যেসব দ্রব্য ও সেবা অন্য দ্রব্য ও সেবার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, তাকে চূড়ান্ত দ্রব্য বলে।
ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্ব আরও একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজমান। সেটি হচ্ছে মিশ্র, অর্থনীতি। এটি ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় যেমন দ্রব্য উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মালিকানা স্বীকৃত, তেমনি সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন ও বিনিয়োগের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্ব আরও একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজমান। সেটি হচ্ছে মিশ্র, অর্থনীতি। এটি ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় যেমন দ্রব্য উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মালিকানা স্বীকৃত, তেমনি সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন ও বিনিয়োগের ব্যবস্থাও রয়েছে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মাত্রায় নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ।
বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশসমূহের মধ্যপর্যায়ের দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়। এসব দেশে মাথাপিছু প্রকৃত আয় উন্নত দেশসমূহের তুলনায় অনেক কম। তবে অনুন্নত দেশসমূহের সাথে এ দেশগুলোর পার্থক্য হচ্ছে, এসব দেশ উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনসংখ্যাকে ব্যবহার করে মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এসর দেশ আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশের দ্রুত শিল্পায়ন করার প্রচেষ্টা নেয়। ফলে পুঁজি গঠন ও বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি ঘটে, যা সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদ্দীপকের ঘটনা ২ তে বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্ব বিশ্বব্যাংকের মতে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মাথাপিছু আয় ১০০৬-৩৯৭৫ ডলার। উদ্দীপকের ঘটনা-১ তে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা থেকে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। আর নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ভুক্ত। সে অর্থে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশ্লেষণে ঘটনা-১ এর তথ্যই যথেস্ট।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় অনেক বেশি নয়, আবার খুব কমও নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থবির বা স্থিতিশীল নয়। বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ খেয়াল করলেই আমরা সেটা খুব সহজেই বুঝতে পারি। বাংলাদেশ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট জাতীয় আয় অর্জন করে ১৪,৩৩,২২৪ কোটি টাকা। তার পরবর্তী বছরে অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ, ১৬,১০,৮৯৫ কোটি টাকা অর্জন করে। মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধির ফলে জনগণের মাথাপিছু আয়ও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। অর্থনৈতিক সূচকসমূহ, ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে, শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। জনগণের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা ক্রমশ কমছে। এছাড়াও বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতের উন্নয়ন হচ্ছে।
সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, মোট জাতীয় আয়ের বৃদ্ধি দিয়েই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশ্লেষণ সম্ভব।
Related Question
View Allঅর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হচ্ছে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধি।
সাধারণত দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে সংঘটিত বাণিজ্যকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলা হয়।
পৃথিবীর কোনো দেশই সর্বদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই প্রত্যেক দেশকেই অন্য দেশ থেকে কিছু আমদানি করতে হয়; আবার কোনো দেশ তার নিজের চাহিদা মিটিয়ে কোনো না কোনো পণ্য অন্য দেশে রপ্তানিও করে থাকে। এভাবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য গড়ে ওঠে তাই হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্য।
অনিমা ও তার বাবা কুয়াকাটা যাওয়ার পথে যে ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় তা হচ্ছে প্রকৃতিসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে একটি সাধারণ ঘটনা। বলা হয়, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ কবলিত দেশ। প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো ও নদীভাঙন। এ দুর্যোগগুলো প্রধানত দেশের কৃষিখাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এছাড়া বাড়িঘর, পথঘাট ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। বিশেষত প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনে সীমিত কৃষি জমির এদেশের বিপুল পরিমাণ জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি গবাদি পশু, মৎস্য ও পাখি সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এ ক্ষতিপূরণ করেই প্রতিবছর আবার উৎপাদন কাজ শুরু করতে হয়। উদ্দীপকে অনিমা লক্ষ করে মহীপুরের ফেরিপার হতে গিয়ে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসের কারণে ফেরি সংলগ্ন পল্টুনের তিন-চতুর্থাংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। এক্ষেত্রে জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে একটি প্রকৃতি সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা।
তাই বলা যায়, অনিমা ও তার পরিবার কুয়াকাটা যাওয়ার পথে দেশের প্রকৃতি সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়।
অনিমার বাবার জানা প্রকল্পটি হচ্ছে 'কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম' বা সংক্ষেপে সিডিএমপি যা এদেশে প্রকৃতিসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য কাজ করছে। প্রকল্পটি অবশ্যই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ, এর অধীনস্থ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো ও আবহাওয়া অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইত্যাদি সংস্থা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদান করে থাকে। বহুসংখ্যক এনজিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন, খাদ্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসমূহ, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ 'কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম' শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ২০১০-১৪ মেয়াদে বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কীকরণ, দুর্যোগের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস, দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি পদক্ষেপ গৃহীত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। উদ্দীপকে অনিমা তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কুয়াকাটায় বেড়াতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে জলোচ্ছ্বাসের কারণে তাদের যাত্রাতে বিঘ্ন ঘটে। যা প্রকৃতসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাকে নির্দেশ করে। অনিমার বাবা সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানতে পারে, সরকার এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। সরকারের এ প্রকল্প কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামকে নির্দেশ করে। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাকৃতিক এসব দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ প্রোগ্রাম বিশেষভাবে অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি।
যেকোনো অবস্তুগত দ্রব্য যার উপযোগ এবং বিনিময় মূল্য আছে, তাই সেবা।
শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতির সাথে দেশে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সুশাসনের অভাব শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
সুশাসনের অভাব দেশে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ইচ্ছাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তাছাড়া সুশাসনের অভাব দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে ভয়ভীতি এনে দেয়। সার্বিকভাবে সুশাসনের অভাব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বৃদ্ধি করে যা শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতিতে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!