গ বিভাগ

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী, আয় বলতে অর্থবর্ষে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত বা উদ্ভূত, বা প্রাপ্ত, বা প্রাপ্ত বলে বিবেচিত সমস্ত প্রকার অর্থ বা আর্থিক সুবিধা বোঝায়, যার উপর আয়কর ধার্য করা হয়।
আয়কর ধার্যের উদ্দেশ্যে আয় বলতে শুধুমাত্র নগদ অর্থ বোঝায় না, বরং এর মধ্যে বিভিন্ন প্রকার আর্থিক সুবিধা বা প্রাপ্তি অন্তর্ভুক্ত থাকে। বাংলাদেশের আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা 2(34) এ আয়ের একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই সংজ্ঞানুসারে, একটি নির্দিষ্ট করবর্ষে একজন করদাতা যে সমস্ত বৈধ উৎস থেকে অর্থ বা আর্থিক সুবিধা অর্জন করেন, সেগুলিই আয়কর ধার্যের উদ্দেশ্যে আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। আয়ের প্রধান খাতগুলো নিম্নরূপ:
        
  • বেতন খাত থেকে আয় (Income from Salary): চাকরি বা কর্মসংস্থান থেকে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা, বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি।
  •     
  • গৃহ সম্পত্তি খাত থেকে আয় (Income from House Property): বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়, যা সম্পত্তির মালিকানা থেকে উদ্ভূত হয়।
  •     
  • কৃষি খাত থেকে আয় (Agricultural Income): কৃষি কাজ বা কৃষি জমি থেকে প্রাপ্ত ফসল বিক্রয় বা অন্যান্য কৃষিভিত্তিক আয়।
  •     
  • ব্যবসা বা পেশা খাত থেকে আয় (Income from Business or Profession): ব্যবসা পরিচালনা বা কোনো পেশা (যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী) থেকে অর্জিত মুনাফা বা ফি।
  •     
  • মূলধনী লাভ খাত থেকে আয় (Capital Gains): সম্পদ (যেমন শেয়ার, জমি, বাড়ি) বিক্রয় বা হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্জিত লাভ।
  •     
  • অন্যান্য উৎস থেকে আয় (Income from Other Sources): উপরে উল্লিখিত খাতগুলি ব্যতীত অন্য যেকোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়, যেমন- ব্যাংক সুদ, ডিভিডেন্ড, লটারি, রয়্যালটি, পুরস্কার ইত্যাদি।
আয়কর গণনার জন্য একজন করদাতার মোট আয় নির্ধারণ করা হয়, যা থেকে আইন অনুযায়ী অনুমোদিত খরচ, ভাতা এবং অন্যান্য বাদযোগ্য বিষয়সমূহ (যেমন বিনিয়োগ রেয়াত) বাদ দেওয়া হয়। এই মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করেই আয়কর গণনা ও ধার্য করা হয়।
Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
112

Related Question

View All
উত্তরঃ

সর্বজনস্বীকৃত হিসাববিজ্ঞান নীতিমালা (Generally Accepted Accounting Principles - GAAP) হলো হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক নিয়মাবলি ও ধারণা যা হিসাব তথ্যের প্রস্তুতি ও উপস্থাপনায় একরূপতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে। এই নীতিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

        
  • প্রাসঙ্গিকতা (Relevance): হিসাব তথ্যকে এমন হতে হবে যা ব্যবহারকারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে। এর ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা, নিশ্চিতকরণ মূল্য এবং সময়োপযোগিতা থাকতে হবে।
  •     
  • নির্ভরযোগ্যতা (Reliability): হিসাব তথ্য অবশ্যই ত্রুটিমুক্ত এবং পক্ষপাতহীন হতে হবে। এটি সম্পূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং যাচাইযোগ্য হওয়া উচিত যাতে ব্যবহারকারীরা এর উপর আস্থা রাখতে পারেন।
  •     
  • বোধগম্যতা (Understandability): হিসাব তথ্য সুস্পষ্ট এবং সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যবহারকারীরা সহজেই এটি বুঝতে পারেন।
  •     
  • তুলনাবোধকতা (Comparability): হিসাব তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত যাতে একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ের তথ্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একই সময়ের তথ্য তুলনা করা যায়। এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা প্রদান করে।
  •     
  • সময়ানুবর্তিতা (Timeliness): হিসাব তথ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সময়মতো পাওয়া উচিত। তথ্য দেরিতে পাওয়া গেলে এর প্রাসঙ্গিকতা কমে যায়।
  •     
  • বাস্তবনিষ্ঠতা/নিরপেক্ষতা (Objectivity/Neutrality): হিসাব তথ্য অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে, কোনো বিশেষ পক্ষের স্বার্থে প্রভাবিত হওয়া যাবে না। তথ্য উপস্থাপনে পক্ষপাতহীনতা বজায় রাখা জরুরি।
  •     
  • যাচাইযোগ্যতা (Verifiability): হিসাব তথ্য এমন হওয়া উচিত যা স্বাধীন নিরীক্ষকদের দ্বারা যাচাই করা সম্ভব। বিভিন্ন স্বাধীন পরিমাপক একই পদ্ধতি ব্যবহার করে একই ফলাফলে পৌঁছাতে পারলে তথ্য যাচাইযোগ্য হয়।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিশ্চিত করে যে আর্থিক বিবরণীগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ভরযোগ্য এবং কার্যকর তথ্য সরবরাহ করছে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
2.3k
উত্তরঃ

হিসাবচক্র হলো একটি নির্দিষ্ট হিসাবকাল জুড়ে সংঘটিত ব্যবসায়িক লেনদেনগুলোকে সনাক্তকরণ, লিপিবদ্ধকরণ, শ্রেণিবিন্যাসকরণ ও সারসংক্ষেপকরণের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের মাধ্যমে শেষ হয়। এটি হিসাববিজ্ঞানের একটি মৌলিক ধারণা, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও ফলাফল সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে সাহায্য করে। হিসাবচক্রের প্রধান ধাপগুলো নিম্নরূপ:

        
  • ১. লেনদেন সনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ (Identification and Analysis of Transactions): হিসাবচক্রের প্রথম ধাপে ব্যবসায়িক লেনদেনগুলোকে সনাক্ত করা হয় এবং তাদের দ্বৈতসত্তা (dual aspect) অনুযায়ী ডেবিট ও ক্রেডিট প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়।
  •     
  • ২. জাবেদাভুক্তকরণ (Journalizing): সনাক্তকৃত ও বিশ্লেষিত লেনদেনগুলোকে তারিখের ক্রমানুসারে ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষ উল্লেখ করে হিসাবের প্রাথমিক বই জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
  •     
  • ৩. খতিয়ানভুক্তকরণ (Posting to Ledger): জাবেদায় লিপিবদ্ধ লেনদেনগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট খতিয়ান হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিটি হিসাবের বর্তমান অবস্থা জানা যায়।
  •     
  • ৪. রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ (Preparation of Trial Balance): নির্দিষ্ট হিসাবকালের শেষে খতিয়ানের ডেবিট ও ক্রেডিট উদ্বৃত্তগুলো ব্যবহার করে রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয়। এটি হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করতে সাহায্য করে।
  •     
  • ৫. সমন্বয় দাখিলা প্রদান (Adjusting Entries): হিসাবকালের শেষে বকেয়া খরচ, অগ্রিম আয়, অবচয়, অনুপার্জিত আয় ইত্যাদি সমন্বয়ের জন্য সমন্বয় দাখিলা (Adjusting Entries) প্রস্তুত ও জাবেদাভুক্ত করা হয়।
  •     
  • ৬. সমন্বিত রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ (Preparation of Adjusted Trial Balance): সমন্বয় দাখিলাগুলোর প্রভাব খতিয়ানে স্থানান্তরের পর একটি সমন্বিত রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয়। এটি আর্থিক বিবরণী তৈরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
  •     
  • ৭. আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরণ (Preparation of Financial Statements): সমন্বিত রেওয়ামিলের তথ্যের ভিত্তিতে আয় বিবরণী (Income Statement), সংরক্ষিত আয় বিবরণী (Retained Earnings Statement), আর্থিক অবস্থার বিবরণী (Statement of Financial Position/Balance Sheet) এবং নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash Flow Statement) প্রস্তুত করা হয়।
  •     
  • ৮. সমাপনী দাখিলা প্রদান (Closing Entries): হিসাবকালের শেষে আয়, ব্যয় ও উত্তোলন হিসাবের উদ্বৃত্তগুলোকে শূন্যে পরিণত করার জন্য সমাপনী দাখিলা (Closing Entries) প্রদান করা হয় এবং এগুলো মূলধন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
  •     
  • ৯. হিসাব-পরবর্তী রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ (Preparation of Post-Closing Trial Balance): সমাপনী দাখিলা প্রদানের পর শুধু স্থায়ী সম্পদ, দায় ও মালিকানা স্বত্ব হিসাবের উদ্বৃত্তগুলো নিয়ে হিসাব-পরবর্তী রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয়। এটি নিশ্চিত করে যে, পরবর্তী হিসাবকালের জন্য শুধুমাত্র স্থায়ী হিসাবগুলো খোলা আছে।
  •     
  • ১০. বিপরীত দাখিলা (Reversing Entries) (ঐচ্ছিক): পরবর্তী হিসাবকালের শুরুর দিকে কিছু সমন্বয় দাখিলার প্রভাব উল্টে দেওয়ার জন্য বিপরীত দাখিলা (Reversing Entries) দেওয়া হয়, যা হিসাব প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এটি একটি ঐচ্ছিক ধাপ।
Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
728
333
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews