'Social Organization' গ্রন্থের লেখক সমাজবিজ্ঞানী চার্লস হরটন কুলি।
প্রাথমিক বা মুখোমুখি দল বলতে এমন একটি দলকে বোঝানো হয়, যারা পরস্পর নিবিড়ভাবে আবদ্ধ থাকে।
কতকগুলো প্রাকৃতিক অবস্থার জন্য প্রাথমিক দলের মনোভঅব গড়ে ওঠে। এ দলের সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থান করে। এ দলের সদস্যদের মধ্যে 'আমরা ভাব' (We feeling) বিদ্যমান থাকে। যেমন- পরিবার। সুতরাং আমরা বলতে পারি, যে দলের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ, নিবিড় ও মুখোমুখি সম্পর্ক বিদ্যমান তাকে প্রাথমিক বা মুখোমুখি দল বলে।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ ঊর্ধ্বমুখী উল্লম্বী সামাজিক গতিশীলতার উদাহরণ।
সামাজিক গতিশীলতার কারণে যদি ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদার উন্নতি ঘটে তাহলে তাকে বলে ঊর্ধ্বমুখী উল্লম্বী গতিশীলতা। যেমন: কোনো কুমার-এর সন্তান যদি ভালো পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করে; তাহলে তার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, যা সমাজজ্ঞিানে ঊর্ধ্বমুখী উল্লম্বী গতিশীলতা হিসেবে অভিহিত। উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ দেখা যায়, মুচির ছেলে শিক্ষা গ্রহণ করে অধ্যবসায়ের ফলে 'খ' দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। অর্থাৎ, সামাজিক গতিশীলতার কারণে তিনি তার নিম্ন সামাজিক মর্যাদা থেকে উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন হয়েছেন।
সুতরাং ঘটনা-১ যে ঊর্ধ্বমুখী সামাজিক গতিশীলতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ তা সহজেই বোঝা যায়।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম মৌল প্রত্যয় সামাজিক নিয়ন্ত্রণের নির্দেশক বলে আমি মনে করি।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজ ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে আচরণ করতে বাধ্য করে এবং তাকে সমাজে বসবাস করার উপযুক্ত করে তোলে। সমাজের সদস্য হিসেবে প্রতিটি ব্যক্তির কতগুলো ভূমিকা ও কর্তব্য থাকে। সমাজে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ সামাজিক নিয়মকানুন মেনে চলে বিধায় সামাজিক ভারসাম্য বা সামাজিক সংহতি রক্ষা করা সম্ভব হয়। কিন্তু ব্যক্তি সব সময় সামাজিক নিয়মকানুন দ্বারা পরিচালিত হয় না বা যুক্তিযুক্তভাবে আচরণ করে না। ফলে সমাজ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আচরণ করতে বাধ্য করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এই দু'ভাবে হয়ে থাকে। পুলিশ, আদালত, জেলখানা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, সমিতি ও ক্লাব ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। আবার সামাজিক আদর্শ, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ঐতিহ্য পরোক্ষভাবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা পালন করে থাকে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যক্তির বহুবিদ বিচ্যুতিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া 'র' পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল, তাই মুরব্বি 'গ' তাকে ডেকে বললেন, এমন আচরণ ঠিক নয় এবং এটা সমাজ তোমার কাছে আশা করে না। যার মাধ্যমে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রকাশ পাচ্ছে আবার এর ফলে 'র' আর প্রকাশ্যে সিগারেট খায়নি অর্থাৎ, বিচ্যুতিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ঘটনা-২ সামাজিক নিয়ন্ত্রণকেই নির্দেশ করে যা সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
Related Question
View Allকমার্কসীয় তত্ত্বানুযায়ী শ্রেণির প্রকৃতি উৎপাদন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।
জনসাধারণের পেশা ভৌগোলিক প্রভাবে নির্ধারিত হয় এবং তা সমাজজীবনকে প্রভাবিত করে।
ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ পাট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। শীতলক্ষ্যার উপকূলে ডেমরা অঞ্চলে তাঁত শিল্প গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো যে, শীতলক্ষ্যার পানির প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া তাঁত-সুতার নমনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তাঁতিদের সুতিবস্ত্র বয়নে সুবিধা হয়। বাংলাদেশের সিলেটে ও আসামে গড়ে ওঠেছে চা শিল্প। এই শিল্পের মাধ্যমেও মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, আর এসব শিল্পের উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে 'ভৌগোলিক পরিবেশ'।
উদ্দীপকের শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কার্ল মার্কস বলেন, প্রতিটি মানবসমাজ দুটি বিবদমান শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি শ্রেণি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিক এবং অন্যটি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিকানা থেকে বঞ্চিত অর্থাৎ শ্রমিক শ্রেণি। ঠিক এমনিভাবে আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজকেও কার্ল মার্কস পুঁজিপতি ও সর্বহারা শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজিপতি শ্রেণি কর্তৃক শ্রমিক শ্রেণিকে অত্যধিক শোষণের ফলে এ সমাজে শ্রেণিসংগ্রাম তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ফলে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে - দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, জমির আলী যে গার্মেন্টসে কাজ করেন সেখানে শ্রমিকদের মজুরি খুবই কম। তাই জমির আলী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের ডাক দেন। জমির আলী ও শ্রমিকদের এই আন্দোলন কার্ল মার্কসের শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই বলা যায়, জমির আলী ও শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অপরাধ বিজ্ঞানের জনক এডউইন এইচ, সাদারল্যান্ড।
ক্রিয়াবাদের জনক ডুর্খেইম তার ক্রিয়াবাদের ব্যাখ্যায় সমাজকে জীবদেহের সাথে তুলনা করেন।
একটি জীব বা একজন ব্যক্তিমানুষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে এবং জীবদেহ বা ব্যক্তিমানুষকে সচল রাখার জন্য তার অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তাদের কর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করলেই ব্যক্তিমানুষ সচল থাকে। তেমনি সমাজেরও থাকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা অংশ। সমাজ সচল থাকে তখনই যখন সমাজের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠানসমূহ ও ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ কর্ম ও দায়িত্ব পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!