দ্বিজাতি তত্ত্ব ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
অসহযোগ আন্দোলন হলো ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন।
তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৭০ এর নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করলে এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এ আন্দোলনের পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং ৯ মাস যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
ঘটনা-১ এ উল্লেখিত ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পরপরই দেশটির রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আব্দুল মতিনকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে সমগ্র পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেদিন ভাষার দাবিতে ছাত্রসমাজ মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। গুলিতে রফিক, সালাম, বরকতসহ অনেকে শহিদ হন।
ঘটনা ১-এ- বলা হয়েছে, ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন ২০০১ সালে বাংলাদেশের জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার 'একুশে পদক' পান। ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য সংঘটিত ভাষা আন্দোলনে আব্দুল মতিন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার তাকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।
'ঘটনা-২ এ উল্লেখিত নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করে'- উক্তিটি যথার্থ।
১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে বাঙালিরা আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। কিন্তু ১৯৭০ সালের এই নির্বাচনি ফলাফলকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী প্রত্যাখ্যান করলে দেশটিতে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় পায়। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক সরকার আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার জন্য টালবাহানা শুরু করে। এর প্রতিবাদে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে '২৫শে মার্চ মধ্যরাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সেনারা বর্বর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটেই ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ফলে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনি ফলাফলকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম অর্গণতান্ত্রিক আচরণই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
Related Question
View Allআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ২১শে ফেব্রুয়ারি।
দ্বিজাতি তত্ত্ব ব্রিটিশ ভারতকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত করার একটি রাজনৈতিক মতবাদ। এর ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল।
ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমান অধিবাসীরা দুটি আলাদা জাতি- এটাই দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল কথা। ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, "ভারতের হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি আলাদা জাতি। তাদের জীবন দর্শন, ধর্মীয় আদর্শ ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।” জিন্নাহ এ যুক্তি দিয়ে ভারতের মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবি করেন। তার এ যুক্তিই উপমহাদেশের ইতিহাসে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
উপরের ছবিটি আমাদের ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত।
উপরের ছবিতে একটি মিছিলের একাংশ দেখা যাচ্ছে। ছাত্রজনতা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করছে। এ ছবির সাথে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের মিছিলের সাদৃশ্য রয়েছে। পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জন অধিবাসীর মাতৃভাষা ছিল বাংলা। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা যে আন্দোলন শুরু করে, তা-ই ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে পূর্ব বাংলার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে থাকে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক নেতৃত্বে, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র নেতৃত্বের সমন্বয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। কয়েক বছর ধরে চলা এ আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল করে। পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। অতঃপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়।
ছবির লোকগুলোর চেতনাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দিতে- সক্ষম হয়- এ উক্তিটির পক্ষের যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
ভাষা আন্দোলন তখনকার পূর্ব বাংলা অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে প্রথম অধিকার সচেতন করে তোলে। বাঙালি জাতি তার স্বতন্ত্র আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে নতুন করে সচেতন হয়ে ওঠে। ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর থেকেই বাঙালিরা বুঝতে পারে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এতে পূরণ হচ্ছে না। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মুসলিম লীগের ভরাডুবি এবং বিরোধী জোট যুক্তফ্রন্টের বিজয় পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক চেতনাকে আরও শানিত করে। পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভাষাকেন্দ্রিক ভাষা আন্দোলনের ফলে পূর্ব বাংলার হিন্দু-মুসলমান উভয়ের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটে।
ভাষা আন্দোলনের জের ধরেই ধীরে ধীরে পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী সবাই পাকিস্তানিদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালিদের মধ্যে যে জোরালো অধিকারবোধের সৃষ্টি হয় তা এ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক বিবর্তনকে এগিয়ে নেয়। এর ধারাবাহিকতায়ই ধাপে ধাপে আসে পাকিস্তানি বৈষম্যের বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় পাওয়া আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পাকিস্তানি শাসকচক্র মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে। পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
সুতরাং বলা যায়, ছবির লোকগুলোর চেতনা তথা ভাষা আন্দোলনের চেতনাই কালক্রমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দিতে সক্ষম হয়।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন।
গেরিলা যুদ্ধ একটি বিশেষ রণকৌশল।
গেরিলা যুদ্ধের মূলকথা হচ্ছে বৃহৎ ও নিয়মিত শত্রুবাহিনীর ওপর, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ, যার উদ্দেশ্য হলো বৃহত্তর বাহিনীকে হয়রানি, নাজেহাল এবং সম্ভব হলে নির্মূল করা। শক্তির পার্থক্যের কারণে গেরিলা যোদ্ধারা যথাসম্ভব সম্মুখযুদ্ধ এড়িয়ে চলে। পেশাদার সেনাদের বদলে সাধারণ জনগণের সমন্বয়ে গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আক্রমণের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা পদ্ধতিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন। গেরিলাদের মধ্যে ছাত্র ও কৃষকের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!