গ বিভাগ - নাটক

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে স্বার্থান্ধ মানুষের লোভ, অর্থলিপ্সা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রিয়জন কর্তৃক চরম বিশ্বাসঘাতকতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার নাটকের মূল চেতনাকে ধারণ করে। এই নাটকে সিরাজের পতনও ঘটেছিল কতিপয় স্বার্থান্বেষী মানুষের লোভ, ক্ষমতা ও অর্থলোভের কারণে এবং তাদের বিশ্বাসঘাতকতার ফলস্বরূপ।

উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুগে যুগে স্বার্থান্ধ মানুষের লোভের কারণে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এসবের পেছনে অর্থলিপ্সা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা জড়িত থাকে। জুলিয়াস সিজার, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধীর মতো নেতাদের পরিণতি এর জ্বলন্ত উদাহরণ। এই বক্তব্য সিরাজউদ্দৌলা নাটকের পটভূমি ও মূল সংঘাতের সঙ্গে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। নাটকে আমরা দেখি, নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ ও ক্ষমতা দখল। মীরজাফরের ক্ষমতার লোভ, জগৎশেঠের অর্থলোভ, ঘসেটি বেগমের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং উমিচাঁদের ধূর্ততা – এই প্রতিটি চরিত্রই উদ্দীপকের বর্ণিত স্বার্থান্ধতা ও বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিচ্ছবি।

সিরাজউদ্দৌলার আপন খালা ঘসেটি বেগম, সেনাপতি মীরজাফর আলী খান, ধনকুবের জগৎশেঠ, রাজা রাজবল্লভ, রায় দুর্লভ, নন্দকুমার, উমিচাঁদ, ইয়ার লতিফ প্রমুখ ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। তারা বাংলার স্বাধীনতাকে ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। সিরাজউদ্দৌলা নাটকে বর্ণিত এসব চরিত্র ও ঘটনা প্রবাহে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ক্ষমতার লোভ, অর্থলিপ্সা এবং প্রিয়জন ও আপনজনদের চরম বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল সিরাজের পতনের প্রধান কারণ। উদ্দীপকের দৃষ্টান্তগুলো যেমন মহাত্মা গান্ধী বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডকে স্মরণ করিয়ে দেয়, তেমনি সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকাণ্ডও এই একই শ্রেণীর অন্তর্গত, যেখানে কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।

সুতরাং, উদ্দীপকের মূলভাবনাটি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, চরিত্রায়ণ এবং মূল চেতনাগত দিকগুলোকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ধারণ করতে পেরেছে। স্বার্থপরতা, লোভ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফলস্বরূপ প্রিয়জন কর্তৃক বিশ্বাসঘাতকতার চিরন্তন ট্র্যাজেডি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে, যা উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
500

Related Question

View All
উত্তরঃ আমিনা বেগম

সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম ছিল আমিনা বেগম। তিনি ছিলেন নবাব আলীবর্দি খানের কনিষ্ঠ কন্যা এবং বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার মাতা। মির্জা মুহাম্মদ আলী (যিনি আলীবর্দি খান নামে পরিচিত) এবং শরফুন্নিসা বেগমের পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। নবাব আলীবর্দি খান তাঁর বড় ভাই ও প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলীর সাথে ষড়যন্ত্র করে এবং ইংরেজদের সহায়তায় সিংহাসন দখল করেন। আমিনা বেগম ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় সন্তান।

আমিনা বেগম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরের হাতে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদেরকে মুর্শিদাবাদ থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় এক নৌকাডুবির ঘটনায় আমিনা বেগম ও তাঁর বোন ঘসেটি বেগম নিহত হন।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
574
উত্তরঃ

“আমার নালিশ আজ আমার বিরুদ্ধে” – সৈয়দ শামসুল হকের কালজয়ী কাব্যনাট্য ‘নূরলদীনের সারাজীবন’-এর একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি। এটি মূলত আত্মানুসন্ধান, আত্মোপলব্ধি এবং গভীর অনুশোচনার বহিঃপ্রকাশ। এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে ব্যক্তি বা সমষ্টিগতভাবে নিজেদের ব্যর্থতা, নিষ্ক্রিয়তা বা অন্যায়ের প্রতিবাদ না করার দায় স্বীকার করা হয়েছে।

এর তাৎপর্য হলো, যখন কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে কোনো অন্যায়, শোষণ বা অবিচারের শিকার হয়, তখন এক পর্যায়ে তারা বুঝতে পারে যে তাদের এই বঞ্চনার জন্য শুধুমাত্র অত্যাচারী শাসক নয়, বরং তাদের নিজেদের নীরবতা, অনৈক্য এবং প্রতিবাদহীনতাও দায়ী। এই উক্তির মাধ্যমে সেই আত্ম-আবিষ্কারের যন্ত্রণা এবং দায়বদ্ধতার উপলব্ধি প্রকাশ পায়। এটি নিজের ভেতরের দুর্বলতা, ভীরুতা বা বিভেদকে চিহ্নিত করার একটি সাহসী পদক্ষেপ।

‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি মূলত পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা ও আত্মবিস্মৃতির প্রতি ইঙ্গিত করে। এটি শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, লজ্জা এবং সেই সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্পকে তুলে ধরে। যখন নালিশ বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে না হয়ে নিজের বিরুদ্ধে হয়, তখন তা এক বিপ্লবী চেতনার জন্ম দেয়। কারণ, নিজের ভুল স্বীকার করার মাধ্যমেই পরিবর্তনের সূচনা হয় এবং আত্মশক্তির প্রকৃত জাগরণ ঘটে। তাই এই উক্তিটি আত্মশুদ্ধি ও ভবিষ্যতের পথচলার জন্য এক নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে, যা সমষ্টিগত মুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে তোলে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
537
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের পটভূমিগত সাদৃশ্য অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্দীপকে বর্ণিত ইতিহাসের কুটিল বাঁক, বারুদের জয়ধ্বনি, বিশ্বাসঘাতকতা এবং প্রজাপুঞ্জের আর্তনাদ—এ সবই সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মূল পটভূমিকে প্রতিফলিত করে।

"ইতিহাস পথ নিলো কুটিল পদ্মার বাঁকে বাঁকে" এবং "বারুদে জোয়ার লাগে, পীতাঙ্গ গোঁয়ার বান ডাকে" পঙ্‌ক্তিগুলো অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার সেই রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ঔপনিবেশিক শক্তির (ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি) আগ্রাসী মনোভাবের প্রতি ইঙ্গিত করে, যা সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রধান উপজীব্য। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সময়কালে বাংলা অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদেশি বণিকদের ঔদ্ধত্যের কারণে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছিল, যেখানে বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের হুমকি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

এছাড়াও, "আর্তনাদ করে নিতে অগণিত প্রজাপুঞ্জ" সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে, যা নাটকেও প্রতিফলিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য হলো "বিশ্বাসঘাতক প্রভু নিয়েছে বিদায়" বাক্যটি, যা নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে মীরজাফর, ঘসেটি বেগম ও ইংরেজদের ষড়যন্ত্র এবং মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ও ক্ষমতাচ্যুতির ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্পষ্ট করে তোলে। উদ্দীপকের শেষ বাক্য "যে ক্লীব পালাবে তার মুক্তি নেই আর" যেন সিরাজের করুণ পরিণতি এবং বিশ্বাসঘাতকদের চূড়ান্ত বিচারে প্রকৃতির প্রতিশোধের ইঙ্গিত বহন করে, যা নাটকের ট্র্যাজিক পরিণতিতে পরিস্ফুট হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
441
উত্তরঃ

মীর জাফরের পুত্র মীর মীরনের নির্দেশে সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করা হয়।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
2k
উত্তরঃ

সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করে শওকত জঙ্গকে নবাব বানানোর ষড়যন্ত্রকারীরা মনে করত, তিনি দুর্বলচিত্ত ও বিলাসী হওয়ায় তাঁকে সহজেই হাতের পুতুল করে রাখা যাবে। এর ফলে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারবে এবং নবাবের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।

মীরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ প্রমুখ সিরাজবিরোধী শক্তি শওকত জঙ্গকে নবাব পদে বসিয়ে নিজেদের ক্ষমতা ও বিত্তের লোভ পূরণের সুযোগ দেখেছিল। তারা বিশ্বাস করত যে শওকত জঙ্গের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারবে, যা তাদের সকল গোপন উদ্দেশ্য পূরণের মূল চাবিকাঠি ছিল।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
1.6k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews