অ্যানালেমা হল একটি বিশেষ চিত্র যা সূর্যের অবস্থানকে বছরে বিভিন্ন সময়ে দেখায়, সাধারণত একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে (যেমন, পৃথিবীর অক্ষাংশে)। এটি সূর্যের দৈনিক অবস্থানকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন, প্রতি দুপুর ১২ টা) উপর ভিত্তি করে চিত্রিত করা হয়।
অ্যানালেমার আকৃতি:
অ্যানালেমার আকৃতি ইংরেজি আট (৮) এর ন্যায় হয় কারণ এটি সাধারণত একটি প্রান্তযুক্ত ভঙ্গি গঠন করে, যা উল্লম্ব এবং অনুভূমিক উভয় দিকেই প্রসারিত হয়। এর কিছু কারণ হল:
মাঠের উপগ্রহ এবং সূর্যোদয়/সূর্যাস্ত: সূর্যের অবস্থান পৃথিবীর দিকে সব সময় একই রকম নয়। এর প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি, যা একটি নিখুঁত বৃত্ত নয় বরং একটি মহাকর্ষীয় উপাদান (অ্যালিপটিক)।
অক্ষের ঢাল: পৃথিবীর অক্ষের ঢাল (প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি) সূর্যের আলোকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্নভাবে বিতরণ করে, যার ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে দিনের দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয় এবং সূর্যের দৈনিক পথ বিভিন্ন হয়ে যায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তি: সূর্যের অবস্থানটি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় এবং এই পরিবর্তনগুলি অ্যানালেমার আকৃতি গঠন করে। এটি যেমন সূর্যের অবস্থানকে নির্দেশ করে, তেমনি এটি বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের দেখা যাওয়ার সময় এবং স্থান সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করে।
অ্যানালেমার গঠন:
- অ্যানালেমা সাধারণত একটি লম্বা গঠনে প্রকাশ পায়, যেখানে উল্লম্ব অক্ষটি সূর্যের উচ্চতা নির্দেশ করে এবং অনুভূমিক অক্ষটি বছরের দিনগুলিকে নির্দেশ করে।
- এ কারণে, এটি ইংরেজি আট (৮) এর আকৃতির মতো দেখায়, কারণ এটি প্রান্তযুক্ত এবং একটি কেন্দ্রীয় ক্ষেত্র নিয়ে গঠিত হয়।
সারাংশে, অ্যানালেমা সূর্যের পরিবর্তিত অবস্থানকে বছরের বিভিন্ন সময়ে চিত্রিত করে, এবং এর আকৃতি ইংরেজি আট (৮) এর মতো হয় কারণ এটি পৃথিবীর কক্ষপথ এবং অক্ষের ঢালের কারণে প্রকৃতির জটিলতার প্রতিফলন ঘটায়।
আমি যদি প্রতিদিন একই সময় আকাশের একই দিকে সুনির্দিষ্ট ভাবে ক্যামেরা বসিয়ে বছর শেষে সব কটি ছবি একত্র করে একটি ছবি তৈরি করি তাহলে আমি সূর্যের অবস্থানে পরিবর্তনটি দেখব। বছরের ভিন্ন সময়ে আকাশের এই পর্যায়ক্রমিক সূর্যের অবস্থানকে অ্যানালেমা বলে।
আমরা জানি, সূর্য প্রতিদিন একই সময়ে আকাশে একই স্থানে অবস্থান করে না। যেমন:- জুন মাসের ২১ তারিখ সূর্য ঠিক কর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে থাকে।এর ছয় মাস পরে ডিসেম্বরের ২২ তারিখ সূর্য ঠিক মকর ক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে থাকে।আমাদের দেশ থেকে আমরা সূর্যকে এই সময় সবচেয়ে বেশি হেলানো অবস্থায় পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে যেতে দেখি তারপর সূর্য আবার উত্তর দিকে ফিরে আসতে দেখি এবং ছয় মাস পর আবার ঠিক আমাদের মাথার উপরে পশ্চিম দিকে যেতে দেখি।
মূলত সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ এবং তার অক্ষের কাত হওয়ার কারণে অ্যানালেমা বা সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনটি দেখায়। এজন্য অ্যানালেমার আকৃতি ইংরেজি 8 এর মতো দেখায় ।
Related Question
View Allধাতুর সাথে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় ।
চন্দ্রগ্রহণের সময়ে সূর্য ও চাঁদের সাপেক্ষে পৃথিবীর অবস্থান সূর্য ও চাঁদের মধ্যবর্তী স্থানে ।
যে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক বিক্রিয়ক একত্রিত হয়ে একটি নতুন বিক্রিয়াজাত পদার্থ তৈরি করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে ।
কার্বোনেট লবণের সাথে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয় ।
যেসব উদ্ভিদের গর্ভাশয় থাকে না তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ ধরনের উদ্ভিদ বলে ।
প্লাটিপাস স্তন্যপায়ী প্রাণী ডিম পারে ।
পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ বিষুব রেখার উত্তর দিকে অবস্থিত ।
পরমাণুতে চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপন্ন হওয়ার মূল কারণ ইলেকট্রনের ঘূর্ণন ।
অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের ফলে ক্যান্সার রোগের সৃষ্টি হয় ।
পরমাণুর তৃতীয় কক্ষপথে সর্বাধিক ১৮টি ইলেকট্রন থাকতে পারে ।
ধাতুর সাথে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় ।
চন্দ্রগ্রহণের সময়ে সূর্য ও চাঁদের সাপেক্ষে পৃথিবীর অবস্থান সূর্য ও চাঁদের মধ্যবর্তী স্থানে ।
যে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক বিক্রিয়ক একত্রিত হয়ে একটি নতুন বিক্রিয়াজাত পদার্থ তৈরি করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে ।
কার্বোনেট লবণের সাথে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয় ।
যেসব উদ্ভিদের গর্ভাশয় থাকে না তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ ধরনের উদ্ভিদ বলে ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!