প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে সুশাসন ব্যাহত হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হিংসা, হানাহানি, মতের অনৈক্য ইত্যাদি সুশাসনের অন্তরায়।
রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করা অতীব জরুরি। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। আর তাই সুশাসনে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।
উদ্দীপকে সরকারের কাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যোগ্য নেতৃত্ব এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ গঠনজনিত পদক্ষেপের প্রতিফলন দেখা যায়। সঠিক দিকনির্দেশনাই জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব। দৃঢ়চেতা, নীতিবান ও সুদক্ষ নেতার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর জন্য বিশাল অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ সরকারপ্রধানের দক্ষতাকেই প্রমাণ করে যা সুশাসনেরও শর্ত। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দান করে। বিচার বিভাগের জন্য আলাদা জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠন করে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের মাধ্যমে আইনের শাসনের নিশ্চয়তা বিধান করা যায়। আর বিচার বিভাগকে স্বাধীনতাদানের ক্ষেত্রেও সরকারপ্রধানের নেতৃত্বের ভূমিকা রয়েছে। বস্তুত সুশাসনে - সরকারের সকল পদক্ষেপই জনকল্যাণে গৃহীত হয়ে থাকে।
টেকসই নেতৃত্ব ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে আরও অনেক উদ্যোগ নিতে হবে।
সুশাসনে সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে বিচার বিভাগের আইনগত কাঠামোকে দৃঢ়তর অবস্থাকে পৌছায় যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি মজবুত করে। তাছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরি। ভিন্নতায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। মনে রাখতে হবে যে, সুশাসন মানব উন্নয়নের লক্ষ্যে এমন এক ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে আইনের শাসন, নাগরিক মতামতের স্বাধীনতা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে জীবনমুখী, বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবায়ন ঘটে। রাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়। রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণপূর্বক দায়িত্বশীল সরকার জনকল্যাণ নিশ্চিত করে। অতএব, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে আরও উদ্যোগ নিতে হবে- কথাটি সঠিক ও যথার্থ।
Related Question
View AllকUNDP-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development
Programme |
সাধারণভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিতিশীল পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলা হয়। একটু ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার অভাবহেতু পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, কোন্দল এবং হানাহানি ও সহিংসতা দেখা দেয়, সেই পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সুশাসনের অন্তরায়।
ক' দেশটির উল্লিখিত সমস্যাগুলো সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের সামাজিক সমস্যার জন্ম হয়। এরূপ সামাজিক সমস্যা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন অধিক জনসংখ্যা একটি সামাজিক সমস্যা, কিন্তু এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, পরিবেশ বিপন্ন করে, সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে থাকে। অধিক জনসংখ্যা শিক্ষা বিস্তারে বাধার কারণ হয়। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, অপরাধপ্রবণতা বাড়ে অর্থাৎ একটি সমস্যা থেকে একাধিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। এসব মূলত সামাজিক সমস্যা হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি করে থাকে। যেকোনো দেশের জন্য এসব সমস্যা সুশাসনের অন্তরায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে এসব সমস্যা যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। আর সুশাসনের অন্তরায় দুঃশাসনকে টেনে আনে।
সুনাগরিকগণ একটি দেশের সর্বোত্তম সম্পদ। একটি দেশের অগ্রগতি, উন্নতি নির্ভর করে সুনাগরিকদের কাজের ওপর।
কোনোদেশের সরকারের একার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণ ও সরকার সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সমস্যা সমাধানেও নাগরিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোনো দেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান সরকার যত কার্যক্রমই গ্রহণ করুক না কেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। জনসংখ্য পরিকল্পনায় প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আবশ্যক। শিক্ষা বিস্তারে দেশের জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি নাগরিককে এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে দূরে, তাদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষাই উন্নতির সোপান, কথাগুলো শিক্ষা বঞ্চিতদেরকে বোঝাতে হবে।
সন্ত্রাস ও দুর্নীতি একটি দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজেরই অংশ। নাগরিকদের একটি অংশই এ কাজে যুক্ত থাকে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকেই সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি দূর করা খুবই সহজ কাজ। এ ব্যাপারে নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল, কাঠামোবদ্ধ ও আদর্শ এমন রূপকে সুশাসন বলা হয় যেখানে আইনের শাসন, নিরপেক্ষ, সংবেদনশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং কার্যকর শাসন পদ্ধতি চালু থাকবে।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। আইনের
শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন
প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও
রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন
নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!