ঘটনা-১: চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিবরিয়া সাহেব তাঁর স্ত্রীসহ ছেলেদের সংসারে অনেকটা অবহেলার পাত্র হিসেবেই বসবাস করছেন।

ঘটনা-২: মবিন সাহেবের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলেও মেয়ের জন্য করেননি। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও এইচ.এস.সি. পাশের পর মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ করে বিয়ে দিয়ে দেন। 

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তন হলো মানুষের জীবনপ্রণালির পরিবর্তন।

উত্তরঃ

সামাজিক স্তরবিন্যাস চিরন্তন ও সর্বজনীন।

সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাস ছিল। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না, যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম মানুষের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল। তাই স্তরমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনে সামাজিক স্তরবিন্যাস ধারায় পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কখনোই এ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়নি। তাই বলা যায়, সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বজনীন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ বয়স বৈষম্যবাদের কথা বলা হয়েছে।

বয়স বৈষম্যবাদ বলতে বয়সের কারণে কোনো বয়সগোষ্ঠী বা তার কোনো সদস্যদের প্রতি নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা বা মনোভাব পোষণ ও তার সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করাকে বোঝায়। বয়স বিদ্বেষী ব্যক্তি বা সমাজ প্রবীণকে জৈবিক ও সামাজিকভাবে অযোগ্য বলে মনে করে। এ ধরনের মনোভাব থেকেই প্রবীণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ জন্ম নেয়। পৃথিবীর অধিকাংশ সমাজেই প্রবীণরা কম-বেশি বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার। যেমনটি উদ্দীপকের ঘটনা-১ প্রতিফলিত হয়েছে।

উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখতে পাই, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিবরিয়া সাহেব ও তার স্ত্রী ছেলেদের সংসারে অনেকটা অবহেলার পাত্র হিসেবে বসবাস করছেন। যা বয়স বৈষম্যবাদকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ বয়স বৈষম্যবাদের প্রতিফলন ঘটেছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের ঘটনা-২ অর্থাৎ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত পোষণ করি।

বর্তমান পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ নারী। এজন্য নারীকে অবহেলা বা বঞ্চিত করে বিশ্বব্যাপী সার্বিক ও যথাযথ উন্নয়ন আশা করা যায় না। একসময় নারীদেরকে যেকোনো বিষয়ে অবহেলা করা হলেও বর্তমানে উন্নত ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনের তাগিদে নারীর প্রতি পুরুষশাসিত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে। অবশ্য এ পরিবর্তনে নারীবাদীরা ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।

যেমন কৃষ্ণনারীবাদ, উদারপন্থি নারীবাদ ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে সমান তালে ভূমিকা রাখছেন। শুধু তাই নয় নারীরা এখন রাজনীতিতেও ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশে নারী সংসদ সদস্যরা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

নারীরা এখন তাদের অধিকার আদায়ে সচেতন। তারা এখন উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক অবদান রাখছেন। তারা তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সমাজকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করার অভিপ্রায়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাই এই উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ার প্রয়োজনে নারীদেরকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করা যাবে না।

উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ আমরা দেখতে পাই, মবিন সাহেব ছেলের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলেও মেয়ের জন্য তা করেননি। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের লিঙ্গভিত্তিক অসমতাকে নির্দেশ করে। আর এ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে, যা উপরের আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

320

Related Question

View All
উত্তরঃ

Caste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।

1.2k
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

1.9k
উত্তরঃ

জাউদ্দীপকে ছকের'?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে।

সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।

471
উত্তরঃ

"উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় তথা সামাজিক স্তরবিন্যাস ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না'- আমি এ বক্তেব্যের সাথে একমত।

সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাসের উদ্ভব ঘটেছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম অধিবাসীদের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতো। এজন্য স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তরবিন্যাসের আকৃতি প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটছে। যুগে যুগে স্তরবিন্যাসের রূপরেখা পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কথনো বিলুপ্ত হয়নি। বাস্তবে বৈষম্যহীন বা শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সব সমাজেই কম-বেশি স্তরবিন্যাস লক্ষ করা যায়। প্রাচীন তথা আদিমযুগের যূথবদ্ধ সমাজ থেকে বর্তমানের আধুনিক শিল্পসমাজ সর্বত্র সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান ছিল এবং আছে। স্তরবিহীন কোনো সমাজ নেই। অর্থ-সম্পদ, মেধা, বংশ, পেশা, বয়স, লিঙ্গ, ক্ষমতা, শিক্ষা এর কোনো না কোনো একটির ভিত্তিতে সমাজকে স্তরায়িত করা যায়। এ সম্পর্কে জন মিলার বলেন- শ্রেণি, পদমর্যাদা, সামাজিক উঁচুনিচু ভেদাভেদ সর্বজনীন। ক্রমান্বয়ে সামাজিক আবর্তন-বিবর্তন ও পরিবর্তনের ফলে তা সম্পত্তির মালিকানা ও পদমর্যাদার ওপর নির্ভর করে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক স্তরবিন্যাস। চিরন্তন ও সর্বজনীন। আর এটি সব সমাজেই বিদ্যমান। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।

521
উত্তরঃ

সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হলো উন্নয়ন।

339
উত্তরঃ

বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার সন্তান সন্ততি যদি পিতার কাছ থেকে পায়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবারকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।

পিতৃসূত্রীয় পরিবারের নেতৃত্ব, সম্পত্তি, বংশমর্যাদা ইত্যাদি উত্তরাধিকারসূত্রে পিতা থেকে পুত্রের কাছে আসে। এখানে দাদা, বাবা, পুত্র ও নাতিকে নানা, মাতা, মেয়ে ও নাতনির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের প্রচলিত সমাজ ও চাকমা সমাজে এ ধরনের পরিবার প্রচলিত।

1.6k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews