষের অন্ন সংস্থান এবং মৌলিক অধিকারের চেয়ে ধর্মের নামে প্রচলিত অপ্রয়োজনীয় আচার-অনুষ্ঠান, কুসংস্কার এবং ভুল ব্যাখ্যা প্রাধান্য পায়, সে সমাজে প্রকৃত কল্যাণ ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। ধর্মকে জীবনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ভুলভাবে প্রয়োগ করলে তা সমাজের জন্য আগাছার মতো ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, যা মূল ফসলের বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে এবং মানুষের প্রগতিকে থমকে দেয়।

Satt AI
Satt AI
14 hours ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মানুষগুলোর অবস্থা 'লালসালু' উপন্যাসের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনসংগ্রামের দিকটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মীয় ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের আড়ালে মজিদের ক্ষমতালিপ্সা এবং সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্য চিত্রিত হয়েছে। উপন্যাসের মূল চরিত্র মজিদ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিজ গ্রাম ছেড়ে অচেনা মহব্বতনগরে আসে। সে জানে, এই মঙ্গাপীড়িত অঞ্চলে ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে সহজেই প্রতিষ্ঠা লাভ করা সম্ভব। গ্রামবাংলার এই প্রান্তিক মানুষের প্রধান সমস্যা হলো দারিদ্র্য, অনাহার এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার নিরন্তর সংগ্রাম।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ মঙ্গা, বন্যা, নদীভাঙ্গন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আসে "একটু খেয়ে-পরে বাঁচবার" আশায়। তাদের চোখে-মুখে "দুর্ভিক্ষের ভয়াল ছাপ" এবং তারা "দারিদ্র্য সীমার নিচে" বসবাসকারী মানুষ। এই দৃশ্য 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের গ্রাম ছাড়ার প্রেক্ষাপট এবং মহব্বতনগরের সাধারণ, দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মজিদও ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের তাড়নায় নিজের স্থান ত্যাগ করে নতুন ঠিকানায় সংগ্রাম শুরু করে। উভয় ক্ষেত্রেই, চরম দারিদ্র্য এবং অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদই মানুষকে পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়।

Satt AI
Satt AI
14 hours ago
উত্তরঃ

প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের জীবিকার অন্বেষণে শহরাভিমুখী এই ছোটাছুটির মূলে রয়েছে যুগোপযোগী কর্মমুখী শিক্ষার অভাব—উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত। উদ্দীপক এবং 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে এই উক্তিটির যথার্থতা বিশেষভাবে অনুধাবন করা যায়। বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল ও কর্মদক্ষ করে তোলার কথা, সেখানে এই অভাব বহু মানুষকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ মঙ্গা, বন্যা, নদীভাঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের কারণে ভিটেমাটি ছেড়ে ঢাকায় ছুটে আসছে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য "একটু খেয়ে-পরে বাঁচবার"। এই ছুটে আসা মানুষগুলোর চোখে-মুখে দুর্ভিক্ষের ভয়াল ছাপ এবং তাদের ধারণা, রাজধানী ঢাকায় আসতে পারলে অন্তত না খেয়ে মরতে হবে না। এই অবস্থা মূলত তাদের নিজ নিজ এলাকায় কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগের অভাবকেই তুলে ধরে। কর্মমুখী শিক্ষা থাকলে তারা নিজ অঞ্চলেই বিভিন্ন কুটিরশিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্প, ছোট ব্যবসা বা কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জীবন ধারণের পথ খুঁজে পেত, যা তাদের এই অনিশ্চিত ছোটাছুটি থেকে রক্ষা করতে পারত।

'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত গ্রাম সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে শিক্ষার পরিবর্তে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় ভণ্ডামিই প্রবল। মজিদের মতো ধর্মব্যবসায়ীরা মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে। উপন্যাসের গ্রামটি যেমন শিক্ষাহীনতার অন্ধকারে ডুবে ছিল, তেমনই কর্মমুখী শিক্ষার অভাবে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেনি। যদি সেই সমাজে আধুনিক ও যুগোপযোগী কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ থাকত, তবে গ্রামের মানুষ শুধু কুসংস্কারের বেড়াজালেই আবদ্ধ থাকত না, বরং অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়ে উঠত। এতে মজিদের মতো ভণ্ডদের প্রভাব কমত এবং মানুষ আধুনিক চিন্তাভাবনার দিকে ধাবিত হতে পারত, যা তাদের শোষণ থেকে বাঁচাত এবং জীবিকার নতুন পথ উন্মোচন করত।

সুতরাং, উদ্দীপকের অসহায় মানুষের ঢাকা অভিমুখে ছুটে আসা এবং 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা—উভয় চিত্রই "যুগোপযোগী কর্মমুখী শিক্ষার অভাবেই প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের এই ছোটাছুটি" উক্তিটির সত্যতা প্রমাণ করে। কর্মমুখী শিক্ষা কেবল মানুষকে স্বাবলম্বীই করে না, বরং তাকে নিজস্ব পরিবেশে আত্মমর্যাদার সাথে জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয় এবং এই ধরনের বাধ্যতামূলক স্থানান্তরের প্রবণতা হ্রাস করে।

Satt AI
Satt AI
14 hours ago
উত্তরঃ

‘লালসালু’ উপন্যাসের উর্দু অনুবাদকের নাম সালমা জামান।

Satt AI
Satt AI
14 hours ago
উত্তরঃ

'কলমা জানস্স্না ব্যাটা'—কথাটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হারানের নাতজামাই' গল্পের হারানের শাশুড়ি হারানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল।

সন্তান লাভের জন্য হারান বৃদ্ধ বয়সে দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে এবং বিয়ের ধর্মীয় রীতিনীতি ও কলমা সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করলে তার শাশুড়ি এই কথা বলে তাকে তিরস্কার করে। উদ্দীপকের কাজল সাহেবও সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করে এবং পরবর্তীতে স্ত্রীর হুমকির মুখে পড়ে যে দোদুল্যমানতায় ভোগেন, তা হারানের পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে সংঘাত দেখা যায়।

Satt AI
Satt AI
14 hours ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের কাজল সাহেব এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়েই সন্তান লাভের প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং সন্তানহীনতার কারণে প্রচলিত কুসংস্কার ও ধর্মকে আশ্রয় করার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ পীরের ভণ্ডামি ও ধর্মকে পুঁজি করে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার করে। সমাজে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পেছনে সন্তান-সন্ততি লাভের আকাঙ্ক্ষাও ছিল একটি বড় কারণ, যার জন্য সে বহুবিবাহ করে। মজিদের কর্মকাণ্ডে তৎকালীন সমাজের গভীর কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস ও ধর্মব্যবসায়িতার চিত্র সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

অন্যদিকে, উদ্দীপকের কাজল সাহেবও সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে তার সে আশা পূরণ না হওয়ায় পিরের পানি পড়া খাওয়াতে যান। এটি সন্তান লাভের জন্য তার কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতারই প্রতিফলন। দ্বিতীয় স্ত্রীর হুমকির মুখে কাজলের দোদুল্যমানতা তার এই অন্ধবিশ্বাসের ফল। এদিক থেকে কাজল সাহেবের সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা ও কুসংস্কারের আশ্রয় গ্রহণ 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের কুসংস্কারাচ্ছন্নতা এবং সন্তান লাভের জন্য ধর্মীয় ভণ্ডামি ব্যবহারের মতো দিকগুলো নির্দেশ করে, যা তাদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য তৈরি করে।

Satt AI
Satt AI
14 hours ago
উত্তরঃ

‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো ধর্মীয় ভণ্ডামি, কুসংস্কার এবং গ্রামীণ সমাজের অসহায়ত্ব। সন্তানের জন্য মানুষের প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং সেই আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে ধর্মব্যবসায়ীদের শোষণ ও নির্যাতন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয়। উদ্দীপকের ঘটনা প্রবাহ এই উপন্যাসের সারবস্তুকে ধারণ করে একটি খণ্ডাংশ হিসেবে প্রতিভাত হয়, যেখানে উল্লেখিত থিমগুলোর একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।

উদ্দীপকের কাজল সাহেব সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে পিরের পানি পড়া খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এটি গ্রামীণ সমাজের চিরাচরিত কুসংস্কার ও সন্তানের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষার চিত্র তুলে ধরে। ‘লালসালু’ উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ কীভাবে মানুষের এই দুর্বলতা ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে নিজের ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। মজিদের ভণ্ডামি, পিরের মাহাত্ম্য প্রচার এবং গ্রামবাসীদের অন্ধ বিশ্বাস উদ্দীপকের এই অংশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আমেনা বিবির সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা, পীরের মাজারে সিন্নি দেওয়া এবং মজিদের মাধ্যমে তার প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি এখানে প্রাসঙ্গিক।

কাজল সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রীর হুমকি এবং তার দোদুল্যমানতা উপন্যাসের নারী চরিত্রের প্রতিবাদী রূপকে ইঙ্গিত করে, যা জমিলা চরিত্রের মধ্যে সুস্পষ্ট। মজিদের কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে জমিলা যে বিদ্রোহ করে, তা উদ্দীপকের এই ক্ষুদ্র ঘটনায় প্রতিধ্বনিত। সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা, কুসংস্কারের বিস্তার, ধর্মীয় ভণ্ডামির সুযোগ গ্রহণ এবং নারী চরিত্রের প্রতিবাদ – এই সবগুলো বিষয়ই ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল কাঠামোতে বিদ্যমান। উদ্দীপকটি কেবল এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের একটি ছোট অংশকে তুলে ধরেছে, যা উপন্যাসের মূল বার্তা ও চরিত্রগুলোর গতিপ্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত।

উপরিউক্ত বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের বক্তব্যটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূলভাব, চরিত্রায়ণ এবং সামাজিক চিত্রের একটি ক্ষুদ্র অথচ তাৎপর্যপূর্ণ খণ্ডাংশ মাত্র, যা উপন্যাসের গভীরে প্রোথিত মূল্যবোধ ও বাস্তবতাকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

Satt AI
Satt AI
14 hours ago
594

Related Question

View All
উত্তরঃ

প্রদত্ত চরণটিতে 'গ্রামের মানুষ যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ' বলতে বোঝানো হয়েছে যে রহিমা চরিত্রটি কাজীপুর গ্রামের সরলতা, চিরায়ত বিশ্বাস এবং প্রচলিত জীবনধারার মূর্ত প্রতীক। রহিমা যেন এই গ্রামের সাধারণ মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার এক প্রতিচ্ছবি।

কাজীপুর গ্রামের মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত শস্য ও সম্পদে সুখী। তাদের দিন কাটে ফসলের ক্ষেতে কাজ করে, গৃহস্থালি কাজে লিপ্ত থেকে, হাসি-উৎসব ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে। তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত সরল এবং তারা গ্রামীণ ঐতিহ্যের গভীরে প্রোথিত। এই সরলতার কারণেই তারা নতুন কোনো অলৌকিক বা ধর্মীয় বিষয়ের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়, যেমনটি মতলব মিয়া নামক অচেনা দরবেশের আগমনের পর দেখা যায়। মতলব মিয়া নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে যখন অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলতে শুরু করে, তখন গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজেই তা বিশ্বাস করে।

রহিমা চরিত্রটিও সম্ভবত একই সরলতা, চিরায়ত বিশ্বাস এবং গ্রামীণ জীবনধারার ধারক ও বাহক। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ, গ্রামের প্রতিটি মানুষ যেন রহিমারই এক ক্ষুদ্র সংস্করণ, যেখানে রহিমার মধ্যে পুরো গ্রামের মানসিকতা, বিশ্বাস এবং জীবনদর্শন কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এই উক্তিটির মাধ্যমে লেখক রহিমার চরিত্রকে গ্রামের সার্বজনীন প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা গ্রামের মানুষের সম্মিলিত সত্তাকে একীভূত করে উপস্থাপন করে।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
3.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মতলব মিয়া এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ আত্মপরিচয়দানে ও আত্মপ্রকাশে অনেকটাই অভিন্ন। উভয় চরিত্রই নিজেদের অপ্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে গ্রামীণ সমাজের সরলতা ও ধর্মবিশ্বাসের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়।

উদ্দীপকের মতলব মিয়া একজন অচেনা দরবেশ হিসেবে গ্রামে আগমন করে। সে নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলে গ্রামবাসীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তার আত্মপ্রকাশের মূলে রয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ, যা কাটিয়ে ওঠার জন্য সে ধর্মীয় মোড়কে নিজেকে উপস্থাপন করে। তার উদ্দেশ্য হলো গ্রামের মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে সমাজে একটি অবস্থান তৈরি করা।

'লালসালু' উপন্যাসের মজিদও অনুরূপভাবে এক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে মহব্বতনগর গ্রামে আসে। সে নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে জাহির করে। গ্রামে একটি বানোয়াট মাজার প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজেকে সেই মাজারের খাদেম ও পীর হিসেবে প্রচার করে। মজিদের আত্মপ্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্নসংস্থান ও সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ। পরবর্তীতে সে এই ধর্মীয় ভণ্ডামিকে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

উভয় চরিত্রের আত্মপরিচয়দানে ও আত্মপ্রকাশে যে সকল অভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়, তা নিম্নরূপ:

        
  • উভয়েই অজ্ঞাত স্থান থেকে আগমনকারী অপরিচিত ব্যক্তি।
  •     
  • উভয়েই নিজেদের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব (পীর/দরবেশ) হিসেবে উপস্থাপন করে।
  •     
  • উভয়েই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গ্রামীণ মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও সরলতাকে পুঁজি করে।
  •     
  • উভয়েই অলৌকিকত্ব বা ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে নিজেদের জাহির করে।
  •     
  • উভয়ের উদ্দেশ্যই সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সম্মানজনক বা ক্ষমতাশালী অবস্থান তৈরি করা।
  •     
  • উভয়েই মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কারকে নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

তবে, মজিদের ভণ্ডামি ও আত্মপ্রতিষ্ঠার কৌশল মতলব মিয়ার চেয়ে অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী ও সুসংগঠিত। মজিদ কেবল অলৌকিক গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং একটি মিথ্যা মাজার প্রতিষ্ঠা করে এবং তা কেন্দ্র করে একটি ধর্মীয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। পক্ষান্তরে, মতলব মিয়ার আত্মপ্রকাশের প্রাথমিক পর্যায় উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে সে কেবল নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিয়ে অলৌকিক কর্মকাণ্ডের গল্প বলা শুরু করেছে।

পরিশেষে বলা যায়, মতলব মিয়ামজিদ উভয়ই সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কার ও সরলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আত্মপরিচয়কে নতুনভাবে নির্মাণ করে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। কৌশলগত গভীরতায় পার্থক্য থাকলেও, তাদের আত্মপ্রকাশের উদ্দেশ্য এবং মূল পদ্ধতি অভিন্ন।

Satt AI
Satt AI
3 days ago
714
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews