প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক।
বাংলাদেশে শিল্পের ক্রমোন্নতি নারীর সামাজিক জীবন ও মর্যাদার ক্ষেত্রে প্রভূত পরিবর্তন সাধন করেছে। শিল্পের প্রসার আজ নারীকে গৃহের সীমিত পরিবেশ থেকে বাইরের কর্মমুখর জগতে টেনে এনেছে। তাছাড়া নারী সমাজের চাকরি পরিবারে বাড়তি অর্থোপার্জনের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারী আগের তুলনায় অনেক অগ্রসর হয়েছে। ফলে আজ তারা অফিস আদালতে চাকরি করছে। অনেকে নিজ উদ্যোগে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা-১ সামাজিক পরিবর্তনের প্রাকৃতিক উপাদানকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিগত অবস্থান সামাজিক পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। ধীর এবং আকস্মিক ভৌগোলিক পরিবর্তন, জলবায়ু সংক্রান্ত পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রভৃতি বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে এবং সমাজের ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে। এদেশে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, টর্নেডো, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন প্রতিদিনের ঘটনা। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। তখন পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নতুন পদ্ধতি অবলম্বনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এর ফলে মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে থাকে, যেমন- উদ্দীপকের জনাব 'X' প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তেমনি নদীভাঙন এ দেশের শহরাঞ্চলে বস্তি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ। শহরাঞ্চলে বস্তি সমস্যা নানামুখী সমস্যার জন্ম দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি বহু কার্যক্রম গ্রহণ করায় শহুরে সমাজে নানা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি করে। মানুষ এসব সমস্যা মোকাবিলায় নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে সমাজের পরিবর্তন সাধন করে।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা-২ এ বর্ণিত উপাদানটি তথা শিল্পায়ন ও নগরায়ণ উপাদানটির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে- প্রশ্নোক্ত উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
শিল্পায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও সমাজে রূপান্তরিত হয়। শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ ঘটে। ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগর জীবন পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়াই নগরায়ণ। বাংলাদেশে স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পের প্রসার ঘটেছে। এর মধ্যে পোশাক, ঔষধ, চা, চিনি, সুতা, কাগজ, তামাক, বিস্কুট, প্রসাধনী ও সাবান শিল্প প্রধান। শিল্প প্রসারের ফলে বেকারত্ব ঘুচাতে গ্রামের অনেক দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক নগরমুখী হচ্ছে এবং নগর জীবন গ্রহণ করছে। উদ্দীপকের জনাব 'X' গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগর জীবন গ্রহণ করতে দেখা যায়। শিল্পায়নের ফলে আমাদের সমাজ জীবনে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব হয়েছে। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। এতে ভৌগোলিক দূরত্ব কমে গেলেও সামাজিক দূরত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে। জীবনদর্শন আচার- আচরণ, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতির পরিবর্তন ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায়, উপরিউক্তভাবেই শিল্পায়ন ও নগরায়ণ সামাজিক পরিবর্তনে ব্যাপক প্রভাব রাখছে।
Related Question
View Allসমাজ কাঠামো ঞ্চাশ্রয় কার্যাবলির পরিবর্তনই হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ হলো। শিল্পায়ন। শিল্পায়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ যৌথ পরিবার ভেঙে শহরে একক পরিবার গঠিত হচ্ছে। মেয়েরা ঘরে ও বাইরে সমানতালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সর্বদয়া ও শ্রমদানা' কার্যক্রমের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক পরিবর্তনের শিক্ষা উপাদানের সাথে মিল রয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। যেমন- বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে; যা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী শিক্ষা নারীকে বহির্মুখী কর্মগ্রহণ ও চাকরিমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। এভাবে বিজ্ঞান শিক্ষা, বাণিজ্য শিক্ষা প্রভৃতি সমাজ জীবনে বহু কিছু সৃষ্টি করেছে; যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নারীর ভূমিকার পরিবর্তনে সমাজজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উদ্দীপকে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে বহু নারীর ব্যাপক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে নারীরা সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। যার ফলে নারীরা এখন আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেরা আয় করতে পারছে। নারীরা উপার্জিত টাকা পরিবারের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালন করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সামাজিক বহুবিধ দায়িত্ব পালন করছে। নারীর ভূমিকার এই পরিবর্তন নারীকে ক্ষমতায়নে ও মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বেসরকারি সংস্থা বগুড়ার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। যা নারী উন্নয়ন সংঘ এখন জনসংখ্যারোধ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে কাজ করে সমাজজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক নারী তাদের অবস্থার উন্নয়নে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছে।
তাই বলা যায়, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় এসে নারীরা সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
'মানবীয় সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন'- উক্তিটি প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। শিক্ষা এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। যা আত্মবিশ্বাস ও বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা জাগ্রত করে সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!