ঘটনা-১: ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।

ঘটনা-২: মোচাকৃতি পর্বতের জ্বালামুখ দিয়ে লাভা নির্গত হয়।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ নগ্নীভবন হলো ভূমির উপরিভাগের শিলাস্তরকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি (যেমন – নদী, বায়ু, হিমবাহ ইত্যাদি) দ্বারা ক্ষয়, অপসারণ এবং উন্মুক্ত করার সম্মিলিত প্রক্রিয়া।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

সূর্যের তাপের কারণে শিলা দিনের বেলায় উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয় এবং রাতের বেলায় শীতল হয়ে সংকুচিত হয়, যা তাপীয় বিচূর্ণীভবন প্রক্রিয়ার একটি প্রধান কারণ।

এই ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে শিলার অভ্যন্তরে এবং উপরিভাগে পীড়ন (stress) সৃষ্টি হয়। সময়ের সাথে সাথে এই পীড়ন সহ্য করতে না পেরে শিলাতে ফাটল ধরে এবং অবশেষে শিলা ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। একে তাপীয় বা যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন (Thermal or Mechanical Weathering) বলে, যা বিশেষত উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে তাপমাত্রা তারতম্যের কারণে অধিক সক্রিয় থাকে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা-১, অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়াকে ভূমিকম্প বলা হয়। ভূত্বকের আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। ভূপৃষ্ঠে ভূমিকম্প সংঘটনের প্রধান কারণ হলো ভূত্বকের বিভিন্ন প্লেটের চলন। পৃথিবীর উপরিভাগ কয়েকটি বৃহৎ ও ছোট প্লেট বা পাতে বিভক্ত এবং এই প্লেটগুলো সর্বদা ধীরগতিতে সঞ্চালিত হচ্ছে।

এই প্লেটগুলোর একে অপরের সাপেক্ষে সঞ্চালনের ফলে তাদের সীমান্তে ঘর্ষণ, চাপ ও টান সৃষ্টি হয়। এই চাপ ও টানের ফলে প্লেটগুলোর সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হয় এবং শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে। যখন সঞ্চিত শক্তি প্লেটের প্রতিরোধ ক্ষমতা অতিক্রম করে, তখন হঠাৎ করে প্লেটগুলো স্থানচ্যুত হয় এবং সঞ্চিত শক্তি তরঙ্গ আকারে ভূমির অভ্যন্তর থেকে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয়, যা ভূমিকম্প রূপে অনুভূত হয়।

সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা-১, ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ার প্রধান কারণ হলো ভূত্বকীয় প্লেটসমূহের গতিশীলতা এবং তাদের সংঘর্ষ বা স্থানচ্যুতির ফলে সৃষ্ট শক্তির আকস্মিক মুক্তি। এর ফলে ভূমিতে কম্পন সৃষ্টি হয় এবং আমরা সেই ঝাঁকুনি অনুভব করি, যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

ভূ-পৃষ্ঠের অভ্যন্তরে যখন উত্তপ্ত গলিত পদার্থ, গ্যাস, ও বাষ্প প্রচণ্ড বেগে ভূ-পৃষ্ঠের দুর্বল ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে অগ্ন্যুৎপাত বলে। এটি একটি বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পৃথিবীর ভূ-প্রকৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে এবং নতুন ভূমিরূপ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ঘটনা-২' হলো "মোচাকৃতি পর্বতের জ্বালামুখ দিয়ে লাভা নির্গত হয়", যা সরাসরি অগ্ন্যুৎপাতকেই নির্দেশ করে। এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, ছাই, শিলাখণ্ড, গ্যাস ইত্যাদি ভূ-পৃষ্ঠে জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি করে এবং বিদ্যমান ভূমিরূপের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। অগ্ন্যুৎপাত সংঘটিত হওয়ার স্থান এবং এর তীব্রতার উপর নির্ভর করে এই পরিবর্তনগুলোর ধরন ও মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।

অগ্ন্যুৎপাত ভূ-পৃষ্ঠে নিম্নলিখিতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে:

        
  • নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি: অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে জমা হওয়া লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয় পর্বত (যেমন – মোচাকৃতি পর্বত), মালভূমি (যেমন – দাক্ষিণাত্য মালভূমি), এবং আগ্নেয় দ্বীপের (যেমন – হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ) জন্ম দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই ভূমিরূপগুলো বিশাল আকার ধারণ করতে পারে।
  •     
  • ভূমিরূপের ধ্বংসসাধন: প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে অগ্ন্যুৎপাত নিকটবর্তী এলাকার পুরাতন ভূমিরূপ ও জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। লাভা প্রবাহ, উষ্ণ গ্যাস ও ছাইয়ের বৃষ্টিতে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগ পুড়ে যায় এবং ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়।
  •     
  • উর্বর মৃত্তিকা সৃষ্টি: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট লাভা শীতল হয়ে ভেঙে গিয়ে উর্বর আগ্নেয় মৃত্তিকা তৈরি করে। এই মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় অগ্ন্যুৎপাতের পরের দীর্ঘ সময়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  •     
  • জলাশয় সৃষ্টি: আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বসে গিয়ে বা লাভা জমে পানি ধারণ করে জ্বালামুখ হ্রদ (যেমন – ইন্দোনেশিয়ার টোবা হ্রদ) সৃষ্টি করতে পারে, যা স্থানীয় ভূ-প্রকৃতির একটি নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করে।
  •     
  • জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তন: অগ্ন্যুৎপাত থেকে নির্গত ছাই ও গ্যাস বায়ুমণ্ডলে মিশে গিয়ে সূর্যালোককে বাধা দেয়, যা তাপমাত্রা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। সালফার ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস বায়ুমণ্ডল ও জলরাশিকে দূষিত করে।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ ইঙ্গিতকৃত অগ্ন্যুৎপাত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা ভূ-পৃষ্ঠের গঠন, ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা, এমনকি জলবায়ুতেও সুদূরপ্রসারী এবং ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। এই পরিবর্তনগুলো কখনো নতুন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে, আবার কখনো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়ে পৃথিবীর গতিময়তা ও বিবর্তনকে প্রমাণ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
138

Related Question

View All
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। সাধারণত নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে, তাকেই বায়ুর আর্দ্রতা হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
Satt AI
Satt AI
5 days ago
660
উত্তরঃ

জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রপোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর এবং এখানেই বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯০% গ্যাসীয় পদার্থ বিদ্যমান। এই স্তরে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্যাসগুলো রয়েছে যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া, মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহসহ সকল আবহাওয়ার ঘটনা ট্রপোমণ্ডলেই ঘটে, যা জীবের স্বাভাবিক জীবনচক্র ও পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য অত্যাবশ্যক।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
1.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews