শালবন বিহার কুমিল্লা জেলার ময়নামতিতে অবস্থিত।
আর্যদের বৈদিক ভাষা থেকে কালক্রমে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়।
অনেকের মতে, প্রাচীন সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীরা তা মেনে নেননি। তারা বলেন, প্রাচীন যুগে আর্যদের যে ভাষায় বৈদিক গ্রন্থ রচিত হয়েছিল, স্থানভেদে এবং সময়ের বিবর্তনে তার অনেক পরিবর্তন ঘটে। সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়। সেই অপভ্রংশ থেকে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়।
ঘটনা-১-এ বাংলার প্রাচীন যুগের চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রাচীনকালে এখনকার মতোই বাঙালির প্রধান খাদ্য ছিল ভাত, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, দই, ঘি, ক্ষীর ইত্যাদি। চাল থেকে প্রস্তুত নানা প্রকার পিঠা জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার ছিল। তখন অনেক ধরনের মাছ পাওয়া যেত। পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুঁটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল। তরকারির মধ্যে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিংগে, কাকরোল, কচু উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আখ, কাঁঠাল, কলা, তাল, পেঁপে, নারকেল ইত্যাদি পাওয়া যেত। দুধ, নারকেল পানি, ইক্ষুরস এবং তালরসসহ মদজাতীয় কিছু পানীয়ও প্রচলিত ছিল। খাওয়া-দাওয়া শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার রীতি ছিল।
ঘটনা-১-এ মাহিন ও শাহিন বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়ে দেখে অতিথি আপ্যায়নে পরিবেশিত হচ্ছে ভাত, মাছ, মাংস, ক্ষীর, পায়েস দধি ইত্যাদি। সবশেষে মসলাযুক্ত পান-সুপারির ব্যবস্থাও ছিল। ঘটনা-১-এর খাদ্য তালিকার সাথে পূর্বে আলোচিত প্রাচীন যুগের বাংলার খাদ্য তালিকার মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, ঘটনা-১-এ প্রাচীন যুগের বাংলার খাদ্যাভ্যাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘটনা-২ প্রাচীন যুগের বর্ণপ্রথাকে ইঙ্গিত করে। এ প্রথা সমাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
প্রাচীন বাংলার হিন্দু সমাজব্যবস্থার একটি অন্যতম দিক জাতিবর্ণপ্রথা। জাতিবর্ণ বলতে বোঝায় এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তির মর্যাদা, পেশা, বিবাহ ইত্যাদি জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয়। এখানে ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো মূল্য নেই। ফলে ব্যক্তির প্রতিভা, মেধা, কর্মক্ষমতা, দক্ষতা প্রভৃতি থাকা সত্ত্বেও তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারে না। ফলে সমাজের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হয়ে, তা আরও বাধাগ্রস্ত হয়।
বর্ণপ্রথা অনুযায়ী নিচু বর্ণের একটি ছেলের অধ্যাপনা বা শিক্ষকতা করার যোগ্যতা থাকলেও এ পেশা ব্রাহ্মণদের জন্য নির্ধারিত বলে সে এ পেশা গ্রহণ করতে পারে না। জাতিবর্ণপ্রথার কারণে তার দ্বারা সেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আর আশা করা যায় না। ফলে সমাজের উন্নতি ব্যাহত হয়। উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, জাতিবর্ণ প্রথা সমাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করে।
Related Question
View Allআর্যদের পূর্বে বাংলার ভাষার নাম অস্ট্রিক।
আর্যদের বৈদিক ভাষা থেকেই কালক্রমে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়। মূলত প্রাচীন যুগে আর্যরা যে ভাষা ব্যবহার করত এবং যে ভাষায় বৈদিক গ্রন্থ রচিত হয় তা সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পর এ ভাষা সংস্কৃত নামে অভিহিত হয়। সংস্কৃত হতে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত হতে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়। অপভ্রংশ ভাষা হতে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত খাদ্য ও পোশাক পরিচ্ছদের সাথে বাংলার প্রাচীন আমলের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রাচীনকালেও বর্তমান সময়ের মতো বাঙালির প্রধান খাদ্য ছিল ভাত, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, ক্ষীর ইত্যাদি। খাওয়া-দাওয়া শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার রীতি ছিল। চাউল হতে প্রস্তুত নানা প্রকার পিঠা তখন জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার ছিল। তাছাড়া নানা জাতের মাছ পাওয়া যেত। পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুঁটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল। তরকারির মধ্যে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিংগে, কাকরোল, কচু উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, নারকেল, পেঁপে পাওয়া যেতো। দরকারি বিভিন্ন জিনিস গ্রামেই তৈরি হতো।
আর পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে প্রাচীন যুগে রাজা মহারাজা ও ধনীদের বাদ দিলে তেমন বিশেষ আড়ম্বর ছিল না। প্রাচীন বাংলার নারী-পুরুষ উভয়েই অলংকার পরতো। তারা কানে কুণ্ডল, গলায় হার, আঙুলে আংটি, হাতে বালা ও পায়ে মল পরিধান করতো। মেয়েদের সাজসজ্জায় আলতা, সিঁদুর ও কুমকুমের ব্যবহার প্রচলিত ছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, টিনা নীলার বিয়েতে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে প্রাচীন বাংলার খাবারের সাথে টিনার বিয়ের আয়োজনে খাদ্যতালিকার মিল দেখতে পায়। সাজসজ্জার ক্ষেত্রেও প্রাচীন যুগের সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পায় টিনা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে টিনা তার বান্ধবী নীলার গ্রামের বাড়িতে যা কিছু প্রত্যক্ষ করেছে সেগুলোর সাথে বাংলার প্রাচীন আমলের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
নীলাদের গ্রামের আর্থিক কাঠামোর মাঝে প্রাচীন বাংলার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে বলে আমি মনে করি।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা কৃষির জন্য সুখ্যাত ছিল। এ অঞ্চলে পাট, ইক্ষু, তুলা, নারকেল, সুপারি, এলাচ, লবঙ্গ ইত্যাদি উৎপন্ন হতো। এছাড়াও কুটিরশিল্পের মধ্যে মাটির তৈরি কলস, ঘটি-বাটি, বাসনপত্র ইত্যাদি ছিল। আর লোহার তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল দা, কুড়াল, কোদাল ইত্যাদি। বস্ত্রশিল্পের জন্য বাংলা প্রাচীনকালেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় প্রাচীন কাল থেকেই বাংলায় তৈরি হতো। আর কার্পাস তুলা ও রেশমের তৈরি উন্নতমানের সূক্ষ্ম বস্ত্রের জন্যও বঙ্গ প্রসিদ্ধ ছিল।
বঙ্গে স্থল ও জলপথেই বাণিজ্যের আদান-প্রদান চলত। দেশের ভেতরে বাণিজ্য ছাড়াও সে সময় বাংলার বৈদেশিক বাণিজ্য বেশ উন্নত ছিল। তাছাড়াও প্রাচীন বাংলায় পূজা-পার্বণ ও আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা ছিল। দুর্গার অর্চনা উপলক্ষে বরেন্দ্রে বিপুল উৎসব হতো। ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া, আকাশপ্রদীপ, জন্মাষ্টমী, দশহরা, গঙ্গাস্নান ইত্যাদি অনুষ্ঠান হতো বঙ্গে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামের আর্থিক কাঠামোর মাঝে প্রাচীন বাংলার চিত্র ফুটে উঠেছে।
সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব চার শতকের পূর্বে বাংলায় মুদ্রার প্রচলন আরম্ভ হয়।
প্রাচীন বাংলার মানুষের অবস্থা মোটামুটি উন্নত ছিল।
প্রাচীন বাংলার সমাজ জীবনে নানা ধরনের প্রথা বিদ্যমান ছিল। আর প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক জীবনের মূলভিত্তি ছিল কৃষি। এছাড়াও কুটিরশিল্প গড়ে উঠেছিল বঙ্গে। আর প্রাচীন বাংলায় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রশিল্পের বহু নিদর্শন ছিল। তাছাড়াও তৎকালীন বাংলায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হতো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!